বৃহস্পতিবার, ৪ঠা জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

২৫ মে ২০২৫, ৬:৫১ অপরাহ্ণ

গণঅভ্যুত্থানে আহত মতিনের জীবন সংকটে, চোখের অবস্থা ঝুঁকিপূর্ণ

আপডেট টাইম : মে ২৫, ২০২৫ ৬:৫১ অপরাহ্ণ



শেয়ার করুন

গত বছরের জুলাই-আগস্ট মাসের গণআন্দোলনে আহত সিলেটের গোয়াইনঘাটের আব্দুল মতিনের জীবন এখন সংকটাপন্ন অবস্থায় রয়েছে। তাঁর চোখে গুরুতর আঘাতের কারণে চিকিৎসকরা স্থায়ী ক্ষতির আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন। ঢাকার পিজি হাসপাতালের কেবিনে চিকিৎসাধীন মতিনের অবস্থা নিয়ে শনিবার সিলেট জেলা বিএনপির সভাপতি আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী উদ্বেগ প্রকাশ করেন।

কাইয়ুম চৌধুরী বলেন, “জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থানের মূল লক্ষ্য ছিল একনায়কতন্ত্রের অবসান, ভোটাধিকার প্রতিষ্ঠা ও গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র গঠন। কিন্তু সেই লক্ষ্য আজও পূরণ হয়নি। শহীদ ও আহতদের সঠিক তালিকা তৈরি করতে সরকারের ব্যর্থতা তাদের মানবিক দায়িত্বহীনতার প্রমাণ।” তিনি আরও যোগ করেন, “এটি এখন শুধু রাজনৈতিক ইস্যু নয়, একটি গভীর নৈতিক প্রশ্ন। বিএনপি ক্ষমতায় এলে এই আন্দোলনের সকল শহীদ ও আহতের দায়িত্ব রাষ্ট্র নেবে।”

২০২৪ সালের ১৯ জুলাই সিলেটের বন্দরবাজারে পুলিশের গুলিবিদ্ধ হয়ে মতিন গুরুতর আহত হন। বিএনপির মিছিলে সাংবাদিক তুরাব গুলিবিদ্ধ হওয়ার প্রতিবাদে আয়োজিত বিক্ষোভে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষের সময় তিনি গুলি খান। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, তাঁর চোখ, মাথা ও বুকে গুলির স্প্লিন্টার বিদ্ধ রয়েছে। জাতীয় চক্ষু বিজ্ঞান ইনস্টিটিউটের বিশেষজ্ঞরা তাঁর চোখের স্থায়ী ক্ষতি ও জটিলতার কথা জানিয়েছেন।

মতিনের পরিবার চিকিৎসার উচ্চ ব্যয় ও আর্থিক সংকটে বিপর্যস্ত। তিনি বলেন, “আমি আমার আহত হওয়ার বিচার চাই। যারা আন্দোলনের সুফল ভোগ করছেন, তাদের উচিত ছিল শহীদ ও আহতদের খোঁজখবর নেওয়া।”

কাইয়ুম চৌধুরী সরকারের সমালোচনা করে বলেন, “যারা আজ বিভিন্ন পদে রয়েছেন, তাদের কাছে কি শহীদ-আহতদের তালিকা নেই? আন্দোলনের ভিত্তি যাদের রক্ত, তাদের পরিবার আজ উপেক্ষিত।” তিনি রাজনৈতিক সংস্কার ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের ওপর জোর দিয়ে বলেন, “গণতন্ত্র হরণ করে ক্ষমতা ধরে রাখার চেষ্টা অস্থিরতা বাড়াবে।”

আব্দুল মতিনের সংগ্রাম শুধু একজন আহত ব্যক্তির গল্প নয়, এটি গণতন্ত্র ও ন্যায়ের জন্য লড়াইয়ের প্রতীক। জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থানের শহীদ ও আহতরা জাতির ইতিহাসের গর্বিত অধ্যায় হিসেবে স্মরণীয় হয়ে থাকবেন।

শেয়ার করুন