শুক্রবার, ১৭ই এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

১৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৫, ২:০০ পূর্বাহ্ণ

ভূমিকম্প প্রবণ পরিবর্তন আসছে বাংলাদেশের রাজনীতিতে : ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদ

আপডেট টাইম : ফেব্রুয়ারি ১৭, ২০২৫ ২:০০ পূর্বাহ্ণ



শেয়ার করুন

মাহফুজ কাউসার ছাদি: এবি পার্টির সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদ বলেছেন, যারা তরুণদের চিন্তাভাবনা বুঝতে পারে না তারা রাজনীতি থেকে হারিয়ে যায়। ১৯৭০ সালে মুসলিম লীগ সবচেয়ে বড় রাজনৈতিক দল হওয়া সত্ত্বেও ৬৯ এর গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে তরুণদের মনস্তাত্ত্বিক পরিবর্তন বুঝতে না পারার কারণে রাজনীতি থেকে বিলুপ্ত হয়ে গিয়েছে। বর্তমানেও কিছু রাজনৈতিক দল তরুণদের চিন্তা চেতনা বুঝতে পারছে না। ফলে বাংলাদেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে এক ভূমিকম্প প্রবণ পরিবর্তন আসতে চলেছে।

১৬ ফেব্রুয়ারি (রবিবার) সন্ধ্যায় সিলেট নগরীর এক অভিজাত রেস্টুরেন্ট ও পার্টি সেন্টারের মিলনায়তনে সিলেটের বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ ও গুণীজনদের সাথে এক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।জেলা ও নগর শাখা এবি পার্টি আয়োজিত সভায় সভাপতিত্ব করেন কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক ও মহানগর সভাপতি ওমর ফারুক।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে ব্যারিস্টার ফুয়াদ বলেন, নতুন রাজনীতির মেরুকরণ এখন সময়ের ব্যাপার মাত্র। কেননা বড় রাজনৈতিক দলগুলো তরুণদের আকাঙ্ক্ষা পূরণ করতে পারবে কিনা তা প্রশ্নবিদ্ধ হচ্ছে। এবি পার্টি গত চার বছর ধরে যে নতুন নতুন আইডিয়া দিয়েছিল তা ২৪শে ছাত্ররা বক্তব্য, মিছিলের স্লোগান ও দেয়াল লিখনের মাধ্যমে ফুটিয়ে তুলেছে। তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশ মোটামুটি পাথরের উপর স্বনির্ভর ছিল। কিন্তু সালমান এফ রহমান ও এস আলম গ্রুপের চক্র পাথরের কোয়ারি বন্ধ করে দিয়ে এই ইন্ডাস্ট্রিকে ভারত নির্ভর করে দিয়েছে। আমি পরিবেশ উপদেষ্টা ও বিভিন্ন মহলে পাথর কোয়ারি খুলে দেয়ার ব্যাপারে আলোচনা করেছিলাম। ফলে পাথরের কোয়ারি খুলে দেয়া হয়। রাষ্ট্র প্রণোদনা দিলে এই ইন্ডাস্ট্রিতে এক কোটি মানুষের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা যাবে বলে স্থানীয় বিশেষজ্ঞ ব্যবসায়ীরা আমাকে জানিয়েছেন। তাছাড়া সিলেট থেকে শুরু করে কক্সবাজার হয়ে খুলনা বাগেরহাট পর্যন্ত বিশাল পর্যটন ইন্ডাস্ট্রি তৈরি করা সম্ভব। এতে ১ থেকে ২ কোটি মানুষের কর্মসংস্থান করা ও সম্ভব। তাছাড়া আমরা বিচারক নিয়োগের ব্যাপারে নীতিমালা তৈরীর প্রস্তাব করেছিলাম, ফলে সরকার নীতিমালা প্রণয়ন করেছে।

ব্যারিস্টার ফুয়াদ বলেন, আমাদের প্রস্তাবনার আলোকে ইতোমধ্যে বিচারক নিয়োগের অধ্যাদেশ জারী করেছে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার।তিনি বলেন,
বাংলাদেশে নতুন রাজনীতির জন্ম হয়ে গেছে অলরেডি। বাংলাদেশের ভাগ্য বদলের রাজনীতি এখনই করতে হবে।রাজনীতির নয়াদিগন্তে এবি পার্টি ডমিনেন্ট করবে।

