20 May 2026, 12:44 PM
নিজস্ব প্রতিবেদক
চাঁদা না পেয়ে সিলেট নগরীর পীরমহল্লায় প্রবাসীর বাসার চলাচেলর রাস্তা বন্ধ করতে দেয়াল তোলার চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে।একটি চক্র প্রবাসীর পরিবারকে প্রতিনিয়ত হুমকি দিচ্ছে চাঁদা না দিলে এলাকায় বসবাস করতে পারবে না।এমতাবস্থায় প্রবাসীর পরিবার চরম নিরাপত্তাহীনতার ঝুঁকিতে পড়েছেন।তারা আইনী সহায়তা চান।এব্যাপারে যুক্তরাজ্য প্রবাসী মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া গত ১৪ মে সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনারের কাছে একটি লিখিত অভিযোগ পত্র দায়ের করেন।
অভিযোগ পত্রে তিনি বলেন,আমি যুক্তরাজ্য প্রবাসী মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ ইবনে আম্বিয়া, পিতা: মরহুম আখলাকুল আম্বিয়া, এসএমপি’র এয়ারপোর্ট থানাধীন সিসিকের ৭ নং ওয়ার্ডের অন্তর্গত পীরমহল্লা এলাকার ঐক্যতান ১২৫ নং বাসার বাসিন্দা হই। আমি ১৯৯৯ সাল থেকে যুক্তরাজ্য প্রবাসী। আমার অনুজ হাবীবল্লুাহ ফারুক ইবনে আম্বিয়া (আলমগীর) ৩ বছর থেকে কানাডা প্রবাসী।তিনি বলেন, নগরের পীরমহল্লা বাসার আমার প্রতি বেশি হুমায়ুন বখত, পিতা মো.মোজাফর বখত, মাতা-সায়রা বেগম। তিনি পাশ্ববর্তী এক শতাংশ জমিতে টিনশেড বাসায় বসবাস করে আসছেন।ওই জায়গার মালিক তার মামাত ভাইয়ে র স্ত্রী আয়শা আক্তার। হুমায়ুন বখত বিয়ের ঘটকালির টাকার পরিবর্তে আমেরিকা প্রবাসী তার মামাত ভাইয়ের স্ত্রীর এক শতক জায়গা দখল করে আছেন। ২০২১ সাল থেকে কথিত বায়নাসূত্রে নিজেকে ভূমির মালিক দাবি করে আসছেন হুমায়ুন। ভুমির মালিক হিসেবে বায়নার কাগজের অবশিষ্ট তার
কোন কাগজাদি নেই।প্রতিবেশি হিসেবে আমরা উভয়ে সহ আরও কয়েকটি পরিবার সিলেট সিটি কর্পোরেশনের (সিসিক) গেজেট ভুক্ত পাকারাস্তা যাতায়াতের জন্য ব্যবহার করে আসছি । আমার বৃদ্ধ পিতার খেদমতের জন্য বাসায় বড় বোন তার সন্তানদের নিয়ে থাকেন। তাদেরকে রাস্তা ব্যবহারে বাঁধা প্রদান করে আসছে প্রতি বেশি হুমায়ুন। তার মতে , রাস্তা ব্যবহার করতে গেলে সে প্রথমে ৫ লক্ষ টাকা চাঁদা দাবী করে এবং পরবর্তীতে মত পাল্টিয়ে তাকে ১০ লাখ টাকা চাঁদা দিতে হবে বলে দাবি করে । ঘটনাটি আমার বড় বোন আমাকে জানালে আমি চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানাই। এ কারণে তিনি (হুমায়ন
বখত) ও তার স্ত্রী চলাচলের রাস্তায় নানাভাবে প্রতি বন্ধকতা সৃষ্টি করতে থাকে।
অভিযোগপত্রে আব্দুল্লাহ বলেন,ডিসেম্বর ২০২৫ সে(হুমায়ূন) আমার বাসার গেটের ঠিক বাহিরে পানির টাঙ্কির পাইপ স্থাপন করেন এবং পাইপের চারপাশে ইট ও
