২৫ জানুয়ারি ২০২২, ১:৪২ অপরাহ্ণ
শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমান পরিস্থিতি এবং কিছু কথা
আবু তালেব মুরাদ: তারিখ ৩০ এপ্রিল ১৯৮৬ সাল শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় অর্থাৎ শাবিপ্রবির ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন অনুষ্ঠান। ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের তৎকালীন রাষ্ট্রপতি লে. জেনারেল হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদ। সেই সময় প্রেসিডেন্টের অনুষ্ঠানসহ যে কোন অনুষ্ঠান ধারণ করার জন্য ঢাকা থেকে আসতো বিটিভি টিম। আর বৃহত্তর সিলেটে তৎকালীন রেডিও বাংলাদেশ থেকে একমাত্র ইলেকট্রনিক মিডিয়া মরহুম আনোয়ার মাহমুদ(দিলু) ভাইয়ের পরেই সম্পুর্ন দায়িত্বে ছিলাম আমি। একমাত্র বলার অর্থ হল, তখন সিলেট বিভাগে অন্য কোন ইলেকট্রনিক মিডিয়া ছিলনা।আমি ছিলাম প্রোডিউসার নিউজরীল। ছবিতে দেখা যাচ্ছে রাষ্ট্রপতির পিছনে মাইক্রোফোন হাতে দাঁড়ানো আমি। ভিত্তিপ্রস্তরের ফলক বসানো হয়েছিল শাবিপ্রবির এরিয়ার একটি টিলার উপর, সুতরাং দাবি করে বলতে পারি এই বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্মটি দেখেছি আমি।
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির প্রতি গুরুত্ব প্রদান এর অংশ হিসেবে বাংলাদেশ সরকার ১৯৮৬ সালে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করে। পদার্থ রসায়ন ও অর্থনীতি বিভাগ নিয়ে যাত্রা শুরু করা এই বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম ও দ্বিতীয় সমাবর্তন যথাক্রমে ২৯ এপ্রিল ১৯৮৮ এবং ৬ ডিসেম্বর ২০০৭ সালে অনুষ্ঠিত হয়(যে দুটি অনুষ্ঠানে স্বয়ং আমি উপস্থিত ছিলাম)। শুরু থেকে শাবিপ্রবির প্রশাসনিক দক্ষতা এবং শিক্ষার্থীদের শিক্ষকদের প্রতি শ্রদ্ধা এমনকি শিক্ষার্থীদের প্রতি শিক্ষকদের স্নেহ মমতার কারণে আজ সারা বিশ্বে SUST সুনাম অর্জন করতে পেরেছে। কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্য ইদানিং একটি ঘটনাকে কেন্দ্র করে সিলেট তথা বাংলাদেশের ঐতিহ্যবাহী বিদ্যাপীঠ এর ভাবমূর্তি মর্যাদা কোথায় গিয়ে নেমেছে। বাংলাদেশ জাতীয় সংসদে এ নিয়ে অধিবেশন চলাকালীন সময়ে অনেক কথা হয়েছে।
ভিসি প্রফেসর ফরিদ উদ্দিন আহমেদের পদত্যাগের দাবিতে ৬ দিন ধরে অনশন করছে শিক্ষার্থীরা। এদিকে সোমবার সকাল পর্যন্ত ২০ শিক্ষার্থীর অবস্থার অবনতি হওয়ায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন, এছাড়াও সোমবার দুপুরে ৭ জন শিক্ষার্থী হাসপাতাল থেকে ক্যাম্পাসে অনশনস্থলে ফিরে এসেছেন। শিক্ষার্থীরা ইতিমধ্যে ভিসির বাস ভবনের বিদ্যুৎ,গ্যাস,পানি ইন্টারনেট লাইন বিচ্ছিন্ন করে দিয়েছেন,এমনকি ভেতরে কাউকে খাবার নিয়ে যেতেও দিচ্ছেন না।সিলেট জেলা ও মহানগর আওয়ামী লীগের নির্দেশে কিছু নেতাকর্মী খাবার নিয়ে গেলে শিক্ষার্থীরা তা ফিরিয়ে দেয়।সোমবার সন্ধ্যায় শিক্ষার্থী ও ভিসির জন্য খাবার নিয়ে এসেছিলেন শাবিপ্রবির শিক্ষকিরা।শিক্ষার্থীরা পথরোধ করায় ভিসির বাসভবনে ঢুকতে পারেননি শিক্ষকরাও।
ঘটনার সূত্রপাত ছিল সিরাজুন্নেসা চৌধুরী হলের প্রাধ্যক্ষের বিরুদ্ধে অসদাচরণের অভিযোগ তুলে তাঁর পদত্যাগসহ তিন দফা দাবিতে আন্দোলন শুরু করেন হলের কয়েক’শ ছাত্রী। কিন্তু পরবর্তী পর্যায়ে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের ওপর পুলিশের হামলার ঘটনা ঘটে। উপাচার্যের ব্যর্থতায় ছোট একটা ঘটনা বড় আকার ধারণ করেছে বলে অনেকে মন্তব্য করেছেন।
ঘটনা নিরপেক্ষ তদন্ত করে দেখা উচিত। প্রয়োজনবোধে সরকারের পক্ষে একটি তদন্ত কমিটি ঘটন করা যেতে পারে। আমার মনে হয়, এর পেছনে ইন্ধন আছে।
এই যে একটা রণক্ষেত্র হলো, এতে হয়তো কোনো ষড়যন্ত্র থাকতে পারে। বিশ্ববিদ্যালয়কে অস্থিতিশীল করার জন্য কেউ এটা করতে পারে।
নিজের ঘরে হোক আর বাইরে হোক তৃতীয় শক্তির ইন্দন থেকে রেহাই পেতে যে কোনো ঘটনা অল্পতে শেষ করে নেয়াটাই উত্তম তখন যদি উচ্চপর্যায়ের হস্তক্ষেপের প্রয়োজন হলে তাও করতে হবে, দেরি না করে “দেখি চোরে কি করে” এই মনোভাব পরিহার এর মাধ্যমে এখনো সময় আছে মাননীয় শিক্ষামন্ত্রী শিক্ষার্থীদের রাজধানীতে না ডেকে একটু কষ্ট হলেও আপনি ক্যাম্পাসে চলে আসেন ভিসি প্রফেসর ফরিদ উদ্দিন আহমেদ আন্দোলনরত কয়েকজন শিক্ষার্থী সংশ্লিষ্ট একজন শিক্ষক সহ রুদ্ধদ্বার বৈঠকে বসেন দেখবেন অল্প সময়ে সব সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে।যদিনা এই আন্দোলনের মধ্যে কোন ইন্ধন না থাকে।
জানাগেছে গতরাতে ভিসির বাসভবনে বিদ্যুত সংযোগ দেয়া হয়েছে।
আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা সোমবার মধ্যরাতে এক প্রেস ব্রিফিং এ জানান শাবিপ্রবির আন্দলনরত শিক্ষার্থীদের মেডিক্যাল সেবা বন্ধ করে দিয়েছে এমএজি ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের টিম।
এছাড়াও তারা জানান আন্দোলনকারীদের অর্থ সংগ্রহের ৬ ‘অ্যাকাউন্ট বন্ধ’। শিক্ষার্থীরা জানান, সাবেক-বর্তমান শিক্ষার্থীদের আর্থিক সহায়তা দেওয়ার সবকটি মোবাইল ব্যাংকিং নম্বর সোমবার দুপুরের পর থেকে কাজ করছে না।