ব্যারিস্টার ফুয়াদ বাংলাদেশের হাজার বছরের রাজনীতির ইতিহাস তুলে ধরেন।স্বাধীন বাংলাদেশের ৫৪ বছরের রাজনীতির প্রসঙ্গ টেনে বলেন, অতীতে বেঈমানী ও বাটপারীর রাজনীতি হয়েছে। লুটপাট, দুর্নীতি হয়েছে। তিনি বলেন, আওয়ামীলীগ মৌলিক রাজনীতি করতে গিয়ে একই সঙ্গে সরকারী ও বিরোধী দলীয় রাজনীতি চালিয়ে গেছে। শেখ মুজিবও করেছে, পলাতক ফ্যাসিস্ট হাসিনাও তা করেছে। ৭১ পরবর্তী সময়ে যদি সোস্যাল মিডিয়া থাকত তাহলে আ’লীগ কি পরিমাণ মিথ্যাবাদী তা মানুষ বুঝত। তিনি বলেন, বাটপারীর রাজনীতি শেষ হয়ে গেছে। চব্বিশের গণঅভ্যুত্থান-এর পর নতুন রাজনীতি শুরু হয়েছে। তরুণদের গণ আকাঙ্খার রাজনীতি।

ব্যারিস্টার ফুয়াদ বলেন, সিলেটে নানা সমস্যা আছে। ঘন ঘন বন্যা, জলাবদ্ধতা, পাথর লুটপাট, বন উজাড়, জলমহাল নিয়ে মারামারি ইত্যাদি। কিন্তু এসব সমস্যা নিয়ে স্থানীয় রাজনীতিবিদরা কি করণীয় নির্ধারণ করতে সভায় বসেছে? সুরমা কুশিয়ারা বিধৌত এ অঞ্চলে হাসপাতালে কোমরপানি হয়, গবেষণা কি কেউ করছে? রাজনীতিবিদরা কি চিন্তা করছেন, কেন এগুলো হয়? এর জন্য সিটি কর্পোরেশনের দায় কি, ডিসি অফিসের দায় কি? তা কি আলোচনা হচ্ছে। তাই এগুলো নিয়ে ভাবনার রাজনীতির দুয়ার খুলেছে।

সভায় ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদ জাতীয় রাজনীতির গতিপ্রকৃতি ,স্থানীয় সমস্যা সমাধানে রাজনৈতিক নেতৃত্বের ভূমিকা,জুলাই বিপ্লব পরবর্তী রাষ্ট্র সংস্কারে এবি পার্টির প্রস্তাবনা ইত্যাদি বিষয় তুলে ধরেন।তিনি বলেন, অতীতে রাষ্ট্র ক্ষমতায় আসীন অনেক দল এমপি প্রার্থী দিতে হিমশিম খেলেও সরকার গঠন করেছে। আর জাসদের মতো মঞ্চ কাঁপানো দল বিলীন হয়েছে। তাই নতুন বাংলাদেশে নব প্রতিষ্ঠিত দলগুলোর সম্ভাবনাকে উড়িয়ে দেয়া যায় না।

এ সময় বিশেষ অতিথির বক্তব্যে যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার সানি আব্দুল হক বলেন, গত ৫০ বছর রাজনীতির নামে বাটপারি হয়েছে, রাজনীতি হয়নি।স্বাধীনতার ঘোষণা পত্রে উল্লেখিত মুক্তিযুদ্ধের মূলনীতি ছিল সাম্য, মানবিক মর্যাদা ও সামাজিক সুবিচার। কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্য যে বাংলাদেশের কোন সরকারই এই মূলনীতির বাস্তবায়ন করেনি। তাই এই মূলনীতি বাস্তবায়নের লক্ষ্যেই এবি পার্টির জন্ম।তিনি বলেন, মানুষের অধিকার নিয়ে এবি পার্টি রাজনীতি করছে। আমরা আদর্শিক কিন্তু মতাদর্শিক নয়। মতাদর্শ বিভেদের রাজনীতির জন্ম দেয় উল্লেখ করে তিনি বলেন, এবি পার্টির রাজনীতি তত্ত্ব বা মতাদর্শ দিয়ে নয়, এবি পার্টির রাজনীতি অধিকারভিত্তিক। তিনি বলেন, আমরা ধর্ম এবং মুক্তিযুদ্ধ কে বিতর্কের উর্ধ্বে রাখতে চাই।

সিলেট মহানগর সেক্রেটারি রেজাউল করিম সুয়েবের সঞ্চালনায় সভায় আরো বক্তব্য রাখেন বিশিষ্ট ব্যবসায়ী আব্দুল করিম জলিল,সুনামগঞ্জ জেলার আহবায়ক জসিম উদ্দিন,মহানগর যুগ্ম সদস্য সচিব জাহাঙ্গীর আলম,অধ্যাপক ফরিদ আহমদ, নুর জাহান মেমোরিয়াল মহিলা ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ মোঃ নিজামুদ্দিন তরফদার, যুব আহবায়ক তানজিল নাফি, সিলেট মহানগরের যুগ্ম আহবায়ক আব্দুল জলিল মিয়া প্রমুখ।

আলোকিত সিলেট / এসএস

শেয়ার করুন