শনিবার, ৯ই মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

৭ জুলাই ২০২৫, ৪:২৩ অপরাহ্ণ

নির্বাচন বিলম্বে দেশ পিছিয়ে পড়বে : সিলেটে মির্জা ফখরুল

আপডেট টাইম : জুলাই ৭, ২০২৫ ৪:২৩ অপরাহ্ণ



শেয়ার করুন

বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, নির্বাচিত সরকারের চেয়ে কোনো সরকার শক্তিশালী হতে পারে না। তিনি সতর্ক করে দিয়ে বলেন, নির্বাচন যতো দেরি হবে, দেশ ততো পিছিয়ে যাবে, বিনিয়োগ আসবে না, মায়েরা-মেয়েরা নিরাপত্তা হারাবে, বিচারব্যবস্থা ও আইনশৃঙ্খলা ভেঙে পড়বে। সোমবার (৭ জুলাই) যুক্তরাজ্য বিএনপির সভাপতি ও বিএনপির চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা এম এ মালিকের আয়োজনে, সিলেট জেলা ও মহানগর বিএনপির সহযোগিতায় অনুষ্ঠিত বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের রুহের মাগফেরাত, চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার সুস্থতা এবং ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের দীর্ঘায়ু কামনা করে দোয়া ও আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

বক্তব্যের শুরুতে মির্জা ফখরুল ইসলাম মরহুম এম সাইফুর রহমান, গুমকৃত এম ইলিয়াস আলী এবং জুলাই-আগস্টের শহীদদের স্মরণ করেন। তিনি নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্যে বলেন, “নির্বাচনের জন্য প্রস্তুতি নিন। মানুষের কাছে যান। মানুষ যাতে বুঝতে পারে বিএনপি ছাড়া আমাদের কোন উপায় নাই।” তিনি জোর দিয়ে বলেন, “সেই জন্য দরকার একটা নির্বাচিত সরকার। যেই সরকারের পেছনে রয়েছে জনগণ।” তিনি অন্তবর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহম্মদ ইউনুসকে ধন্যবাদ জানিয়ে উল্লেখ করেন যে, ড. ইউনুস লন্ডনে তারেক রহমানের সাথে বৈঠক করে ২৬ ফেব্রুয়ারির মধ্যে নির্বাচনের সময় ঠিক করেছেন।

মির্জা ফখরুল ইসলাম বলেন, “আমরা যখন সুযোগ পাই সিলেট আসি। কারণ হচ্ছে, শত শত বছর পূর্বে এখানে ইসলামের আলো ছড়িয়েছেন। সত্য, সুন্দর ও ইনসাফ প্রতিষ্ঠা করেছিলেন সেই শাহজালাল (রহ.) ও শাহপরান (রহ.) দরগায় আমরা আসি।” তিনি সিলেটকে পুণ্যভূমি আখ্যা দিয়ে বলেন, “সিলেট আমাদের কাছে আরো প্রিয় আরেকটা কারণ আছে তা হচ্ছে আমাদের নেতা তারেক রহমান সাহেবের শ্বশুরবাড়ি। সেই জন্য আমরা এখানে আসতে আনন্দ পাই, শান্তি পাই।” তিনি আরও বলেন, “হঠাৎ করে হাসিনা পালায় নাই, বহু মানুষের সংগ্রাম, রক্ত, ত্যাগ মিলিয়ে আমরা ফ্যাসিবাদ মুক্ত হলাম। আমরা তো লড়াই করেছি গণতন্ত্রের জন্য।” তিনি বিএনপির লক্ষ্য ব্যাখ্যা করে বলেন, “আমরা একটা রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করতে চাই যেখানে মানুষ কথা বলতে পারবে, বাকস্বাধীনতা থাকবে, মহিলারা নিরাপত্তা পাবে, তরুণরা কাজের সুযোগ পাবে, মানুষ চিকিৎসার সুযোগ পাবে এমন একটা দেশ আমরা চাই।” তিনি দাবি করেন, “হাসিনা গণতন্ত্র, ভোট, পত্রিকা বন্ধ করেছিলো। মানুষের মৌলিক অধিকার হরণ করেছিল। সেই অবস্থায় শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান বহুদলীয় গণতন্ত্র এনে নতুন সুযোগ তৈরী করে দিয়েছিলেন।” তিনি বলেন বিএনপিই স্বাধীনতা ঘোষণাকারী দল এবং তারা শহীদ জিয়ার স্বপ্নের গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ গড়তে, কর্মসংস্থান সৃষ্টি করতে ও বাংলাদেশকে উন্নত রাষ্ট্র করতে ৩১ দফা দিয়েছে। নেতাকর্মীদের তিনি সতর্ক করে বলেন, “কেউ যাতে আঙ্গুল তুলে না বলতে পারে আমরা জমি দখল করেছি, চাঁদাবাজি করেছি, জায়গা দখল করেছি। জয় আমাদের সুনিশ্চিত, ইনশাআল্লাহ।” তিনি ঘোষণা করেন, “সিলেটের যেখানে বেগম জিয়া সমাবেশ করেছিলেন সেখানে এবার তারেক রহমানকে নিয়ে দেখা হবে।”

