১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৫, ১২:৫৭ পূর্বাহ্ণ
সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশ (এসএমপি) এর পুলিশ কমিশনার আবদুল কুদ্দুছ চৌধুরী (পিপিএম) এর ঘোষণা অনুযায়ী, আগামী ২২ সেপ্টেম্বর থেকে সিলেট নগরীতে কোনো অবৈধ যানবাহন চলাচল করবে না এবং অবৈধ স্ট্যান্ড থাকবে না। গত ১৪ সেপ্টেম্বর রাত ৮টায় সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশ সদর দপ্তরের সভাকক্ষে তার সভাপতিত্বে পরিবহন মালিক ও শ্রমিক নেতৃবৃন্দের সাথে সমন্বয় সভায় এ সিদ্ধান্ত গৃহীত হয় ।
উক্ত সভায় পরিবহন মালিক ও শ্রমিক নেতৃবৃন্দ তাদের বিভিন্ন সমস্যা তুলে ধরেন এবং পুলিশ কমিশনার তা সমাধানে আশ্বাস প্রদান করেন। পুলিশ কমিশনার উপস্থিত পরিবহন সংগঠনের সদস্যদের উদ্দেশ্যে বলেন, শহরকে পরিচ্ছন্ন ও যানজটমুক্ত রাখতে সকলকে ট্রাফিক আইন মেনে চলতে হবে। মেট্রোপলিটন এলাকায় কোনোভাবেই অবৈধ যানবাহন চলাচল করতে দেওয়া হবে না ।
তিনি জানান, রেজিস্ট্রেশনবিহীন গাড়ি, রুট পারমিটবিহীন গাড়ি, ডুপ্লিকেট লাইসেন্সধারী ও চোরাই গাড়ি, অবৈধ অটোরিকশা এবং অবৈধ সিএনজি স্ট্যান্ডের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে। স্ট্যান্ড ব্যতীত কোনো যানবাহন যত্রতত্র পার্কিং করলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে ।
আগামী ২১ সেপ্টেম্বরের মধ্যে এসব অবৈধ যানবাহন মেট্রোপলিটন এলাকা থেকে সরিয়ে নিতে হবে এবং ২২ সেপ্টেম্বর থেকে এসব অবৈধ যানবাহনের বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনা করা হবে serta প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে ।
বাহির থেকে নগরীতে চিকিৎসা ও অন্যান্য সেবার জন্য আগত যাত্রীদের নির্দিষ্ট কিছু গাড়িতে উঠতে বাধ্য করে অতিরিক্ত ভাড়া চাওয়া হয়। এজন্য সিলেট মেট্রোপলিটন এলাকায় যানবাহনের ভাড়া নির্ধারণ করে দেওয়া হবে। নির্ধারিত ভাড়ার চেয়ে অতিরিক্ত ভাড়া নেওয়া হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে ।
সরকারি সিদ্ধান্ত মোতাবেক প্রতিদিন বিকাল ৫টা হতে রাত ১০টা পর্যন্ত সিএনজি পাম্প বন্ধ থাকবে। রাত ১০টা থেকে সকাল ৮টা পর্যন্ত নগরীতে পণ্যবাহী ট্রাক, কাভার্ডভ্যান প্রবেশ করতে পারবে। সময়সীমা অতিবাহিত হওয়ার পর কোনো কাভার্ডভ্যান, ট্রাক শহরে প্রবেশ করতে পারবে না ।
পুলিশ কমিশনার আরও উল্লেখ করেন যে, অবৈধ সিএনজি ড্রাইভাররা ছিনতাই কাজের সাথে জড়িত, তাই অবৈধ গাড়ি গুলো সরালে অপরাধ কমে আসবে। তিনি আমেরিকার মতো একটি ব্যবস্থার কথা বলেন যেখানে পরপর তিনবার জরিমানার শিকার হলে ড্রাইভিং লাইসেন্স বাতিল করা হবে ।
তিনি আরও বলেন যে, তাদের সব সিদ্ধান্তের মূল লক্ষ্য জনগণকে নিরাপত্তা ও সেবা দেওয়া। এই সিদ্ধান্তে কারো সুবিধা হবে, কারো অসুবিধা হতে পারে; তবে বৃহত্তর স্বার্থে এটি মেনে নেওয়া প্রয়োজন। সিলেট মহানগরীকে একটি নিরাপদ ও সুন্দর শহর হিসেবে গড়ে তুলতে সকলের সহযোগিতা প্রয়োজন ।
এ সময় এসএমপি‘র বিভিন্ন পদমর্যাদার অফিসারবৃন্দসহ পরিবহন মালিক ও শ্রমিক নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন ।