শুক্রবার, ১৭ই এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১০:৪৮ পূর্বাহ্ণ

জুলাই সনদের প্রতিটি অক্ষর শহিদদের রক্তের দায়মোচনের অঙ্গীকার: আলী রীয়াজ

আপডেট টাইম : ফেব্রুয়ারি ৩, ২০২৬ ১০:৪৮ পূর্বাহ্ণ



শেয়ার করুন

সিলেটে আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটকে কেন্দ্র করে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী অধ্যাপক ড. আলী রীয়াজ বলেছেন, জুলাই জাতীয় সনদের প্রতিটি অক্ষর কলমের কালো কালি দিয়ে নয়, বরং সকল শহিদের রক্ত দিয়ে লেখা। তিনি বলেন, শহিদদের সেই রক্তের দায়মোচন করতেই জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়নের বিষয়ে রাজনৈতিক দলগুলো ঐক্যমতে পৌঁছেছে এবং স্বাক্ষরের মাধ্যমে অঙ্গীকারবদ্ধ হয়েছে।

সোমবার সিলেটে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় অডিটোরিয়ামে অনুষ্ঠিত এই মতবিনিময় সভায় সভাপতির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। তিনি জানান, স্বৈরতান্ত্রিক ব্যবস্থার যাঁতাকলে যারা পিষ্ট হয়েছেন, অন্যায় ও অত্যাচারের বিরুদ্ধে দাঁড়িয়ে যারা প্রাণ দিয়েছেন, গুম, খুন, বিচারবহির্ভূত হত্যা এবং কারাবরণের শিকার হয়েছেন, তারা জাতির হাতে একটি গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব রেখে গেছেন। সেই দায়িত্ব হলো ভবিষ্যতের বাংলাদেশকে জবাবদিহিমূলক রাষ্ট্রব্যবস্থায় উন্নীত করার পথে এগিয়ে নেওয়া।

অধ্যাপক আলী রীয়াজ বলেন, বর্তমান সংবিধানে এমন কিছু দুর্বলতা রয়েছে, যার সুযোগ নিয়ে এক ব্যক্তির হাতে রাষ্ট্রক্ষমতা কুক্ষিগত হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়। তিনি বলেন, এই দুর্বলতা দূর করতেই জুলাই সনদ প্রণয়ন করা হয়েছে এবং জনগণের মতামত নিশ্চিত করতে গণভোটের আয়োজন করা হয়েছে। অন্তর্বর্তী সরকারের উদ্যোগে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে দীর্ঘ আলোচনা করে সনদ তৈরি হয়েছে, যেখানে সংবিধানে সুস্পষ্ট কিছু পরিবর্তনের প্রস্তাব রাখা হয়েছে। এসব পরিবর্তন বাস্তবায়িত হলে রাষ্ট্র একক ব্যক্তির কর্তৃত্ব থেকে বেরিয়ে আসতে পারবে বলে তিনি আশাবাদ প্রকাশ করেন।

রাষ্ট্রপতির ক্ষমা প্রদানের ক্ষমতা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বিদ্যমান সংবিধান অনুযায়ী অধঃস্তন আদালত থেকে সর্বোচ্চ আদালতে দণ্ডিত ব্যক্তিকেও রাষ্ট্রপতি ক্ষমা করতে পারেন, যা অতীতে ভয়াবহভাবে অপব্যবহার হয়েছে। তিনি বলেন, বাস্তবে এই ক্ষমা প্রধানমন্ত্রীর ইচ্ছায় কার্যকর হওয়ার নজির রয়েছে। এ ধরনের পরিস্থিতি বন্ধ করতে জুলাই সনদে একটি কমিটি গঠনের প্রস্তাব রাখা হয়েছে। পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সম্মতি ছাড়া কাউকে ক্ষমা না দেওয়ার বিধান অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে, যা বাস্তবায়নের জন্য গণভোটে জনগণের সম্মতি প্রয়োজন হবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

নির্বাচন ব্যবস্থার সংস্কারের বিষয়ে তিনি বলেন, সংবিধানে নির্বাচন কমিশনার নিয়োগে রাষ্ট্রপতির ভূমিকা থাকলেও বাস্তবে এককভাবে প্রধানমন্ত্রীর ইচ্ছায় কমিশন গঠনের নজির রয়েছে। ভবিষ্যতে এমন অনিয়ম ঠেকাতে রাজনৈতিক দলগুলো এক ব্যক্তির প্রধানমন্ত্রীত্বের মেয়াদ সর্বোচ্চ ১০ বছরে সীমিত করার বিষয়ে একমত হয়েছে বলেও তিনি জানান। গণভোটে ইতিবাচক ফলাফলের মাধ্যমে এসব সংস্কার বাস্তবায়ন সম্ভব হবে বলে তিনি মন্তব্য করেন।

সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ এম সরওয়ারউদ্দিন চৌধুরী, সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. আলীমূল ইসলাম, সুনামগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. নিজাম উদ্দিন এবং হবিগঞ্জ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. সায়েম উদ্দিন আহমেদ। মতবিনিময় সভায় সিলেট বিভাগের বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিনিধি, শিক্ষক শিক্ষার্থী এবং গণমাধ্যমকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

শেষ পর্যন্ত অধ্যাপক আলী রীয়াজ বলেন, শহিদদের আত্মত্যাগ শুধু স্মরণ করার বিষয় নয়, বরং সেই আত্মত্যাগের মর্যাদা রক্ষা করে রাষ্ট্রকে জবাবদিহির পথে নেওয়াই হবে জাতির প্রকৃত দায়িত্ব, আর এই দায়বদ্ধতাই ভবিষ্যৎ বাংলাদেশকে নতুন করে গড়ে তুলবে।

শেয়ার করুন