শনিবার, ১৮ই এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

১ আগস্ট ২০২৫, ১০:৩৫ অপরাহ্ণ

মেট্রোরেল পিলারে জুলাই আর্ট ওয়ার্ক: ইতিহাস ও প্রতিরোধের চিত্রকথা

আপডেট টাইম : আগস্ট ১, ২০২৫ ১০:৩৫ অপরাহ্ণ



শেয়ার করুন

ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের সার্বিক সহযোগিতায় আগারগাঁও থেকে কারওয়ান বাজার মেট্রোরেল পিলারে অঙ্কিত গ্রাফিতি শিল্পকর্ম “জুলাই আর্ট ওয়ার্ক”-এর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া। ঢাকার আগারগাঁও মেট্রোরেল স্টেশনের নিচে ১ আগস্ট ২০২৫ তারিখে অনুষ্ঠিত এই উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক মোহাম্মদ এজাজ।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া বলেন, এই গ্রাফিতিগুলো আওয়ামী স্বৈরশাসনের ভয়াল দিনগুলো এবং জনগণের সাহসী প্রতিরোধের ইতিহাস বারবার স্মরণ করিয়ে দেবে। তিনি উল্লেখ করেন, ভবিষ্যতে বাংলাদেশে যেন আর কোনো স্বৈরাচার মাথাচাড়া দিয়ে উঠতে না পারে, সে লক্ষ্যে এসব গ্রাফিতি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। সভাপতির বক্তব্যে মোহাম্মদ এজাজ বলেন, ফ্যাসিবাদ ইস্যুতে জাতীয় ঐক্য ধরে রাখার বিষয়টি মাথায় রেখেই এই গ্রাফিতি কার্যক্রম পরিচালিত হয়েছে। গত ১৫ বছরের ফ্যাসিবাদী শাসনের উত্থান এবং তার পতনের ইতিহাস তুলে ধরাই ছিল এই আয়োজনের মূল উদ্দেশ্য। তিনি যোগ করেন, গত একবছরে অনেক রং ফিকে হয়ে গেলেও জুলাইয়ের চেতনা আজও অমলিন।

“দেয়ালের ভাষা: স্মৃতি, প্রতিরোধ ও জনতার ইতিহাস” এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে অঙ্কিত জুলাই আর্ট ওয়ার্কে ২০২৪ সালের ঐতিহাসিক জুলাই ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থান এবং ফ্যাসিবাদী শাসনের বিরুদ্ধে গড়ে ওঠা সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক প্রতিরোধের শক্তিশালী চিত্রমালা উপস্থাপন করা হয়েছে। দেয়ালচিত্রগুলোর মাধ্যমে ২০০৯ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশের রাজনৈতিক দমন-পীড়নের ভয়াবহ অধ্যায় এবং ২০২৪ সালের ৩৬ দিনের জুলাই গণঅভ্যুত্থানের নানা দৃশ্য—মিছিল, সংঘর্ষ, গ্রেপ্তার, আত্মত্যাগ—চিত্রিত হয়েছে। গুম, হত্যা, ভোট ডাকাতি, শিক্ষাব্যবস্থার ধ্বংস ও নাগরিক অধিকারের হরণের মতো বাস্তবতাগুলো রং ও রেখার প্রতিটি আঁচড়ে ফুটে উঠেছে। শহিদ আবরার ও ফেলানির মুখাবয়ব এই স্মৃতিকে শুধু আবেগ নয়, রাজনৈতিক সংগ্রামের অস্ত্র হিসেবে তুলে ধরে।

এই গ্রাফিতি কার্যক্রমকে বিশ্লেষকরা বিশ্বব্যাপী জনগণের প্রতিরোধশিল্পের ধারাবাহিকতায় একটি আধুনিক সংযোজন হিসেবে দেখছেন। দক্ষিণ আমেরিকার স্বৈরশাসন বিরোধী আন্দোলন, ফিলিস্তিনের দেওয়ালে প্রতিবাদচিত্র, যুক্তরাষ্ট্রে ব্ল্যাক লাইভস ম্যাটার কিংবা মায়ানমারে জান্তা-বিরোধী বিক্ষোভের মতো এই দেয়ালচিত্রও বাংলাদেশের জনগণের প্রতিরোধের প্রতীকে পরিণত হয়েছে। ঢাকার মেট্রোরেল পিলারগুলো, যা এতদিন উন্নয়নের প্রতীক ছিল, তা আজ বিকল্প ইতিহাসের ক্যানভাসে রূপ নিয়েছে। ছাত্রজনতা ও নাগরিক সমাজ নিজেদের শিল্পী, লেখক ও ইতিহাস-নির্মাতা হিসেবে এই দেয়ালে প্রকাশ করেছে। এটি কেবল গ্রাফিতির প্রদর্শনী নয়, বরং একটি সামাজিক, রাজনৈতিক এবং নান্দনিক আন্দোলনের প্রামাণ্য দলিল।

শেয়ার করুন