১৪ জুলাই ২০২৫, ৭:৪৬ অপরাহ্ণ
স্টাফ রিপোর্টার: সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুর উপজেলায় দাওরাই গ্রামের তৎকালীন আওয়ামী লীগের সন্ত্রাসী প্রতাপ খান ও তার সহযোগী রাসেল মিয়াকে জেলা জজ কোর্টে জামিন না দিয়ে জেল হাজতে প্রেরণ করা হয়েছে। গত ১৩ জুলাই রোববার বিচারক তাদের জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে এই আদেশ দেন।
এই আদেশের পেছনে মূল অভিযোগ উঠেছে দাওরাই গ্রামের হাবিবুর রহমানের। তিনি অভিযোগ করেন যে, প্রতাপ খান (৪৪), তার পিতা মৃত আওলাদ খা, সাং দাওরাই, থানা জগন্নাথপুর, জেলা সুনামগঞ্জ, এবং রাসেল মিয়া তাদের গ্যাং নিয়ে তাঁকে নৃশংসভাবে আহত করে। এছাড়াও দেশীয় অস্ত্রের মুখে টাকা ও মোবাইল ফোন চাঁদা আদায়েরও অভিযোগ করেন ভুক্তভোগী হাবিবুর রহমান।
প্রতাপ খানের বিরুদ্ধে আরও গুরুতর অভিযোগ রয়েছে দাওরাই জামে মসজিদ দখল নিয়ে। এলাকাবাসীর দাবি, প্রায় ১৫-১৬ বছর ধরে প্রতাপ খান ও তার গ্যাং (রাসেল, সুহেলসহ কয়েকজন) স্বৈরাচারী প্রবৃত্তিতে মসজিদটি দখল করে রেখেছে। মসজিদের দীর্ঘদিনের আয়-ব্যয়ের হিসাব চেয়ে এলাকাবাসী যখন ইউএনও এর কাছে আবেদন করে, তখনই প্রতাপ খান ও তার গ্যাং হাবিবুর রহমানকে দিনদুপুরে রাস্তায় হামলা করে আহত করে ও চাঁদা আদায় করে।
প্রতাপ খান বর্তমানে আশারকান্দি ইউনিয়নের ৪ নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সেক্রেটারির দায়িত্বে রয়েছেন। তিনি জগন্নাথপুর উপজেলা যুবলীগের সাবেক সদস্য এবং আশারকান্দি ইউনিয়ন যুবলীগের সাবেক যুগ্ম আহ্বায়কও ছিলেন।
জগন্নাথপুর থানা পুলিশের রেকর্ডে প্রতাপ খানের বিরুদ্ধে একাধিক মামলা নথিভুক্ত রয়েছে: ১) মামলা নং-০৬ (তারিখ: ০৫/০৯/২০১১), ধারা: ১৪৩/৩৪১/৩২৩/৩২৪/৩২৬/৩০৭/৩৮৫/৫০৬/৩৪, দণ্ডবিধি-১৮৬০। ২) মামলা নং-১৫ (তারিখ: ২৩/০৫/২০১২), ধারা: ১৪৩/১৪৪/১৪৯/৩৪১/৩৮২/৩২৩/৩২৪/৩২৫/৩২৬/৩০৭/৫০৬/১১৪, দণ্ডবিধি-১৮৬০। ৩) মামলা নং-১১ (তারিখ: ১৯/০৫/২০১২), ধারা: ১৯(ক) ১৮৭৮ সালের অস্ত্র আইন। ৪) মামলা নং-১৪ (তারিখ: ১৩/০৪/২০১২), ধারা: ১৪৩/১৪৪/১৪৯/৪৪৮/৩৮৫/৪৪৭/৩৭৯/৫০৬, দণ্ডবিধি-১৮৬০। ৫) মামলা নং-১১ (তারিখ: ০৯/০২/২০১২), ধারা: ১৪৩/১৪৪/১৪৯/৪৪৮/৩৮২/৩৮৫/৩৮৬/৫০৬, দণ্ডবিধি-১৮৬০। ৬) মামলা নং-১১ (তারিখ: ১৭/১২/২০১৪), ধারা: ৩৯৯/৪০২, দণ্ডবিধি-১৮৬০। ৭) জিডি নং-৭৬৮ (তারিখ: ১৭/০১/২০২২)। ৮) মামলা নং-০৫ (তারিখ: ০৪/০৫/২০২৫), ধারা: ১৪৩/৩৪১/৩২৩/৩২৪/৩২৫/৩২৬/৩০৭/৩৮২/৫০৬/১১৪/৩৪, দণ্ডবিধি-১৮৬০। এই সমস্ত মামলা এবং দাওরাই এলাকায় তার বিরুদ্ধে উত্থাপিত দখল ও চাঁদাবাজির অভিযোগের প্রেক্ষাপটেই আদালত প্রতাপ খান ও রাসেল মিয়াকে জামিন না দিয়ে কারাগারে পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। আইনি প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।