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস বলেন, “হাসিনা চলে গেছে তার দোসররা দেশেই আছে। সচিবালয় থেকে জেলা উপজেলায় তারা আছে। তারা ভোট চায় না। নির্বাচন না দিয়ে দীর্ঘদিন ক্ষমতায় থাকতে চাচ্ছে।” তিনি দাবি করেন, “এই সরকারের ভেতরে আ.লীগের আমলারা যা করেছে, তাতে এই সরকার নির্বাচন করতে পারবে না। তবে আমরা আমলাদের এই চক্রান্তকে প্রতিহত করবো, প্রতিরোধ করবো। অতঃপর নির্বাচন আদায় করবো।”

স্থায়ী কমিটির আরেক সদস্য ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু ২০১৪ সাল থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত হাসিনার পতনের জন্য শহীদদের স্মরণ করেন। তিনি বলেন, “আমরা হাসিনা মুক্ত হয়েছি কিন্তু ষড়যন্ত্র মুক্ত হই নাই। বিএনপির বিরুদ্ধে সবাই ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়েছে।” তিনি আওয়ামী লীগের সমালোচনা করে বলেন, “একটি দল যারা মহান মুক্তিযুদ্ধের বিরোধিতা করেছিল তারা একেক দিন একেক কথা বলছে। কখনো বলছে পিআর পদ্ধতিতে নির্বাচন চায়, কখনো বলছে ভোটের পরিস্থিতি হয়নি, কখনো বলছে নির্বাচন হলে অসুবিধা নাই, কখন কি বলে ঠিক নেই। তবে এটা বুঝা যায় যে তারা সুষ্ঠ নির্বাচন চায় না।” তিনি সতর্ক করে বলেন, “আওয়ামী লীগ এখনো লুটের টাকা দিয়ে ঘালা পানিতে শিকার করতে পারে। আমি সবাইকে হুশিয়ার করে দিতে চাই সবাই সচেতন থাকবেন, যাতে এই উদ্দেশ্য হাসিল না হয়।”

স্থায়ী কমিটির সদস্য অধ্যাপক ডা. এ. জেড. এম. জাহিদ হোসেন বলেন, “ষড়যন্ত্র করে বিএনপিকে প্রতিরোধ বা থামিয়ে দেওয়ার ক্ষমতা মহান আল্লাহ ছাড়া কারো নেই। যারা ষড়যন্ত্র করছেন, হুমকি দিচ্ছেন, মনে রাখবেন বিএনপি জনগণের দল।” তিনি আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে অভিযোগ করে বলেন, “এ দেশে আওয়ামী লীগ হচ্ছে একটি অন্যায়, অনাচারের দল। বাকশাল কায়েম করে তারা দেশে গণতন্ত্রকে হত্যা করেছিল।”

সভাপতির বক্তব্যে যুক্তরাজ্য বিএনপির সভাপতি ও বিএনপির চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা এম এ মালিক বলেন, “স্বৈরাচার শেখ হাসিনার পতন ও শাসনের অবসান ঘটাতে প্রবাসে বিএনপি নেতাকর্মীরা নির্ভীকভাবে আন্দোলন সংগ্রামে ভূমিকা রেখেছেন। তারা বিদেশের মাটিতে থেকেও ফ্যাসিস্ট সরকারবিরোধী আন্দোলনকে জাগিয়ে রেখেছিলেন।”

অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন বিএনপির চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির, হাবিবুর রহমান, তাহসিনা রূশদী লুনা, ডা. এনামুল হক চৌধুরী, মুহিদুর রহমান, ডা. শাখাওয়াত হাসান জীবন, আরিফুল হক চৌধুরী, বিএনপি জাতীয় নির্বাহী কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক জিকে গউছ, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক কলিম উদ্দিন মিলন ও মিফতাহ সিদ্দিকী, বিএনপির আন্তর্জাতিক বিষয়ক ব্যারিস্টার এম এ সালাম, বিএনপি কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সহ ক্ষুদ্র ও ঋণ বিষয়ক সম্পাদক বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুর রাজ্জাক, সদস্য নিপুন রায়, ডা. শাহরিয়ার হোসেন চৌধুরী, আবুল কাহের চৌধুরী শামীম, মিজানুর রহমান চৌধুরী, এডভোকেট হাদীয়া চৌধুরী মুন্নী, মহানগর বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক বদরুজ্জামান সেলিম। শুরুতে স্বাগত বক্তব্য রাখেন জেলা বিএনপির সভাপতি আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী ও মহানগর বিএনপির সভাপতি (ভারপ্রাপ্ত) রেজাউল হাসান কয়েস লোদী। অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ইমদাদ হোসেন চৌধুরী ও জেলা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক ইশতিয়াক আহমদ সিদ্দিকী।

শেয়ার করুন