13 May 2025, 12:00 AM
মোঃ সাজ উদ্দিন, স্টাফ রিপোর্টার: সিলেটের জৈন্তাপুর উপজেলার হরিপুর ও হরিপুর বাজার দীর্ঘদিন ধরে ভারতীয় চোরাচালানের মূল ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত ছিল। এছাড়া সিলেট-তামাবিল মহাসড়কের সবচেয়ে বড় যানজটের স্থানও ছিল এই বাজার। তবে গত ৫ আগস্ট ২০২৪-এ শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর সেনাবাহিনী এলাকায় কঠোর অবস্থান নেয়ায় চোরাচালান প্রায় বন্ধ হয়ে যায় এবং যানজটও নিয়ন্ত্রণে আসে।
সেনাবাহিনীর হরিপুর সিলেট গ্যাস ফিল্ড ক্যাম্প (২৭ বীর ইউনিট) একের পর এক অভিযান চালিয়ে চোরাচালানকারীদের মূল ঘাঁটি গুঁড়িয়ে দেয়। ফলে তারা হরিপুর ছেড়ে গোয়াইনঘাট ও কানাইঘাটের প্রত্যন্ত এলাকায় সরে যায়। তবে সেখানেও সেনাবাহিনীর অভিযানে কোটি টাকার চোরাচালান পণ্য আটক হয়।
দীর্ঘ ২০ বছর ধরে হরিপুরে ভারত থেকে গরু-মহিষ, মাদক, কসমেটিকসসহ নানা পণ্য চোরাচালান হতো। এই এলাকা ছিল পণ্য মজুদের কেন্দ্র। প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর আগের অভিযানগুলো চোরাকারবারিদের হামলায় ব্যর্থ হলেও সেনাবাহিনীর কঠোরতায় পরিস্থিতি বদলে যায়।
গত ২৬ মার্চ ২০২৫, রাতে হরিপুর পশুর হাটে সেনা টহল দলের ওপর চোরাচালানকারীরা ইট-পাথর নিক্ষেপ করে। এতে একজন অফিসারসহ তিন সেনা সদস্য আহত হন। পরবর্তীতে সেনা-পুলিশের যৌথ অভিযানে ২৮ জনকে আটক করা হয়, যাদের মধ্যে ৫ জনের সম্পৃক্ততা প্রমাণিত হলে তাদের কারাগারে পাঠানো হয়।
৩০ মার্চ যৌথ বাহিনী হরিপুর পশুর হাটের ১৫০ শেডঘর এবং ২ এপ্রিল সড়ক ও জনপদ বিভাগের জায়গায় গড়ে ওঠা ১১০ অবৈধ দোকান ও ১০ হোটেল উচ্ছেদ করে। এতে এলাকায় সাময়িক আতঙ্ক তৈরি হলেও বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়েছে।
এক মাস পর হরিপুর বাজারে অবৈধ দোকানগুলোর জায়গায় বৈধ ব্যবসা শুরু হয়েছে। সবুজ রং করা দোকানগুলোতে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য বিক্রি হচ্ছে। তবে চোরাচালান রোধে দোকানগুলো রাত ১১টার আগে বন্ধ করা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। পশুর হাটের ইজারাদার পলাতক থাকায় সেখানে নিয়মিত হাট বসছে না।
সেনাবাহিনীর কঠোর নজরদারির ফলে হরিপুর এখন চোরাচালানমুক্ত ও যানজটহীন একটি স্থানে পরিণত হয়েছে।