২ ডিসেম্বর ২০২৫, ১২:১৪ পূর্বাহ্ণ
সিভিল সার্জন কার্যালয়, সিলেট-এর উদ্যোগে বিশ্ব এইডস দিবস-২০২৫ উপলক্ষে “সব বাধা দূর করি — এইচআইভি মুক্ত সমাজ গড়ি” প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে র্যালি ও সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়েছে।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ডা. মো. নাসির উদ্দিন।প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিভাগীয় পরিচালক (স্বাস্থ্য) কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক ডা. মো. নূরে আলম শামীম।বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ডেপুটি সিভিল সার্জন ডা. জন্মেজয় দত্ত এবং বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার বিভাগীয় কোঅর্ডিনেটর ডা. খালেদ বিন লুৎফর।
এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন সিভিল সার্জন কার্যালয় ও বিভাগীয় পরিচালক (স্বাস্থ্য) কার্যালয়ের মেডিকেল অফিসারবৃন্দ, পুলিশ সুপার কার্যালয় ও পুলিশ কমিশনার কার্যালয়ের প্রতিনিধি, আহছানিয়া মিশন ও বন্ধু সমাজ কল্যাণ সংস্থার প্রতিনিধি এবং তাদের স্বেচ্ছাসেবকবৃন্দ।
সকাল ১০টায় বর্ণাঢ্য র্যালির মাধ্যমে কর্মসূচির সূচনা করা হয়। র্যালি শেষে সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়।
সেমিনারে বক্তারা বলেন —
এইডস প্রতিরোধের সর্বোচ্চ শক্তি হলো সচেতনতা, নিরাপদ আচরণ ও বৈষম্যহীন স্বাস্থ্যসেবা গ্রহণ। সময়মতো পরীক্ষা ও চিকিৎসা গ্রহণ করলে রোগের জটিলতা সহজেই নিয়ন্ত্রণে রাখা যায়।
জাতীয় যক্ষ্মা নিয়ন্ত্রণ কর্মসূচির মেডিকেল অফিসার ডা. আবির হোসাইন সিলেট বিভাগের এইডস পরিস্থিতির পরিসংখ্যান তুলে ধরেন এবং উল্লেখ করেন —নিয়মিত ART গ্রহণ করলে একজন এইচআইভি আক্রান্ত ব্যক্তি দীর্ঘদিন সুস্থ ও কর্মক্ষম জীবনযাপন করতে পারেন।
ডেপুটি সিভিল সার্জন ডা. জন্মেজয় দত্ত বলেন —
“ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীকে স্বাস্থ্যসেবার আওতায় আনতে হবে এবং পরিবার ও সমাজের সকল স্তরে সচেতনতা ছড়িয়ে দিতে হবে। এইচআইভি প্রতিরোধে জ্ঞানের আলো ছড়িয়ে দেওয়াই সবচেয়ে বড় কাজ।”
সভাপতি সিলেটের সিভিল সার্জন ডা. মো. নাসির উদ্দিন তাঁর বক্তব্যে বলেন —
“এইচআইভি সম্পর্কে ভুল ধারণা ও সামাজিক কুসংস্কার দূর করে মানবিক সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। সমন্বিত উদ্যোগ ও দায়িত্বশীলতার মাধ্যমেই আমরা একটি সহমর্মিতার সমাজ গড়ে তুলতে পারবো।”
প্রধান অতিথি ডা. মো. নূরে আলম শামীম বলেন —
“জনগণের সচেতনতা, সহজলভ্য চিকিৎসা এবং সঠিক পরামর্শ নিশ্চিত করা গেলে বাংলাদেশ এইচআইভি নিয়ন্ত্রণে একটি সফল উদাহরণ হয়ে দাঁড়াবে।”
অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন সিভিল সার্জন কার্যালয়ের মেডিকেল অফিসার ডা. আবু সালমান মো: সাইফুল ইসলাম।
অনুষ্ঠান শেষে ডেংগুসহ অন্যান্য বাহক-জনিত রোগ প্রতিরোধে নিয়মিত কর্মসূচির অংশ হিসেবে সিভিল সার্জন কার্যালয় প্রাঙ্গণে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়। এ সময় জমে থাকা পানি অপসারণ, আবর্জনা পরিষ্কার এবং সম্ভাব্য মশার প্রজননস্থল ধ্বংসের পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়।