২২ জুলাই ২০২৫, ৬:০৬ অপরাহ্ণ
মাহফুজ কাউসার ছাদি : সিলেটের গোয়াইনঘাট উপজেলার জাফলং জিরো পয়েন্ট, ডাওকি নদী, বাংলাবাজার, মুক্তলা, বুদিগাও হাওরসহ ইজারাবিহীন পরিবেশ সংরক্ষিত (ECA) এলাকায় অবৈধভাবে ড্রেজার মেশিনের মাধ্যমে বালু উত্তোলনের তীব্র অভিযোগ উঠেছে। নদী ও পরিবেশ বাঁচাও আন্দোলনের গোয়াইনঘাট শাখার আহ্বায়ক আজমল হোসেন (পিতা: ফয়ছাল আহমদ, গ্রাম: লেংঙ্গুরা) পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা বরাবর প্রেরিত এক দরখাস্তে এ তথ্য নথিভুক্ত করেন।
তিনি অভিযোগ করেন, সারী নদী বালু মহাল-১, লেঙ্গুরা বালু মহাল ও হাদারপাড় বালু মহালের ইজারাদার প্রতিষ্ঠানগুলো ইজারা শর্ত লঙ্ঘন করে রাতের আঁধারে ইজারাবহির্ভূত এলাকা থেকে ড্রেজার দিয়ে বালু উত্তোলনের মাধ্যমে নদীর পাড় ভাঙছে, খেলার মাঠ ও জাফলং চা বাগানের অংশ ধ্বংস করছে এবং জীববৈচিত্র্যের মারাত্মক ক্ষতি করছে। এর প্রতিবাদ করতে গেলে আজমল হোসেন ও তার সহযোগীরা বারবার হামলা, মামলা ও হত্যার হুমকির শিকার হচ্ছেন। গোয়াইনঘাট থানার অফিসার ইনচার্জের কাছে একাধিক অভিযোগ দায়ের করলেও কোনো ব্যবস্থা না নিয়ে বরং তাকে হয়রানি করা হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন।
আজমল হোসেন আরও উল্লেখ করেন, গত ২২ জুলাই গোয়াইন নদীর লেংঙ্গুরা সাকিনন্ত এলাকায় নদী অবরোধ করে তারা ১০০–১৫০টি বালুবোঝাই নৌকা ও বজরা আটক করেন। সেখানকার শ্রমিকদের জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, বাংলাবাজার, তিতাইর হাওর, জাফলং চা বাগান, হাদারপাড় ও গোরাগ্রাম থেকে অবৈধভাবে বালু তোলা হচ্ছে। এছাড়া, দুষ্কৃতিকারীরা পুলিশের নামে প্রতিটি নৌকা থেকে ৫,০০০ টাকা ও জৈন্তাপুরের সারী-১ বালুমহালের নামে ঘনফুটপ্রতি ৪ টাকা চাঁদা আদায় করছে। গোয়াইনঘাট নির্বাহী কর্মকর্তাকে এ বিষয়ে জিজ্ঞাসা করলে তিনি নীরব থাকেন এবং পরদিন পুলিশ ও সেনাবাহিনী এসে ৭ জনকে গ্রেপ্তার করে। গোয়াইনঘাট জি.আর. মামলা নম্বর ১৮৫/২০২৫-এ মোট ৩৪ জনকে আসামি করা হয়েছে।
মামলার সুযোগ নিয়ে ইজারাদাররা প্রতিদিন ৩০০–৪০০ নৌকা থেকে ২ কোটি টাকা চাঁদা উত্তোলন করছে এবং প্রশাসনের সহায়তায় এলাকাবাসীকে ভয় দেখিয়ে জোরপূর্বক উচ্ছেদের চেষ্টা চালাচ্ছে বলে আজমল অভিযোগ করেন। বাংলাবাজার, মুক্তলা, তিতাইর হাওর ও গোরাগ্রামে ফসলি জমি, বসতভিটা ও খেলার মাঠ নদীগর্ভে বিলীন হওয়ার প্রমাণসহ তিনি চিত্রও সংযুক্ত করেছেন। তিনি দাবি করেন, স্থানীয় প্রশাসন ও পুলিশ ইজারাদারদের সাথে হাত মিলিয়ে কাজ করছে, ফলে কোনো সচেতন নাগরিক প্রতিবাদ করতে পারছেন না।
পরিবেশ ও জনজীবন রক্ষায় সংশ্লিষ্ট ইজারা বাতিল, দুষ্কৃতিকারী ও ইজারাদারদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি, এবং স্থানীয় প্রশাসনকে অপসারণের জরুরি নির্দেশনা চেয়ে তিনি মন্ত্রণালয়ের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।