রবিবার, ১১ই জানুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

২৮ আগস্ট ২০২৫, ৮:১৫ অপরাহ্ণ

সিলেটে “সম্ভাবনাময় আন্তর্জাতিক শ্রম বাজার এবং শ্রমিকদের দক্ষতা অর্জনের গুরুত্ব” শীর্ষক সেমিনার অনুষ্ঠিত

আপডেট টাইম : আগস্ট ২৮, ২০২৫ ৮:১৫ অপরাহ্ণ



শেয়ার করুন

“সম্ভাবনাময় আন্তর্জাতিক শ্রম বাজার এবং শ্রমিকদের দক্ষতা অর্জনের গুরুত্ব” বিষয়ক একটি গুরুত্বপূর্ণ সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়েছে। বুধবার (২৭ আগস্ট) সিলেট নগরীর লামাবাজারে অবস্থিত একটি অভিজাত রেস্টুরেন্টের হলরুমে লন্ডন স্কুল অব এক্সিলেন্সের আয়োজনে এই সেমিনারটি অনুষ্ঠিত হয়।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ফুড ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড টি টেকনোলজি বিভাগের প্রফেসর ড. মো. মোজাম্মেল হক বলেন, আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারে আমাদের দেশের অবস্থান শক্তিশালী করতে হলে কেবল পাসপোর্ট আর ইচ্ছা থাকলেই চলবে না-প্রয়োজন প্রমাণযোগ্য দক্ষতা। আধুনিক বিশ্বের চাকরিদাতারা এখন স্কিলভিত্তিক নিয়োগ দিচ্ছেন।
তিনি আরও বলেন, প্রযুক্তিগত দক্ষতা, যোগাযোগ দক্ষতা, এবং পেশাগত শুদ্ধতা—এই তিনটি বিষয়ের ওপর গুরুত্ব দিলে আমাদের তরুণরা বিদেশে ভালো চাকরি পাওয়ার লড়াইয়ে এগিয়ে যাবে। বিশেষ করে সিপিডি সার্টিফিকেশন আন্তর্জাতিক অঙ্গনে প্রতিযোগিতামূলক হওয়ার এক অনন্য হাতিয়ার।
তিনি আরও বলেন, আধুনিক বিশ্বে টিকে থাকতে হলে কেবল প্রথাগত শিক্ষা যথেষ্ট নয়— প্রয়োজন বাস্তবভিত্তিক দক্ষতা। আন্তর্জাতিক শ্রমবাজার দিন দিন আরও প্রতিযোগিতামূলক হয়ে উঠছে। যেখানে শুধু সার্টিফিকেট নয়, কাজের বাস্তব অভিজ্ঞতা ও নির্দিষ্ট স্কিল সেটই নিয়োগের প্রধান মানদণ্ড হয়ে দাঁড়িয়েছে।
তিনি আরও বলেন, বর্তমানে বিশ্বের বহু উন্নত দেশে বাংলাদেশি শ্রমিকদের চাহিদা রয়েছে, তবে আমাদের শ্রমিকদের একটি বড় অংশ দক্ষতার ঘাটতির কারণে সেই সুযোগগুলো পুরোপুরি কাজে লাগাতে পারছেন না। এটি শুধুমাত্র তাদের ব্যক্তিগত ক্ষতিই নয়, বরং দেশের অর্থনীতির জন্যও একটি বড় ক্ষতি।
দক্ষতা সার্টিফিকেশন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সিপিডি সার্টিফিকেশন এখন আন্তর্জাতিক মানদণ্ডে স্বীকৃত একটি প্রশিক্ষণ ও যোগ্যতার প্রমাণ। এই সার্টিফিকেট কেবল দক্ষতা অর্জনের নিশ্চয়তা দেয় না, বরং বৈশ্বিক চাকরির বাজারে একজন চাকরিপ্রার্থীকে অন্যদের চেয়ে একধাপ এগিয়ে রাখে।
শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, তোমরা যদি সত্যিই বিদেশে কাজ করতে চাও বা আন্তর্জাতিক মানে নিজের ক্যারিয়ার গড়তে চাও, তাহলে এখনই সময় প্রস্তুতি নেওয়ার। শুধু ভাষা বা ডিগ্রি নয়, তোমাকে জানতে হবে আধুনিক প্রযুক্তি, সফট স্কিলস, লিডারশিপ, এবং পেশাগত নৈতিকতা সম্পর্কে। এসবই তোমার চাকরি পাওয়ার সম্ভাবনা বাড়াবে।