সিমেন্ট দিয়ে চার কোনা বিশিষ্ট একটি বক্সতৈরী করে আমাদের চলাচলে বাঁধা সৃষ্টি করেন এবং যা এখনো বর্তমান রয়েছে । সর্বশেষ গত মঙ্গলবারে (১২ মে ‘ ২০২৬) লোকজন নিয়ে চলাচলে রাস্তায় আমার বাসার প্রবেশ দ্বারে ইট দিয়ে বন্ধ করার উদ্যাগ নেন। ঘটনাটি সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের উপকমিশনার (উত্তর) সাইফুল ইসলাম ও এয়ারপর্ট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্মর্তাকে অবহিত করলে তারা পুলিশ পাঠিয়ে রাস্তায় দেয়াল তুলার কাজ বন্ধ রাখেন।
উল্লেখ্য, উক্ত রাস্তাটি সরকারি গেজেটভুক্ত রাস্তা (দাগ নং-১২৮, খতিয়ান নং-১৯২, জেএল নং-৭৪, মৌজা: কসবা,সিলেট, আম্বরখানা)। এই রাস্তা দিয়ে আমার বাসার গ্যাস ও বিদ্যুৎ লাইন সংযোগ রয়েছে । ষাটের দশক থেকে আমার কাছে বিক্রির পূর্ব পর্যন্ত এ জায়গায় বসবাসকারী সবাই এই সরকারি রাস্তা ব্যবহার করে আসছেন। আমি সরকারি রাস্তা জেনে ও বুঝে জায়গাটি খরিদ করেছি , যা পরিষ্কারভাবে আমার দলিলে উল্লেখ আছে।তিনি(প্রবাসী আব্দুল্লাহ) বলেন,দুঃখজনক হলে ও সত্য যে , বিগত ১০ ফেব্রুয়ারি আমার বাবা মারা যান। মরদেহ দেখতে আত্মীয় স্বজন ও মেহমানরা
আসলে হুমায়ুন রাস্তা দিয়ে ঢুকতে আমার স্বজন ও মেহমানদের বাঁধা দেয়।সরকারি এই রাস্তাটি হুমায়ুন তার মালিকানা দাবি করে গৃহস্থালি ময়লা-আবর্জনা ফেলে প্রতি বন্ধকতা সৃষ্টি করে । রাস্তার মধ্যে আস্ত ইট এবং ভাঙা ইটের ধারালো চুরকি ছিটিয়ে চলার পথে বাঁধা সৃষ্টি করে । এসব করে ব্যর্থ হয়ে আমার বাসার প্রবেশদ্বারে দেওয়াল নির্মাণের চেষ্টায় ইট দিয়ে প্রায় ২ ফুট দেয়াল তুলে রেখেছেন। বর্তমানে দেয়াল টপকে আমার বোন ও তার সন্তানদের বাসায় যাতায়াত করতে হচ্ছে । আমাদের বেকায়দায় ফেলতে রাস্তাটি স্থায়ীভাবে বন্ধ করে দিতে অপচেষ্টা চালাচ্ছেন হুমায়ুন। পুলিশ শান্তি শৃঙ্খলা বজায় রাখতে ঘটনাস্থলে গেলে হুমায়ুন নিজেকে বিএনপির কর্মী পরিচয় দিয়ে দাপট দেখান।যুক্তরাজ্য প্রবাসী আব্দুল্লাহ বলেন, আমি ও আমার ভাই দুজনই রেমিট্যান্স যোদ্ধা হিসেবে দেশের অর্থনীতির চাকা সচল রাখতে সচেষ্ট থাকি । দেশকে মনেপ্রাণে ভালবাসি । এ অবস্থায় তিনি সম্পর্ণূ নিরুপায় হয়ে সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনারের সহযোগীতা ও হস্তক্ষেপ কামনা করেন। উপেরােল্লিখত বিষয়ািদ বিবেচনায় নিয়ে আইনী পদেক্ষপ নিতে পুলিশ কমিশনারের প্রতি অনুরোধ জানান।
প্রবাসী মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ ইবনে আম্বিয়া জানান,তিনি ২০২৫ সালের ৪ নভেম্বর প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ে এবিষয়ে অভিযোগ করেছিলেন। কিন্তু প্রশাসনের কোন সহযোগিতা তিনি সেসময়ে পাননি।তাই আবার তিনি অভিযোগ পত্র দেন।তিনি দুর্বৃত্ত চক্রের বিরুদ্ধে আইনী পদক্ষেপ নিতে প্রশাসনের প্রতি অনুরোধ জানান।
