11 July 2025, 7:54 PM
বড়লেখা থানার মধ্য ডিমাই গ্রামে পারিবারিক জমি বিরোধকে কেন্দ্র করে এক নৃশংস হামলার ঘটনায় নুরুল আলম সাকিবের পিতা মুজিবুর রহমান লাল ও মাতা আছমা বেগম গুরুতর জখম হয়েছেন। গত ৮ জুলাই ২০২৫, মঙ্গলবার বিকাল আনুমানিক ৪টায় মধ্য ডিমাই গ্রামের সাকিবের বসতবাড়ীর সামনের রাস্তায় এ হামলা চালানো হয়। নুরুল আলম সাকিব (পিতা: মুজিবুর রহমান লাল, সাং: মধ্য ডিমাই, থানা: বড়লেখা, জেলা: মৌলভীবাজার, আইডি নং: ১৯৬২৩৫৬৬২০) বড়লেখা থানার অফিসার ইনচার্জের কাছে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দায়ের করেছেন।
অভিযোগ অনুসারে, বিবাদী আব্দুর রহিম (৪৭, পিতা: মৃত আপ্তাব আলী), ইমরান আহমদ ইরান (২৮, পিতা: রফিক উদ্দিন), মোঃ এমাদ আহমদ ইমাদ (২৫, পিতা: রফিক উদ্দিন), রফিক উদ্দিন (৫৫, পিতা: আপ্তাব আলী) এবং আবু তাহের (২২, পিতা: সমছুল হক সম্বু) সহ অজ্ঞাতনামা আরও ৫-৬ জন এই হামলায় জড়িত। উভয় পক্ষের বাড়ি পাশাপাশি হওয়ায় জমি সংক্রান্ত পূর্ববর্তী বিরোধ চলছিল। ঘটনার দিন সাকিবের পরিবারে ওয়ালিমার অনুষ্ঠান চলছিল।
ওই সময় ইমরান আহমদ ইরান ও মোঃ এমাদ আহমদ ইমাদ মুজিবুর রহমান লালকে আব্দুর রহিমের ডাকার কথা বলে বাড়ির সামনে রাস্তায় নিয়ে আসে। সেখানে আব্দুর রহিম লোহার রড দিয়ে মুজিবুর রহমান লালের মুখে আঘাত করেন, যার ফলে তার সামনের চোয়ালের একটি দাঁত ভেঙে যায়। মুজিবুর মাটিতে পড়ে গেলে আব্দুর রহিম পুনরায় লোহার রড দিয়ে তার মাথার পিছনে বাম পাশে আঘাত করেন, যাতে মারাত্মক ক্ষত সৃষ্টি হয়। ইমরান আহমদ ইরান বাঁশের লাঠি দিয়ে মুজিবুরের বাম চোখে আঘাত করে রক্তাক্ত জখম সৃষ্টি করেন। মোঃ এমাদ আহমদ ইমাদ কাঠের ফল (গাছ কাটার যন্ত্র) দিয়ে মুজিবুরের বাম কানের পিছনে আঘাত করেন। অন্যান্য বিবাদীরা তাকে কিল, ঘুষি ও লাথি মেরে শরীরে মারাত্মক জখম করে।
মুজিবুর রহমান লাল ও তার স্ত্রী আছমা বেগমকে উদ্ধার করতে এগিয়ে এলে বিবাদীরা আছমা বেগমকেও কিল, ঘুষি ও ঠেলা মেরে জখম করে। সাকিব, তার বোন কারিন বেগম ও চাঁদনী বেগম এবং প্রতিবেশী সাহিদা বেগম (স্বামী: বিরজ উদ্দিন) সহযোগিতায় তাদের উদ্ধার করে বড়লেখা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত ডাক্তার মুজিবুরের অবস্থা গুরুতর দেখে তাকে সিলেট এম.এ.জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার করেন।
নুরুল আলম সাকিব তার অভিযোগে উল্লেখ করেছেন, বিবাদীরা দা ও লাঠিসোঁটা নিয়ে তার পরিবারকে হত্যা ও এলাকা থেকে উচ্ছেদের হুমকি দিচ্ছে, যার কারণে তারা আতঙ্কিত। তিনি স্থানীয় আপোষ-মীমাংসার চেষ্টা সত্ত্বেও আইনি সহায়তা চেয়ে থানায় অভিযোগ দায়ের করেছেন এবং দ্রুত তদন্ত ও নিরাপত্তার জন্য বড়লেখা থানার অফিসার ইনচার্জের কাছে আবেদন জানিয়েছেন। এ ঘটনায় সাক্ষীর তালিকায় রয়েছেন মুজিবুর রহমান লাল (জখমী), আছমা বেগম (জখমী), সাহিদা বেগম, কারিন বেগম (পিতা: সিরাজ উদ্দিন) এবং চাঁদনী বেগম (পিতা: মুজিবুর রহমান লাল)।