শুক্রবার, ১৭ই এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

২০ মে ২০২৫, ১১:৪৩ অপরাহ্ণ

জালালাবাদ হোমিওপ্যাথিক মেডিকেল কলেজে কোন অধ্যাপক নেই-এডিসি(শিক্ষা)

আপডেট টাইম : মে ২০, ২০২৫ ১১:৪৩ অপরাহ্ণ



শেয়ার করুন

নিজস্ব প্রতিবেদক : ‘জালালাবাদ হোমিওপ্যাথিক মেডিকেল কলেজে কোন অধ্যাপক নেই’ এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন সিলেটের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) ও কলেজের গভর্নিং বোর্ডের সভাপতি নুরের জামান চৌধুরী।তিনি জানান,

“জালালাবাদ হোমিওপ্যাথিক মেডিকেল কলেজে কোনো অধ্যাপক নেই। যদি কেউ নিজেকে ব্যক্তিগতভাবে অধ্যাপক দাবি করে, তাহলে আমি কী করবো? অবৈধভাবে অধ্যাপক পদবী ব্যবহার করলে কী করণীয়? প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, “যদি কেউ অবৈধভাবে পদবী ব্যবহার করে, তাহলে আপনারা এডিএম-এর বরাবর লিখিত অভিযোগ দায়ের করুন। তিনি মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করে সংশ্লিষ্ট ব্যবস্থা নেবেন।” তিনি আরও বলেন, “আমি ভুয়া আরএমও-এর বিষয়ে গতকাল জানতে পেরেছি। এ বিষয়ে আমি খোঁজখবর নিব।”

সিলেট বিভাগের একমাত্র হোমিওপ্যাথিক মেডিকেল কলেজ, জালালাবাদ হোমিওপ্যাথিক মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল, জুলাই বিপ্লবের পরও ফ্যাসিস্টদের নানামুখী ষড়যন্ত্রের শিকার থেকে মুক্ত হতে পারেনি। যেকোনোভাবে কলেজ দখলে রাখতে মরিয়া তারা।

কলেজে তাদের প্রতারণা ও দুর্নীতির বেশ কিছু অভিযোগ পাওয়া গিয়েছে। এ বিষয়ে গত ১৮ মে, রোববার, সিলেটের জেলা প্রশাসক বরাবরে একটি অভিযোগ পত্র দায়ের করা হয়েছে। যার অনুলিপি কলেজের গভর্নিং বডির চেয়ারম্যান, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) এবং বাংলাদেশ হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসা শিক্ষা কাউন্সিলের রেজিস্ট্রার বরাবর দেওয়া হয়েছে। কলেজের প্রাক্তন/বর্তমান শিক্ষার্থীর ব্যানারে এই অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।

অভিযোগে একটি হোমিওপ্যাথি সংগঠনের দিকে ইঙ্গিত করে বলা হয়েছে, এই সংগঠনে জড়িতরা শুরু থেকেই কলেজের স্বার্থবিরোধী কাজে লিপ্ত এবং তারা বিগত আওয়ামী লীগের বিভিন্ন সংগঠনের পদবিধারী নেতা। যারা বিগত সময়ে আওয়ামী লীগের দাপটে কলেজে আধিপত্য বিস্তার করেছে এবং ৫ আগস্টের বিপ্লবের পর নানাভাবে পরিবেশ ঘোলাটে করে কলেজের সুস্থ পরিবেশ নষ্ট করার ষড়যন্ত্রে লিপ্ত। এই সংগঠনের সভাপতি জালালাবাদ হোমিওপ্যাথিক মেডিকেল কলেজের সাবেক প্রিন্সিপাল ডা. হোসেন রাজা চৌধুরীর দ্বিতীয় পুত্র আবুল হাসান চৌধুরী।

এসময় দুইটি গুরুতর প্রতারণার অভিযোগ আনা হয়েছে, কলেজের একজন শিক্ষকের অধ্যাপক না হয়েও অধ্যাপক পদবি ব্যবহার। অভিযোগ ও সংযুক্তি কাগজপত্রে জানা যায়, কলেজের একজন শিক্ষক ডা. নামর আলী (ওরফে এম. এন. আলী) নিজের চেম্বারের সাইনবোর্ড, ব্যানার ও প্রেসক্রিপশনে দীর্ঘদিন ধরে অধ্যাপক পদবি ব্যবহার করছেন। কিন্তু কলেজের বেতন শিট ও বাংলাদেশ হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসা শিক্ষা কাউন্সিল (সাবেক হোমিওপ্যাথিক বোর্ড) প্রেরিত কলেজের সর্বশেষ হালনাগাদ তথ্য ও বেতন শিটে নামর আলীর পদবি “প্রভাষক” লেখা আছে। এমনকি উক্ত কলেজে অধ্যাপক পদধারী কোনো শিক্ষকই নেই।

