3 July 2026, 6:09 PM
জৈন্তাপুর প্রতিনিধি:ইমাম উদ্দিন
সিলেটের জৈন্তাপুর উপজেলার ১নং নিজপাট ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক মো. ইন্তাজ আলীকে ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া কথিত মাদক সেবনের ভিডিওকে কেন্দ্র করে বিতর্ক আরও গভীর হয়েছে। ভিডিওটির সত্যতা যাচাইয়ে জেলা প্রশাসকের নির্দেশে উপজেলা প্রশাসন পাঁচ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে।
এদিকে ভিডিওটি প্রকাশকারী হিসেবে পরিচিত ফয়জুল ইসলাম নতুন প্রকাশিত এক ভিডিও বার্তায় দাবি করেছেন, তিনি ভয়ে আত্মগোপনে রয়েছেন। তার অভিযোগ, ভিডিওটি এআই দিয়ে তৈরি বলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচার করতে তাকে হুমকি দেওয়া হয়েছে। তিনি আরও দাবি করেন,স্ত্রীকে কেন্দ্র করে চলমান পারিবারিক বিরোধের সালিশের জেরেই এ ঘটনার সূত্রপাত।
অন্যদিকে চেয়ারম্যান মো. ইন্তাজ আলী শুরু থেকেই দাবি করে আসছেন,ভাইরাল ভিডিওটি প্রযুক্তির অপব্যবহার করে তৈরি করা হয়েছে এবং তাকে রাজনৈতিক ও ব্যক্তিগতভাবে হেয় করার উদ্দেশ্যেই এটি প্রচার করা হয়েছে।
ফয়জুল ইসলামের নতুন ভিডিও বক্তব্যের বিষয়ে জানতে চাইলে চেয়ারম্যান মো. ইন্তাজ আলী বলেন,তাকে হুমকি দেওয়া বা কোনো ধরনের জোরজবরদস্তি করার প্রশ্নই আসে না। একটি মহল রাজনৈতিক ও সামাজিকভাবে আমাকে হেয় করার জন্য উঠে-পড়ে লেগেছে। বিষয়টি বর্তমানে তদন্তাধীন। তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত সত্য বেরিয়ে আসবে। তিনি নিজেকে সম্পূর্ণ নির্দোষ বলেও দাবি করেন।
এ বিষয়ে জৈন্তাপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সুনন্দা রায় বলেন,জেলা প্রশাসকের নির্দেশে উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তার নেতৃত্বে পাঁচ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তদন্ত প্রতিবেদন না পাওয়া পর্যন্ত এ বিষয়ে চূড়ান্ত কোনো মন্তব্য করা সম্ভব নয়।
তদন্ত কমিটির সদস্যরা হলেন- আহ্বায়ক: মো. অলিউর রহমান, সিনিয়র উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা, জৈন্তাপুর।
সদস্য: শ্যামল চন্দ্র দাস, উপজেলা আইসিটি অফিসার, মো. চাঁন মিয়া, পরিদর্শক, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর, জেলা কার্যালয়, সিলেট। মো. ওসমান গনি, পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত), জৈন্তাপুর মডেল থানা। ডা. সুজেয় চৌধুরী, মেডিকেল অফিসার, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, জৈন্তাপুর
উল্লেখ্য, গত ১ জুলাই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কয়েক সেকেন্ডের একটি মাদক সেবনের ভিডিও ভাইরাল হয়। ভিডিওটিতে থাকা ব্যক্তিদের একজন জৈন্তাপুরের নিজপাট ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. ইন্তাজ আলী বলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দাবি করা হয়। তবে ভিডিওটির সত্যতা বা এতে থাকা ব্যক্তির পরিচয় এখন পর্যন্ত কোনো সরকারি সংস্থা বা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেনি। বিষয়টি বর্তমানে প্রশাসনের তদন্তাধীন রয়েছে।