তিনি আয়োজকদের ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, এ ধরনের আয়োজন আমাদের তরুণদের চোখ খুলে দেয়। তাদের মধ্যে আত্মবিশ্বাস তৈরি করে। আমি আশা করি, ভবিষ্যতেও লন্ডন স্কুল অব এক্সিলেন্স এ ধরনের গঠনমূলক উদ্যোগ গ্রহণ করবে এবং আরও বৃহৎ পরিসরে কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করবে।
বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন লিডিং ইউনিভার্সিটির ব্যবসা প্রশাসন বিভাগের বিভাগীয় প্রধান ড. মো. শাহানশা মোল্লা বলেন, শুধু সনদ বা CGPA নয়, বাস্তব দক্ষতা ও কাজের অভিজ্ঞতা এখন নিয়োগের মূল মানদণ্ড। তরুণদের উচিত নিজের কমফোর্ট জোন থেকে বেরিয়ে গ্লোবাল মার্কেটের জন্য নিজেকে প্রস্তুত করা। লিডিং ইউনিভার্সিটির ব্যবসায় প্রশাসন বিভাগের সহকারী অধ্যাপক আনোয়ার আহমেদ আরিফ।
সিপিডি অ্যাক্রিডিটেশন সম্পর্কে স্কলার্সহোম মেজরটিলা কলেজের লেকচারার ও ক্যারিয়ার কাউন্সেলর হাসান শাহরিয়ার মজুমদার বলেন, এটি শুধু একটি প্রশিক্ষণ নয়, বরং আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারে দক্ষতার প্রমাণপত্র। ইউরোপ, মধ্যপ্রাচ্য বা কানাডার মতো দেশগুলো এখন এই ধরনের সার্টিফিকেশনকে বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে। লন্ডন স্কুল অব এক্সিলেন্সের সিনিয়র ক্যারিয়ার অ্যাডভাইজার আমিমুল আহসান তানিম বলেন, আমরা যারা বিদেশে কাজ করতে আগ্রহী, তাদের মধ্যে একটা বড় অংশ জানেই না কীভাবে প্রস্তুতি নিতে হয়। তাই আমাদের টার্গেট হচ্ছে: কাউন্সেলিং, স্কিল ডেভেলপমেন্ট ও সার্টিফিকেশন—এই তিন স্তরের মাধ্যমে প্রস্তুত করা।
সিলেট অফিসের ম্যানেজার মামুন আহমেদ জানান, আমরা চাই তরুণরা শুধু স্বপ্ন দেখবে না, সেই স্বপ্ন পূরণের দিকেও এগিয়ে যাবে। দক্ষতা ছাড়া এখন আর আন্তর্জাতিক চাকরির বাজারে জায়গা পাওয়া সম্ভব নয়।
সেমিনারে অংশগ্রহণকারী সকলের জন্য লন্ডন স্কুল অব এক্সিলেন্সের পক্ষ থেকে সিপিডি কোর্সে ৪০% ছাড়ের বিশেষ অফার ঘোষণা করা হয়। আয়োজক প্রতিষ্ঠানটি ভবিষ্যতে আরও আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন কোর্স চালু করার প্রতিশ্রুতি দেয়।
সেমিনারে উপস্থিত ছিলেন বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীসহ নানা শ্রেনী পেশার মানুষ। সেমিনারটি স্থানীয় তরুণ-তরুণীদের মধ্যে ব্যাপক সাড়া ফেলে এবং আন্তর্জাতিক কর্মসংস্থানের জন্য প্রয়োজনীয় প্রস্তুতির গুরুত্ব সম্পর্কে সচেতনতা বাড়াতে সহায়ক ভূমিকা রাখে।

শেয়ার করুন