এ ব্যাপারে অভিযুক্ত ডা. নামর আলী বলেন, “আমার যখন নিয়োগ হয়েছিল, তখন কোনো ক্যাটাগরি ছিল না। আমাদের নিয়োগের পর এই ক্যাটাগরিগুলো চালু হয়েছে। আমি এবং ডা. আব্দুল হক (জল্লারপাড় বাড়ি) নিজেদের অভিজ্ঞতার কারণে নামের সাথে ‘অধ্যাপক’ পদবি ব্যবহার করি।”

অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, আবু বকর চৌধুরী জাহান নামে একজন আরএমও (আবাসিক মেডিকেল অফিসার) হিসেবে নিয়মিত মাসিক ১০,০০০ টাকা বেতন কলেজের নিজস্ব একটি বেতন শিটে স্বাক্ষর দিয়ে নিতেন। কিন্তু তার কোনো বৈধ নিয়োগ নেই। এমনকি বাংলাদেশ হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসা শিক্ষা কাউন্সিল প্রেরিত কলেজের সর্বশেষ হালনাগাদ তথ্য ও বেতন শিটে আবু বকর চৌধুরী জাহানের নাম নেই।

উভয় ব্যাপারে কলেজের ভারপ্রাপ্ত প্রিন্সিপাল ডা. আবদুল্লাহ আল মুজাহিদ খান বলেন, “প্রতিষ্ঠানে কোনো অধ্যাপক নেই। ডা. নামর আলী অধ্যাপক নন, তিনি সিনিয়র প্রভাষক। প্রতিষ্ঠান পরিচালনায় চারজন আরএমও প্রয়োজন, কিন্তু বর্তমানে আমাদের এখানে মাত্র দুইজন আরএমও রয়েছেন। এই দুইজনের মধ্যে একজন অনুপস্থিত থাকলে আবু বকর জাহান তার দায়িত্ব পালন করেছেন। তিনি এ বিষয়ে বিস্তারিত জানতে প্রতিষ্ঠানে গিয়ে সরাসরি যোগাযোগ করার অনুরোধ করেন।”

অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, ডা. হোসেন রাজা চৌধুরীকে কলেজের প্রতিষ্ঠাতা বলা হলেও কীভাবে তিনি প্রতিষ্ঠাতা হলেন, তার কোনো প্রমাণ কখনো দেখানো যায়নি। এমনকি কলেজের হোল্ডিং নম্বর “স্বপ্নীল ৭২” কলেজের পাশে হোসেন রাজা পরিবারের বাসার নম্বরও একই। কলেজের সীমানার ভেতরে থাকা পানির ট্যাংকি থেকে হোসেন রাজার বাসায় সংযোগ গিয়েছে। হোসেন রাজা চৌধুরী জীবিত অবস্থায় কখনো কলেজের নাম ফলকে প্রতিষ্ঠাতা ব্যবহার করেননি, কিন্তু বিগত আওয়ামী সরকারের সময় তার পরিবারের সদস্যরা নাম ফলকে প্রতিষ্ঠাতা হিসেবে ব্যবহার করেন। কলেজের নাম জালালাবাদ হোমিওপ্যাথিক মেডিকেল কলেজ হলেও নাম ফলকে ১৯৬৩ সালে প্রতিষ্ঠিত “ইস্টার্ন হোমিও কলেজ”-এর নাম সাবেক হিসেবে ব্যবহার করা হয়। অথচ জালালাবাদ হোমিও কলেজ ১৯৬৮ সালে প্রতিষ্ঠিত বলা হচ্ছে। ইস্টার্ন কীভাবে জালালাবাদ হলো এবং হোসেন রাজা কীভাবে প্রতিষ্ঠাতা হলেন, তা তদন্ত সাপেক্ষ।

জালালাবাদ হোমিওপ্যাথিক মেডিকেল কলেজে চলমান প্রতারণা, দুর্নীতি ও ভুয়া পদবির ব্যবহার নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। প্রতিষ্ঠানের ইতিহাস, নিয়োগ প্রক্রিয়া ও সম্পদ ব্যবহার নিয়ে সুষ্ঠু তদন্ত প্রয়োজন বলে অভিযোগকারীরা দাবি করছেন।

শেয়ার করুন