১৩ এপ্রিল ২০২৫, ২:৫৬ অপরাহ্ণ
জগন্নাথপুর প্রতিনিধি: সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুর উপজেলায় হাওরজুড়ে বোরো ধান কাটার ধুম পড়েছে। এতে কৃষকদের মুখে ফুটে উঠেছে আনন্দের হাসি। পাকা ধান কাটতে ব্যস্ত সময় পার করছেন কৃষকরা। যে যেভাবে পারছেন, ধান কাটায় ঝাঁপিয়ে পড়েছেন। কার আগে কে ধান কাটবেন, তা নিয়ে হাওরে রীতিমতো প্রতিযোগিতা চলছে।
ধান কাটতে এ পর্যন্ত হাওরগুলোতে মোট ৭৪টি হারভেস্টার মেশিন মাঠে নেমেছে। এছাড়াও প্রায় ১৫ হাজার ধানকাটা শ্রমিক কাজ করছেন। সবাই চাইছেন, প্রকৃতি অনুকূলে থাকলে দ্রুত ধান কেটে গোলায় তুলতে। ধানকাটা, মাড়াই, শুকানো ও ঘরে তোলা নিয়ে কৃষক-কৃষাণীদের মধ্যে চলছে প্রতিযোগিতা। ফলে হাওরজুড়ে ধানকাটার উৎসবমুখর পরিবেশ তৈরি হয়েছে। এ যেন গ্রামবাংলার চিরচেনা রূপ।
এদিকে, অনেকে জমির মাড়াই করা কাঁচা ধান হাওর থেকেই কম দামে বিক্রি করছেন। ইতোমধ্যে কাঁচা ও শুকনো ধান কিনতে হাওর ও মাঠে ঝাঁপিয়ে পড়েছেন ধান ব্যবসায়ী ও তাদের প্রতিনিধিরা। এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করে কয়েকজন কৃষক জানান, ধানকাটা ও অন্যান্য খরচ মেটাতে তারা কাঁচা ধান বিক্রি করতে বাধ্য হচ্ছেন।
সরেজমিনে উপজেলার নারিকেলতলা নয়াবন্দ হাওরে গিয়ে দেখা যায়, হারভেস্টার মেশিন ও শ্রমিকদের দিয়ে ধানকাটা চলছে। এ সময় কৃষক এনামুল হক জানান, “গত কয়েক দিন আগে ঘূর্ণিঝড় ও হালকা শিলাবৃষ্টি হয়েছিল, এতে ধানের কিছু ক্ষতি হয়েছে। তবে সামগ্রিকভাবে ফলন ভালো হয়েছে। যা পেয়েছি, তাতেই আমরা খুশি। যদিও এবার ধানকাটা ও হাওর থেকে বাড়িতে নেওয়ার পরিবহন খরচ অনেক বেশি মনে হচ্ছে।”
অন্যদিকে, হাওরে অন্যান্য কৃষকরা হারভেস্টার মেশিন দিয়ে ধান কেটে বস্তাবন্দি করছেন। এ বিষয়ে জগন্নাথপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কাওসার আহমেদ জানান, “গত বছরের তুলনায় এবার জগন্নাথপুরে আবাদকৃত জমির পরিমাণ বেড়েছে, তাই ফলনও বেশি হয়েছে। এবার উপজেলার নলুয়ার হাওরসহ সকল হাওর ও বাওরে মোট ২০ হাজার ৪২৩ হেক্টর জমিতে বোরো ধান আবাদ হয়েছে। সরকারি হিসাবে উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ১ লাখ ২৮ হাজার ৪২০ মেট্রিক টন ধান। সময়মতো বৃষ্টিপাত হওয়ায় ফলন ভালো হয়েছে।”
তিনি আরও বলেন, “বর্তমানে হাওরে পুরোদমে ধানকাটা চলছে। এ পর্যন্ত স্থানীয় ৫২টি ও বহিরাগত ২২টি মিলিয়ে মোট ৭৪টি হারভেস্টার মেশিন কাজ করছে। এছাড়া স্থানীয় ৯ হাজার ও বহিরাগত ৬ হাজার মিলিয়ে প্রায় ১৫ হাজার শ্রমিক ধান কাটছেন। আশা করছি, সময়ের আগেই বাম্পার ফলন কৃষকদের গোলায় উঠবে, ইনশাআল্লাহ।”
তবে স্থানীয় কৃষকদের দাবি, সরকারি হিসেবের চেয়েও বেশি জমিতে আবাদ হয়েছে এবং আরও বেশি ধান পাওয়া যাবে।
আলোকিত সিলেট / এস এস