শুক্রবার, ১২ই জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

৮ জুন ২০২৬, ১:০৪ পূর্বাহ্ণ

৪ মাসের বিদ্যুৎ বিল একসাথে পরিশোধের চাপ, ভুক্তভোগীদের আক্ষেপ এ তো মরার ওপর খাঁড়ার ঘা

আপডেট টাইম : জুন ৮, ২০২৬ ১:০৪ পূর্বাহ্ণ



শেয়ার করুন

এমরান আহমদ, বড়লেখা প্রতিনিধিঃ

মৌলভীবাজারের বড়লেখা উপজেলার দক্ষিণভাগ এলাকায় নিয়মিত বিদ্যুৎ বিলের কাগজ না পাওয়ায় প্রায় অর্ধশত গ্রাহক চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন। মাসের পর মাস বিলের কপি হাতে না পাওয়ায় সময়মতো তা পরিশোধ করা সম্ভব হয়নি। ফলে একদিকে যেমন বকেয়া বিলের পাহাড় জমছে, অন্যদিকে মোটা অঙ্কের জরিমানা ও সংযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ার আশঙ্কায় দিন কাটছে ভুক্তভোগী পরিবারগুলোর।

দক্ষিণভাগ এলাকার ৬৯২ নম্বর বইয়ের আওতাভুক্ত গ্রাহকেরা এই সমস্যায় পড়েছেন। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি, মার্চ, এপ্রিল এবং মে টানা চার মাস ধরে গ্রাহকেরা কোনো বিলের কাগজ পাননি। একসঙ্গে চার মাসের মোটা অঙ্কের বিল পরিশোধ করা মধ্যবিত্ত ও নিম্নবিত্ত পরিবারগুলোর জন্য কষ্টসাধ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর ওপর অতিরিক্ত জরিমানা যোগ হলে তা মরার ওপর খাঁড়ার ঘা হয়ে দাঁড়াবে বলে আশঙ্কা করছেন তারা।

ভুক্তভোগীদের পক্ষ থেকে গত ১৬ এপ্রিল ২০২৬ তারিখে মৌলভীবাজার পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির বড়লেখা জোনাল অফিসে একটি লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়। অভিযোগ পাওয়ার পর সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিলেও, বাস্তবে এখনো কোনো কার্যকর পদক্ষেপ দেখা যায়নি।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, দীর্ঘদিন ধরে বিলের কাগজ না পাওয়ায় আমরা জানতেও পারছি না কত টাকা বিল এসেছে। বারবার কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করা হলেও শুধু আশ্বাসই মিলছে, কাজের কাজ কিছুই হচ্ছে না। আমরা জরিমানা ও প্রশাসনিক হয়রানির ভয়ে আছি।

এই বিষয়ে বড়লেখা জোনাল অফিসের ডিজিএম মো. খায়রুল বাকী খান জানান, গ্রাহকদের লিখিত অভিযোগটি তারা পেয়েছেন। পুরো বিষয়টি তদন্ত করে খুব দ্রুত প্রয়োজনীয় ও কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

দক্ষিণভাগের সাধারণ মানুষ ও ভুক্তভোগী পরিবারগুলো বকেয়া বিলের ক্ষেত্রে একটি গ্রাহকবান্ধব সিদ্ধান্ত (যেমন: জরিমানা মওকুফ বা কিস্তির সুবিধা) চান। একই সাথে, এই গাফিলতির পেছনে দায়ীদের চিহ্নিত করে শাস্তির আওতায় আনা এবং ভবিষ্যতে প্রতি মাসে নির্ধারিত সময়ে বিলের কাগজ পৌঁছানো নিশ্চিত করতে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

শেয়ার করুন