২০ ফেব্রুয়ারি ২০২২, ৮:৪৪ অপরাহ্ণ
গোলজার আহমদ হেলাল: সিলেটে কৃষিতে বহুমুখী বানিজ্যিকীকরণের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।পতিত জমিগুলোকে চাষাবাদের আওতায় নিয়ে আসা হচ্ছে।এ লক্ষ্যে বোরো মৌসুমে সেচসুবিধা সম্প্রসারণের জন্য ইতোমধ্যে ২২৬ কোটি টাকার প্রকল্প হাতে নেয়া হয়েছে।ফলে সিলেটের কৃষিতে বিরাট পরিবর্তন আসবে।কৃষি তথ্য সার্ভিস সুত্রে ইহা জানা যায়।
বিগত কয়েকদশক থেকে বাংলাদেশে কৃষিতে একটা বিপ্লব ঘটে গেছে। বর্তমানে দেশের মোট দেশজ উৎপাদনের ১৮.৬% আসে কৃষিখাত থেকে। আমাদের মোট জাতীয় শ্রমশক্তি ৪৫%ভাগ কৃষি কাজে নিয়োজিত। কৃষিযোগ্য জমির শতকরা ৮০%জমিতে ধান চাষ হয়ে থাকে। দীর্ঘ ৫০ বছরপর দেশের জণসংখ্যা দ্বি-গুন হওয়া সত্বেও আমরা প্রায় ৩.৫০কোটি মেট্রিকটন ধান এবং ১৫লক্ষ মেট্রিকটন গম উৎপাদন করে থাকি। উন্নত জাতের বীজ ও সারের ব্যবহার এবং সেচ সুবিধার কারণে দেশের কৃষি উৎপাদন উল্লেখ যোগ্য হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। ফলে কৃষিতে এখন বহুমুখীকরণ ও বাণিজ্যিকিকরণ সময়ের অনিবার্য দাবী।
বাংলাদেশের ধান গবেষণা ইনষ্টিটিউটে এ পর্যন্ত ৪টি হাইব্রিডসহ মোট ৬০টি উচ্চ ফলনশীল ধানের জাত উদ্ভাবিত হয়েছে। সম্প্রতি লবণাক্তপানি সহিষ্ণু ধানের জাত উদ্ভাবনের ফলে দেশের দক্ষিণাঞ্চলের উপকুলীয় জেলা ও পার্বত্য জেলাগুলোতে ধানচাষ আরো সম্প্রসারণ করা সম্ভব। এখন প্রয়োজন কৃষি পন্য প্রক্রিয়া করণ শিল্প আরো গড়ে তোলা। ইতোমধ্যে দেশে ডেইরী, পোল্ট্রি শিল্প বিকশিত হয়েছে এবং আরো সম্ভাবনা রয়েছে।
জানা যায়, সিলেটের হাওর, টিলা ও সমতলে কৃষির সম্ভাবনা অনেক। অনেক জমিও পতিত থাকে। এসব পতিত জমিকে কীভাবে চাষের আওতায় আনা যায়, টিলাতে কীভাবে কমলা, জাম্বুরা, কফি, কাজুবাদামসহ ফলের চাষ করা যায়, সে বিষয়ে কাজ চলছে। সিলেট অঞ্চলের কৃষির সম্ভাবনাকে পুরোপুরি কাজে লাগাতে ও বিশাল পতিত জমিকে চাষের আওতায় আনতে কাজ চলছে ।
জানা যায়, সিলেট অঞ্চলের সিলেট, সুনামগঞ্জ, হবিগঞ্জ ও মৌলভীবাজার জেলায় মোট জমির পরিমাণ ১২ লাখ ৫০ হাজার ৫৩২ হেক্টর। চাষযোগ্য বা ফসলী জমি রয়েছে ৭ লাখ ৬৩ হাজার ২৫৪ হেক্টর। এর মধ্যে এক ফসলি জমিই অর্ধেক, ৪৯%। ফসলের নিবিড়তা ১৬০%, যা দেশের অন্য বিভাগের তুলনায় সবচেয়ে কম। অন্যদিকে পতিত জমি ১ লাখ ৯৬ হাজার ৩৯৯ হেক্টর। এ বিশাল পতিত জমিতে ফসল উৎপাদনই এখন চ্যালেঞ্জ।
জমি পতিত থাকার অন্যতম কারণ হলো অনুপস্থিত কৃষক বা মালিক। সিলেট অঞ্চলে ১৮% কৃষক ভূমিহীন ও ৩৬% প্রান্তিক। প্রবাসী কৃষকেরা চাষে আগ্রহী নয়। এছাড়া, বোরো মৌসুমে সেচের অপর্যাপ্ততা, পানিতে মাত্রাতিরিক্ত আয়রণের উপস্থিতি, আগাম ও আকস্মিক বন্যা, পাহাড়ি ঢল-অতিবৃষ্টি, টেকসই ফসল রক্ষা বাঁধের অভাব, আগাম- স্বল্পমেয়াদী জাত প্রভৃতি সমস্যা রয়েছে।
কোটি কোটি প্রাণের কলরবে স্বাধীনতার ৫০ বছর পর বাংলাদেশকে করে রেখেছে প্রাণপংকময়। এই জাগরণের একটা পূর্ণাঙ্গ নির্মাণচিত্র জাতির সামনে তুলে ধরা উচিত। কিন্তু বাংলাদেশের জেগে উঠা ভোরের নদীর মোহনায় যার প্রতিটি উত্থানে কণায় কণায় আছে একেকটি সম্ভাবনার হৃদস্পন্দন।
কোনটা রেখে কোনটার দিকে বাড়াই হাত। কোনটিই উপেক্ষা বা অবহেলার করার মতো নয়। কৃষিখাত, পোশাকশিল্প, মানব সম্পদ, চিকিৎসা ও ঔষধশিল্প, সংবাদপত্র বা গণমাধ্যম শিল্প, জাহাজ নির্মাণ, সিরামিক শিল্প, তথ্য প্রযুক্তি, নদী, পর্যটন ও ফুলের মতো প্রভৃৃতি খাতে রয়েছে অপার সম্ভাবনা।
বর্তমান সরকার একটি সুন্দর পরিকল্পনা জনগনের সামনে উপস্থাপন করেছে। এ বিষয়ে সরকারের আন্তরিকতার অভাব নেই বলে সচেতন মহলের ধারণা। কৃষি প্রধান জনবহুল এ দেশে ‘একটি বাড়ী, একটি খামার’ প্রকল্প সত্যিই আধুনিক বিজ্ঞানভিত্তিক উৎপাদনমুখী স্বাবলম্বী প্রকল্প। গ্রাম প্রধান এই বাংলাদেশের সকল জনগন যদি এ কর্মসূচীতে একীভূত হতে পারে তা হলে দেশ উন্নতির দিকে ধাবিত হবে অনেকের ধারণা ।