২৭ আগস্ট ২০২৫, ১২:৫৯ পূর্বাহ্ণ
সিলেটের সাদাপাথর পর্যটন স্পটে পাথর লুটের ঘটনায় গঠিত মন্ত্রীপরিষদ বিভাগের তদন্ত কমিটি মঙ্গলবার সকালে সাদাপাথর এলাকা পরিদর্শন করে। সমন্বয় ও সংস্কার বিভাগের সচিব জাহেদা পারভীনের নেতৃত্বে পাঁচ সদস্যের দলটি প্রথমে রেলওয়ে বাঙ্কার এলাকা পরিদর্শন করেন এবং পরে সাদাপাথর ঘুরে দেখেন। তারা স্থানীয় লোকজন, ব্যবসায়ী ও সংশ্লিষ্টদের সাথে কথা বলেন। এ সময় সিলেটের অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনারসহ বিভাগীয় ও জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
গত ২০ আগস্ট মন্ত্রীপরিষদ বিভাগের তদন্ত কমিটি গঠিত হয়। কমিটিতে সমন্বয় ও সংস্কার বিভাগের সচিব জাহেদা পারভীন ছাড়াও জ্বালানি ও খনিজসম্পদ মন্ত্রণালয়, বন ও পরিবেশ মন্ত্রণালয়, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় এবং জননিরাপত্তা বিভাগের অতিরিক্ত সচিব অন্তর্ভুক্ত আছেন। কমিটি ১০ কর্মদিবসের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন পেশ করবে।
অন্যদিকে, পাথর ফেরত দিতে জেলা প্রশাসনের তিন দিনের আল্টিমেটাম সোমবার শেষ হয়েছে। প্রশাসনের বিভিন্ন সুত্র অনুযায়ী, এ পর্যন্ত লুট হওয়া ২৫ লাখ ঘনফুট পাথরের মধ্যে ৬ লাখ ঘনফুট পাথর উদ্ধার ও প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। ভোলাগঞ্জের ১০ নং ঘাট এলাকায় আরও ৭ লাখ ঘনফুট পাথর প্রতিস্থাপনের জন্য প্রস্তুত রাখা হয়েছে। জেলা প্রশাসক মো. সারওয়ার আলম জানান, পর্যায়ক্রমে উদ্ধারকৃত পাথরগুলো সাদাপাথর পর্যটন স্পটে প্রতিস্থাপন করা হবে।
গত বছরের ৫ আগস্ট সরকার পরিবর্তনের পর থেকে সাদাপাথরে ব্যাপক লুটপাট শুরু হয়। চলতি আগস্টে পাথরহীন সাদাপাথরের ছবি ও ভিডিও ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়লে দেশজুড়ে ব্যাপক সমালোচনা সৃষ্টি হয়, যা প্রশাসনকে নড়েচড়ে বসতে বাধ্য করে। গত ১৩ আগস্ট দুদকের সিলেট কার্যালয়ের উপ-পরিচালক রাফি মো. নাজমুস সাদাতের নেতৃত্বে একটি টিম সাদাপাথর পরিদর্শন করে এবং ১৬ আগস্ট উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেয়। প্রতিবেদনে সাদাপাথর লুটে বিভিন্ন সরকারি প্রতিষ্ঠান, ব্যক্তি ও বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতা মিলিয়ে ৫৩ জনের সম্পৃক্ততা পাওয়া গেছে বলে জানানো হয়। এছাড়াও, পাথর আত্মসাতের ঘটনায় স্থানীয় প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট অন্যান্য সংস্থার নিষ্ক্রিয়তা ও যোগসাজশের অভিযোগ উঠে আসে।
সাদাপাথর লুটের ঘটনায় ইতিমধ্যে সিলেটের জেলা প্রশাসক শের মাহবুব মুরাদকে ওএসডি এবং কোম্পানীগঞ্জের ইউএনও আজিজুন্নাহারকে বদলি করা হয়েছে। গত ১৭ আগস্ট পরিবেশ উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান এ ঘটনায় প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে মন্তব্য করেন, “এখানে যে রাজনৈতিক ঐক্য গড়ে উঠেছে, এর বিপরীতে প্রশাসনের হয় যোগসাজশ করেছে, নতুবা নীরব থেকেছে অথবা দুটোই ঘটেছে। এজন্য প্রশাসনের বিরুদ্ধে আমরা ব্যবস্থা নেব এবং দ্রুতই নেব।”