বুধবার, ৩রা জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

২২ এপ্রিল ২০২২, ৯:০০ অপরাহ্ণ

দোয়ারাবাজারে বক্তারপুর-বোগলা সড়কজুড়ে কাদা, দুর্ভোগে ২০ গ্রামের মানুষ

আপডেট টাইম : এপ্রিল ২২, ২০২২ ৯:০০ অপরাহ্ণ



শেয়ার করুন

আলোকিত সিলেট ডেস্ক :: সুনামগঞ্জের দোয়ারাবাজার উপজেলার লক্ষীপুর ইউনিয়নের বক্তারপুর থেকে বোগলাবাজার ইউনিয়নের নোয়াডর পর্যন্ত প্রায় তিন কিলোমিটার রাস্তাজুড়ে কাদায় ভরপুর। স্বাধীনতার ৫০ বছরেও ওই রাস্তাটি পাকাকরণ হয়নি। এতে চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন ওই দুই ইউনিয়নের অর্ধলাখ মানুষ।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, বক্তারপুর খেয়াঘাট থেকে নোয়াডর গ্রামের জসিম মাস্টারের বাড়ি পর্যন্ত প্রায় তিন কিলোমিটার রাস্তার অধিকাংশ স্থানে কাদাপানিতে পরিপূর্ণ। ওই রাস্তায় মোটরসাইকেল, সিএনজি ও অটোরিকশা ছাড়া অন্য যানবাহন চলাচল করে না। গাড়ির চাকা কাদায় দেবে গেলে যাত্রী-চালকরা সবাই মিলে ঠেলা-ধাক্কা দিয়ে রাস্তা এগুচ্ছেন।

স্থানীয়রা জানান, ওই সড়কটি ভারতের সীমান্তঘেষা। সীমান্তের ২০ গ্রামের সহস্রাধিক শিক্ষার্থী পার্শ্ববর্তী লিয়াকতগঞ্জ স্কুল অ্যান্ড কলেজ, ক্যাপ্টেন হেলাল খসরু উচ্চ বিদ্যালয়, বোগলা রোসমত আলী-রামসুন্দর স্কুল অ্যান্ড কলেজ, কাঁঠালবাড়ি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, বক্তারপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও পেস্কারগাও দাখিল মাদ্রাসায় অধ্যয়ণরত।

শুকনো মৌসুমে ধুলাবালি আর বর্ষায় কাদামাটি মাড়িয়ে যাতায়াত করতে হয়। বিকল্প সড়ক না থাকায় স্থানীয় ব্যবসায়ীদের মালামাল পরিবহন ব্যয়বহুল হয়ে উঠেছে। কাঁচা রাস্তায় পিচ্ছিল হওয়ায় প্রায়ই দুর্ঘটনা ঘটছে। প্রতিবছর সামান্য মাটি ভরাট ছাড়া কোনো দৃশ্যমান উন্নয়ন হয়নি ওই রাস্তায়। নেতাদের শুধু দায়সারা আশ্বাসেই সীমাবদ্ধ, তাই রাস্তা আর পাকা হয়না।

বাঘমারা গ্রামের বাসিন্দা আবুল কাশেম ও জাকির হোসেন বলেন, ‘বর্ষা মৌসুমে গাড়ি চলা তো দূরের কথা পায়ে হেটেও পথ অতিক্রম করা ঝুঁকিপূর্ণ।উন্নত চিকিৎসায় জরুরি রোগি নিয়ে যেতে হিমশিম খেতে হয়। কৃষকরা তাদের উৎপাদিত ফসল বাজারজাত করতেও পারছেন না।’

বোগলাবাজার ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ মিলন খান বলেন, ‘এই রাস্তার অবস্থা খুবই খারাপ। এ ব্যাপারে আগে আমি একটি প্রস্তাবনা পাঠিয়েছি। আবারও এমপি মহোদয় ও এলজিইডির কর্মকর্তাদের সাথে আলাপ করব যাতে অন্তত এক কিলোমিটার রাস্তা দ্রুত পাকাকরণ করা যায়। তবে পুরো রাস্তাটি পাকাকরণ জরুরি।’

এলজিইডি দোয়ারাবাজারের উপসহকারী প্রকৌশলী সাদিরুল ইসলাম বলেন, ‘স্থানীয় পর্যায়ের রাস্তা পাকাকরণ দীর্ঘ সময়ের ব্যাপার। প্রতিবছর ঢাকা থেকে একটা প্রজেক্ট হয়। তাঁরা স্কিম চায়, আমরা স্কিম পাঠাই। তাঁরপর এটা মন্ত্রণালয়ে পাস হয়। এরপর আমরা মাঠ পর্যায়ে জরিপ করি। এভাবে পর্যায়ক্রমে কাজ শুরু হয়। অন্তত দুই বছর আগ থেকে একটা কাজের প্রসেসিং চলে। বক্তারপুর-বোগলা রাস্তাটি ওই স্কিমের অন্তর্ভুক্ত। অনুমোদন পেলে এটি পাকাকরণ করা হবে।’

 

 

 

শেয়ার করুন