৭ মে ২০২৫, ৭:০৪ অপরাহ্ণ
মাহফুজ কাউসার ছাদি: সিলেটের ঐতিহ্যবাহী জল্লারপাড় জামে মসজিদের আর্থিক অনিয়ম তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশে গড়িমসির অভিযোগ উঠেছে ওয়াকফ প্রশাসনের বিরুদ্ধে। গত ২০ এপ্রিল মসজিদের আর্থিক স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে ওয়াকফ প্রশাসকের কাছে তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশের আবেদন জানানো হলেও এখনো কোনো অগ্রগতি দেখা যায়নি। এতে স্থানীয় মুসল্লি ও সচেতন নাগরিকদের মধ্যে ক্ষোভের সঞ্চার হয়েছে।
মসজিদের উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে যুক্ত মুসল্লি মো. এহসানুল হক তাহের ২০১০ সাল থেকে চলমান পুনর্নির্মাণ ও আর্থিক লেনদেন সংক্রান্ত পূর্ণাঙ্গ হিসাব তদন্ত করে তা প্রকাশের দাবি জানান। ২০২৫ সালের ৬ এপ্রিল সিলেট ওয়াকফ পরিদর্শক কার্যালয়ে ওয়াকফ অধ্যাদেশ ১৯৬২-এর ৩৭ ধারার আওতায় একটি তদন্ত সভা অনুষ্ঠিত হলেও তদন্তের ফলাফল এখনো জনসম্মুখে আনা হয়নি।
ওয়াকফ হিসাব নিরীক্ষক মো. মোস্তাফিজুর রহমান জানান, প্রতিবেদনটি কেন্দ্রীয় ওয়াকফ অফিসে পাঠানো হয়েছে এবং নিয়ম অনুযায়ী তা প্রকাশযোগ্য নয়, তবে যে কেউ অফিসে আবেদন করে প্রতিবেদন দেখতে পারবেন।
মো. এহসানুল হক তাহের অভিযোগ করেন, ওয়াকফ পরিদর্শক এবং মসজিদের মোতাওয়াল্লি ইচ্ছাকৃতভাবে প্রতিবেদন প্রকাশ বিলম্বিত করছেন। তিনি দাবি করেন, মসজিদের দানবাক্স, জুমার দিনের সংগ্রহ এবং উন্নয়ন তহবিলের কোটি টাকার হিসাব সঠিকভাবে প্রদান করা হচ্ছে না। এমনকি মোতাওয়াল্লি কর্তৃক মুসল্লিদের হুমকি এবং হিসাব প্রদানে অস্বীকৃতির কথাও তিনি উল্লেখ করেন।
তার অভিযোগ, ১৯০৬ সালে মসজিদের ওয়াকফ দলিল জালিয়াতির মাধ্যমে প্রস্তুত করে প্রকৃত দাতা মাং উজির জমাদারের নাম বাদ দিয়ে আমিরুল হোসেন গংকে ওয়াকিফ হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে, যা আইনগতভাবে প্রশ্নবিদ্ধ। তিনি এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় আইনি পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
অন্যদিকে, মসজিদের বর্তমান মোতাওয়াল্লি কে এম তফাজ্জুল হোসেন ইমন অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, “আমার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগগুলো সম্পূর্ণ মিথ্যা। আমি নিয়মিত ওয়াকফ এস্টেট কর্তৃপক্ষকে হিসাব দিই। এটি একটি ষড়যন্ত্র, যার উদ্দেশ্য আমার সুনাম ক্ষুণ্ণ করা।”
মুসল্লিদের আশঙ্কা, এই অনিয়ম অব্যাহত থাকলে ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের ওপর মানুষের আস্থা কমে যাবে। তারা অবিলম্বে তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশ, স্বচ্ছ পরিচালনা কমিটি গঠন এবং বর্তমান কমিটির দায়িত্বশীলদের তালিকা প্রকাশের দাবি জানিয়েছেন।
এ বিষয়ে ইতিপূর্বে বিভিন্ন জাতীয় ও স্থানীয় পত্রিকা যেমন—দৈনিক আলোকিত সিলেট, দৈনিক একাত্তরের কথা এবং সবুজ সিলেট-এ প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে।
স্থানীয়রা দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রত্যাশায় রয়েছেন এবং আশা করছেন ওয়াকফ প্রশাসক শিগগিরই কার্যকর পদক্ষেপ নেবেন।