২০ এপ্রিল ২০২৫, ৮:৩৬ অপরাহ্ণ
মাহফুজ কাউসার ছাদি: সিলেটে এ্যাডভোকেট সাজেদ আহমদ চৌধুরীর ছেলে তুষার আহমেদ চৌধুরী (২১) হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় জড়িত সন্দেহে মূল আসামি পারভেজসহ দুইজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। গত ১৫ এপ্রিল রাত আনুমানিক ৭টা ৪০ মিনিটে এয়ারপোর্ট থানার দলদলি চা বাগান সংলগ্ন রাস্তায় এ হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়।
ঘটনার খবর পাওয়া মাত্রই তদন্তে নামে এয়ারপোর্ট থানা পুলিশ। ঘটনার আড়াই ঘণ্টার মধ্যেই সিলেট নগরীর মজুমদারী এলাকা থেকে জাবেদ (২৫) নামে এক আসামিকে গ্রেফতার করা হয়। নিহতের পিতা এ্যাডভোকেট সাজেদ আহমদ চৌধুরী থানায় একটি মামলা দায়ের করলে ৩০২/৩৪ ধারায় মামলা রুজু করা হয়।
তদন্তকারী কর্মকর্তা পুলিশ পরিদর্শক মোহাম্মদ আব্দুল বাছেত সরকারের নেতৃত্বে একটি বিশেষ টিম প্রযুক্তিগত বিশ্লেষণ ও গোয়েন্দা তৎপরতার মাধ্যমে মূল হত্যাকারী পারভেজ (২০) এবং তার সহযোগী রাজু দাস (২৩)-এর সন্ধান পায়। আজ (২০ এপ্রিল) ভোর ২টায় ঢাকার পূর্বাচল সংলগ্ন গাজীপুরের কালিগঞ্জ থানা এলাকা থেকে তাদের গ্রেফতার করা হয়।
গ্রেফতারকৃত আসামিদের সিলেটে এনে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে তারা হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে। তাদেরকে আদালতে সোপর্দ করার প্রক্রিয়া চলছে।
হত্যাকাণ্ডের পরপরই একটি গোষ্ঠী সিলেটের জিন্দাবাজারের গ্যালারিয়া শপিং কমপ্লেক্সের এক কর্মচারী পারভেজকে মূল আসামি বলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচার করে। তবে পুলিশের তদন্তে প্রমাণিত হয় যে, এই পারভেজের কোনো সম্পৃক্ততা নেই। এসএমপি কর্তৃপক্ষের দ্রুত পদক্ষেপ ও তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত অপরাধীদের শনাক্ত করা সম্ভব হয়েছে।
এসএমপি কমিশনার বলেন, “আমরা অপরাধীদের দ্রুত গ্রেফতারে সর্বাত্মক চেষ্টা করেছি। যেকোনো অপপ্রচার ও বিভ্রান্তি দূর করতে প্রযুক্তি ও গোয়েন্দা নেটওয়ার্ক ব্যবহার করা হয়েছে। ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে আইনানুগ ব্যবস্থা অব্যাহত থাকবে।”
এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় সিলেটবাসী শোকাহত। পুলিশের দ্রুত পদক্ষেপে নিহতের পরিবার ও স্থানীয়রা কিছুটা স্বস্তি পেয়েছেন বলে জানিয়েছেন।