শনিবার, ১৮ই এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

৭ মে ২০২৫, ১২:৪৪ অপরাহ্ণ

নারী-পুরুষ সমতা ও ইসলাম

আপডেট টাইম : মে ৭, ২০২৫ ১২:৪৪ অপরাহ্ণ



শেয়ার করুন

মোছা: ছিদরাতুল মুনতাহা মাহী: বিশ্বে এখন নারী-পুরুষ সমতা নিয়ে আলোচনা তুঙ্গে। অনেকেই বলেন, ইসলাম নারীকে স্বাধীনতা দেয়নি, সমতা দেয়নি। একদল মানুষ নারীর পক্ষ নিয়ে ‘নারীবাদী’ হয়ে গেছেন। তাদের দেখাদেখি মুসলিম সমাজেও এ ধরনের চিন্তা ছড়িয়ে পড়ছে, যার প্রভাব বাংলাদেশেও লক্ষণীয়। অনেকের মনেই প্রশ্ন জাগে—ইসলামে নারীরা পর্দায় কেন? সম্পত্তিতে ভাইয়ের অর্ধেক অংশ কেন? দুই নারীর সাক্ষ্য এক পুরুষের সমান কেন?

এ বিষয়ে সঠিক বুঝ লাভ করতে হলে পশ্চিমা অপপ্রচারের রঙিন চশমা খুলে ফেলতে হবে। পাশ্চাত্যের নারী-পুরুষ সমতার ধারণা ভুল। ইসলামের সমতার দৃষ্টিভঙ্গি বোঝার জন্য আল্লাহর নীতি অনুযায়ী চিন্তা করতে হবে। ইসলামে নারী ও পুরুষের মর্যাদা সমান, এমনকি অনেক ক্ষেত্রে নারীর মর্যাদা পুরুষের চেয়ে বেশি। তবে শুধু মর্যাদাই জীবনের সবকিছু নির্ধারণ করে না।

মানবজীবনে মর্যাদা, ক্ষমতা, অধিকার ও দায়িত্ব মিলেই ব্যক্তিত্ব গঠিত হয়। নারীর মর্যাদা, ক্ষমতা ও অধিকার পুরুষের চেয়ে বেশি, কিন্তু দায়িত্ব কম। তবে নারীর একটি দায়িত্ব শত পুরুষের চেয়েও বড়—তা হলো মাতৃত্ব। এ দায়িত্ব কোনো পুরুষ পালন করতে পারে না।

নবীজি (সা.)-কে এক ব্যক্তি প্রশ্ন করলেন, “আমি কার সেবা করব?” নবীজি উত্তর দিলেন, “তোমার মায়ের।” ব্যক্তিটি আবার জিজ্ঞাসা করলে তিনি একই উত্তর দিলেন তিনবার। চতুর্থবার তিনি বললেন, “তোমার বাবার।” (আল-হাদিস) এ হাদিস থেকে স্পষ্ট, নারীর মর্যাদা পুরুষের চেয়ে তিনগুণ বেশি।

নারীর জীবন ও জীবিকার দায়িত্ব পুরুষের ওপর ন্যস্ত। এটি আল্লাহর প্রাকৃতিক বিধান। শরিয়তও প্রকৃতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। নারীর মালিকানা ও কর্তৃত্ব ইসলামে স্বীকৃত, তবে তার মাতৃত্ব, নারীত্ব ও সম্মান রক্ষার্থে কিছু বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে। পুরুষের কঠোর দায়িত্ব, অনিরাপদ পরিবেশ ইত্যাদি থেকে নারীকে দূরে রাখা হয়েছে তার সুরক্ষার জন্য।

মানব শিশুর জন্ম, লালন-পালন, সংসার পরিচালনা—এসবই নারীর প্রধান দায়িত্ব। তাই ইসলাম নারীকে সুখী, নিরাপদ ও পবিত্র রাখতে চায়। নারীর স্বভাবগত বৈশিষ্ট্য, শারীরিক গঠন ও মাতৃত্বের প্রয়োজনকে উপেক্ষা করে পুরুষের সঙ্গে নিঃশর্ত সমতা ইসলামসম্মত নয়। এজন্যই নারী-পুরুষের অবাধ মেলামেশা নিষিদ্ধ, তবে প্রয়োজনে শরিয়তের শর্ত মেনে সামাজিক কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণ বৈধ।

ইসলামি রাষ্ট্রের নেতৃত্ব (খেলাফত) ও পুরুষের জামাতে ইমামতি ছাড়া নারী সব ক্ষেত্রেই ভূমিকা রাখতে পারে। এটি নারীর প্রতি অবজ্ঞা নয়, বরং মাতৃত্বের মর্যাদার স্বীকৃতি। নারীর স্নেহ, কোমলতা ও কিছু ক্ষেত্রে সীমাবদ্ধতার কারণে গুরুত্বপূর্ণ সাক্ষ্যে দু’জন নারীর সাক্ষ্য এক পুরুষের সমান করা হয়েছে। এটি মহান আল্লাহর প্রজ্ঞাপূর্ণ সিদ্ধান্ত, যা প্রকৃতির মতোই অপরিবর্তনীয়।

ইসলামের আলোয় সবকিছু বিচার করলে কোনো প্রশ্নই অবশিষ্ট থাকে না। ইসলাম আল্লাহর বিধান, যিনি তাঁর বান্দাদের মঙ্গল কীভাবে সাধিত হবে, তা সবচেয়ে ভালো জানেন। মুসলিম নারীদের সম্মান ও মর্যাদা বিশ্লেষণ করলে পৃথিবীর অন্যরা তাদের জীবনকে ঈর্ষা করবেই।

শেয়ার করুন