17 October 2025, 12:51 AM
নিজস্ব প্রতিবেদক: আগামী ২৪ অক্টোবর থেকে সিলেটে একজনের টিকিটে আরেকজন ট্রেনে ভ্রমণ করা যাবে না। ট্রেন ভ্রমনের সময় যাত্রীর এনআইডি কার্ড সাথে রাখতে হবে।সিলেট জেলার যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে রাজনীতিবিদ, প্রশাসন ও সংশ্লিস্ট দফতরের কর্মকর্তাদের নিয়ে জরুরী বৈঠক শেষে এমনটি জানান সিলেটের জেলা প্রশাসক মো. সারওয়ার আলম।
সিলেট রেল স্টেশনে টিকি কালোবাজরির অভিযোগ দীর্ঘদিনের। সাম্প্রতিক সময়ে ঢাকা-সিলেট সড়কের নাজুক অবস্থার কারণে ট্রেনের টিকিটের চাহিদা বেড়েছে। এতে বেড়েছে কালোবাজারিও। অনলাইনে টিকিট ছাড়ার ৩/৪ মিনিটের মধ্যেই সব টিকিট শেষ হয়ে যায়। যার বড় অংশই কালোবাজারিরা কিনে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে।
এমন অভিযোগের প্রেক্ষিতে মঙ্গলবার সিলেট রেল স্টেশন পরিদর্শনে যান জেলা প্রশাসক মো. সারওয়ার আলম। এরআগে গত রোববার সিলেটের সড়কে রেলপথসহ যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নের দাবিতে জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে প্রধান উপদেষ্টা বরাবর স্মারকলিপি দেন সিলেট সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী।
এরপর বৃহস্পতিবার দুপুুরে যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে রাজনীতিবিদ, প্রশাসন ও সংশ্লিস্ট দফতরের কর্মকর্তাদের নিয়ে জরুরী বৈঠক করেন জেলা প্রশাসক।
নিজ কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে ওই সভা শেষে জেলা প্রশাসক মো. সারওয়ার আলম বলেন, আগামী ২৪ অক্টোবর থেকে সিলেটে রেলওয়েতে পরিবহন করতে হলে এনআইডি কার্ড সাথে থাকতে হবে। একজনের টিকেট অপরজন ব্যবহার করতে পারবেন না৷
তিনি বলেন, এতে প্রথমে কয়েকদিন হয়তো কিছু ভোগান্তি হবে। তবে টিকিট কালো বাজারি বন্ধে এছাড়া আর বিকল্প পথ নেই। একজনের টিকিটে আরেকজন ভ্রমণ বন্ধ করতে পারলে টিকিট কালোবাজারিও বন্ধ হয়ে যাবে।
জেলা প্রশাসক মো. সারওয়ার আলমের সভাপতিত্বে সভায় সিলেটের বিভাগীয় কমিশনার খান মো. রেজাউন নবী, সিলেট মহানগর পুলিশ কমিশনার আব্দুল কুদ্দুস চৌধুরী, সিলেট সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী, পুলিশ সুপার মো. মাহবুবুর রহমানসহ প্রশাসনের উচ্চ পর্যায়ের কর্মকর্তা, বিএনপি-জামায়াতসহ বিভিন্ন দলের শীর্ষ নেতা এবং সিটি করপোরেশন, সড়ক, রেল ও বিমানের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
এসময় জেলা প্রশাসক আরও বলেন, নগরের হকারদের পুণবার্সনের জন্য লালদিঘির মাঠ পুরোপুরি প্রস্তুত। ১৮ অক্টোবর এই নগরের সড়ক ও ফুটপাতে হকারেদের বসার শেষ দিন। ওই দিনের মধ্যে তারা লালদিঘির মাঠে চলে যেতে হবে। আগামী ১৯ অক্টোবর (রোববার) থেকে শহরের সড়ক ও ফুটপাতে হকার বসতে দেওয়া হবে না।
সভায় ঘন ঘন বিমানের ভাড়া বৃদ্ধি, রেলের টিকেট সংকট ও কালোবাজারি বন্ধ, ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক ও আঞ্চলিক সড়কের সংস্কার কাজ দ্রুততম সময়ে শেষ করার ব্যাপারে সংশ্লিষ্টদের ভূমিকা গ্রহণের দাবিসহ যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নের পথে নানা প্রতিবন্ধকতা চিহ্নিত করে এর সমাধানকল্পে মতামত দেন উপস্থিত ব্যক্তিরা।
এসময় বিভাগীয় কমিশনার খান মো.রেজা উন নবী বলেন, সিলেটের সাথে বিমাতাসুলভ আচরণ করা হচ্ছে। বিশেষত যোগাযোগ ক্ষেত্রে সিলেট পিছিয়ে রয়েছে।
আগামীতে কোনো সিন্ডিকেটের হাতে যেন সিলেটের কোনো যাত্রী জিম্মি না হয় সে বিষয়ে সর্বোচ্চ ব্যবস্থা গ্রহণের আশ্বাস দেন তিনি।