5 February 2026, 6:30 PM
সিলেটের বাগবাড়িতে সমাজসেবা অধিদপ্তরের আঞ্চলিক প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের সম্মেলন কক্ষে সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে গণভোট বিষয়ে জনসাধারণকে অবহিতকরণ শীর্ষক এক মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে সিলেট বিভাগের বিভিন্ন পর্যায়ের সমাজসেবা কর্মকর্তারা অংশ নেন।
৫ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. মোহাম্মদ আবু ইউছুফ জানান, সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের আওতায় থাকা বিভিন্ন কর্মসূচির মাধ্যমে দেশের প্রায় দুই কোটি ভাতাভোগীর কাছে ইতোমধ্যে গণভোট ও জাতীয় সংসদ নির্বাচনের বার্তা পৌঁছে দেওয়া হয়েছে।
তিনি বলেন, ভাতাভোগী ও সেবাপ্রত্যাশীদের ভোটদানে উদ্বুদ্ধ করতে মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তা কর্মচারীরা সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন। প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয় থেকে সরবরাহ করা লিফলেটগুলো স্থানীয় ভাষায় সহজভাবে জনগণের কাছে উপস্থাপন করার নির্দেশ দেন তিনি।
সমাজকল্যাণ সচিব বলেন, খেটে খাওয়া মানুষ, কৃষক শ্রমিকসহ সাধারণ জনগণকে গণভোটে অংশগ্রহণের গুরুত্ব বোঝাতে হবে এবং গণভোটে হ্যাঁ কিংবা না ভোট দিলে কী ধরনের প্রভাব পড়বে তা স্পষ্টভাবে তুলে ধরতে হবে। অতীতের একনায়কতান্ত্রিক শাসনে কীভাবে মানুষের গণতান্ত্রিক ও মৌলিক অধিকার ক্ষুণ্ন হয়েছিল, সেটিও জনগণকে স্মরণ করিয়ে দেওয়ার কথা বলেন তিনি।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অপপ্রচার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট আয়োজনের সব প্রস্তুতি প্রায় সম্পন্ন এবং কোনো গুজব বা অপপ্রচারে এই প্রক্রিয়া ব্যাহত হবে না। তিনি বিভ্রান্তিকর তথ্যের বিরুদ্ধে সচেতন থাকার আহ্বান জানিয়ে সঠিক তথ্য মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়ার ওপর গুরুত্ব দেন।
ড. মোহাম্মদ আবু ইউছুফ বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানে যারা জীবন দিয়েছেন, তাদের আত্মত্যাগের প্রতি দায়বদ্ধতা থেকে জুলাই সনদের বাস্তবায়ন নিশ্চিত করা জরুরি। গণভোট সফল করার মধ্য দিয়েই সেই দায়বদ্ধতা পূরণ করা সম্ভব বলে তিনি মন্তব্য করেন।
তিনি আরও বলেন, ভোটের অধিকার ও মত প্রকাশের স্বাধীনতা রক্ষায় প্রত্যেক নাগরিকের সক্রিয় অংশগ্রহণ প্রয়োজন, আর সেই অংশগ্রহণ নিশ্চিত করাই এখন সবচেয়ে বড় দায়িত্ব।
সভায় সভাপতিত্ব করেন বিভাগীয় সমাজসেবা কার্যালয়ের পরিচালক মোহাম্মদ শহীদুল ইসলাম। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন সহকারী কমিশনার সারওয়ার মামুন চৌধুরী। এ সময় সিলেট বিভাগের চারটি জেলার সমাজসেবা কার্যালয়ের উপপরিচালকসহ বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
মানুষের হাতে যখন তথ্য পৌঁছে যায়, তখন সিদ্ধান্তও হয়ে ওঠে সচেতন, আর সেই সচেতন সিদ্ধান্তই একটি জাতির ভবিষ্যৎকে আলোর পথে এগিয়ে নেয়।