যুক্তরাজ্য প্রবাসী মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ ইবনে আম্বিয়ার পীর মহল্লা বাসায় বসবাসকারী তার বোন ফাতেমা জান্নাতের সাথে যোগাযোগ করা হলে এ প্রতিবেদককে তিনি বলেন, হুমায়ুন আমাদের চলাচলের রাস্তাটি জোর করে দখলে নিতে চায়।তার সাথে আরো লোকজন আছে যারা আমাদেরকে হুমকি দেয় সবসময়।তারা আমাদেরকে বলেছে পীর মহল্লায় থাকতে হলে তাদের কথা মতো চলতে হবে নতুবা সবাইকে বাসা থেকে বের করে তালা লাগিয়ে দিবে।তিনি বলেন, বাসা বানানোর পর থেকে অনেক সন্ত্রাসী নিয়ে হুমায়ুন বক্ত আমাদের বাসায় এসে চাঁদা দাবি করে।তাদের ৫লক্ষ টাকা চাঁদা না দিলে রাস্তা বন্ধ করার হুমকি দেয়। আমরা চাঁদা দেইনি,তাই এখন সে রাস্তা বন্ধ করে দিয়েছে।আমাদেরকে দুই বার হুমায়ুন হুমকি দিয়েছে,সে আমার বাসা দখল করবে,তালা মেরে দিবে।আমাদেরকে মার্ডার করে ফেলবে। আমাদের এখন নিরাপত্তা নাই।আমরা আইনের আশ্রয় নিয়েছি,দুটি মামলা দিয়েছি,বিচার চাই।
অভিযুক্ত হুমায়ুনকে এ ব্যাপারে জিজ্ঞেস করলে তিনি এ প্রতিবেদককে রাস্তাটি তার দাবি করে ২০২৪ সাল থেকে যাতায়াতে ও চলাচলে তিনি বাঁধা দিয়ে আসছেন বলে জানান।দেয়াল তোলার কথাও তিনি স্বীকার করেছেন।বিষয়টির তিনিও সমাধান চান।তারা যদি জায়গা দলিল দিয়ে প্রমাণ করতে পারে আমি দিয়ে দেব বলে প্রতিবেদককে জানান।
সরেজমিন ঘুরে দেখা যায়, বাসার গেটের সামনে দুই ফুট উঁচু দেয়াল তোলা হয়েছে নতুন।বাসার লোকজন যাওয়া আসা করতে দেয়াল টপকে যেতে হয়।বাসার গেটের সামনে বের হওয়ার পথে ইট সুরকি দেখা গেছে। বাসার প্রবেশদ্বারে পানির ট্যাংকির পাইপ বসানো হয়েছে।অনুসন্ধানে জানা যায়, হুমায়ুনের সাথে আরো লোকজন জড়িত আছে।তারা প্রবাসীর পরিবারের নিকট হতে আর্থিক সুবিধা আদায় করতে বিভিন্ন প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি ও হুমকি দিচ্ছেন।এই চক্রকে পেছন থেকে একটি গোষ্ঠী ইন্ধন দিয়ে যাচ্ছে বলে খবর পাওয়া গেছে।
এব্যাপারে সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশ, এসএমপি’র উপ-কমিশনার ডিসি(নর্থ) সাইফুল ইসলামের সাথে যোগাযোগ করা হলে ফোনে পাওয়া যায় নি।সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশ, এসএমপি’র অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার(এডিসি মিডিয়া) মনজুর আলমের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন,বিষয়টি নিয়ে পুরোপুরি জানা নেই আমার।জেনে জানাব।