৯ এপ্রিল ২০২২, ৪:২০ পূর্বাহ্ণ
স্টাফ রিপোর্টার
এবার বিশ্বজয়ের স্বপ্ন দেখছেন সিলেটী নারী এথলেট ও তরুণ উদ্যোক্তা নাসরিন বেগম।তিনি এ পর্যন্ত ২৭টি ম্যরাথনে অংশ গ্রহণ করে ২৫টিতে জয়ের শিরোপা অর্জন করেছেন। ঢাকা ম্যরাথন সহ বিভিন্ন ম্যরাথনে চ্যাম্পিয়ন শীপ হয়ে সিলেটের মুখ কে উজ্জ্বল করেছেন। পেশাগত জীবনে তিনি একজন তরুণ ব্যবসায়ী ও উদ্যোক্তা। তিনি ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন এফবিসিসিআই’র সদস্য, সিলেট উইমেন্স চেম্বারের পরিচালক সহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও সংগঠনের সাথে সম্পৃক্ত রয়েছেন। তিনি মানবকল্যাণেও ও কাজ করে যাচ্ছেন। তিনি একজন রোটারিয়ান ও ডায়নামিক লিডারশীপ।তিনি খেলাধুলা ও তাঁর বহুবিধ কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে বিশ্বজয়ের প্রত্যাশা করছেন। এতে তিনি অনেকটাই আশাবাদী। ঢাকা ম্যরাথন সহ বিভিন্ন পদক প্রাপ্তিতে তাঁকে জেলা প্রশাসন,সিলেট সিটি করপোরেশন সহ বিভিন্ন সংস্থা সম্মাননা ও সংবর্ধনা প্রদান করেছে। এর পরিপ্রেক্ষিতে তাঁর সাথে এ প্রতিবেদকের আলাপকালে তিনি নিজের মতো করে নিম্নোক্ত প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেন:এখন আমার আসল পরিচয় হচ্ছে আমি একজন এথলেট আর আমি এই খেলাধুলা কন্টিনিউ করে যাবো, ইনশাল্লাহ। আমি পঁচিশটা ম্যারাথনে চ্যাম্পিয়নশিপ অর্জন করি। আজ পর্যন্ত কেউ তা করতে পারে নাই।এতগুলা চ্যাম্পিয়নশিপ আর কোনো ফিমেল রানার অর্জন করতে পারেনি।সিলেটবাসীকে রিপ্রেজেন্ট করেছি, আমার জন্য গর্বের বিষয়। সামনে দিয়ে আমি আন্তর্জাতিক পর্যায়ে দেশের বাইরে গিয়ে বাংলাদেশের পতাকা উড়িয়ে তিয়ানশি অর্জন করে বাংলাদেশকে পুরস্কার দেবো ইনশাআল্লাহ।
বহুমুখী প্রতিভার অধিকারী এক সংগ্রামী নারী নাসরিন।এ প্রতিবেদকের সাথে আলাপচারিতায় তিনি তাঁর জীবন জয়ের নানামুখী কথা তুলে ধরেন।তিনি বলেন,আমার এ পর্যায়ে আসতে অনেক প্রতিবন্ধকতাকে মোকাবেলা করতে হয়েছে।আমি সফল হয়েছি।তিনি বলেন, আমি এ পর্যন্ত প্রায় দুই বৎসরের ভিতর ২৭ টি ম্যারাথনে অংশগ্রহণ করেছি। তার মধ্যে বঙ্গবন্ধু ইন্টারন্যাশনাল আন্তর্জাতিক ঢাকা ম্যারাথন এ দুই ওভারে আমি পদক পাই এবং আমি তিন লক্ষ টাকা প্রাইজমানি পেয়েছি।বিমান ইন্টারন্যাশনাল ম্যারাথনে আমি চ্যাম্পিয়ন হয়েছি, প্রাইজ পেয়েছি ঢাকা-লন্ডন টাকা রিটার্ন টিকেট। আর সবগুলো ম্যারাথনের মধ্যে আমি পঁচিশটা ম্যারাথনে চ্যাম্পিয়নশিপ অর্জন করি। আজ পর্যন্ত কেউ তা করতে পারে নাই। এতগুলা চ্যাম্পিয়নশিপ আর কোনো ফিমেল রানার অর্জন করতে পারেনি। সিলেটবাসীকে রিপ্রেজেন্ট করেছি আমার জন্য গর্বের বিষয়। সামনে দিয়ে আমি আন্তর্জাতিক পর্যায়ে দেশের বাইরে গিয়ে বাংলাদেশের পতাকা উড়িয়ে তিয়ানশি অর্জন করে বাংলাদেশকে পুরস্কার দেব, ইনশাআল্লাহ।আমার রানিং জগত মাত্র দুই বৎসর।এই দুই বৎসরের এতগুলা এচিভমেন্ট অর্জন করব ,তা আমি ভাবতেও পারিনি।
নাসরিন জানান,আমাকে সিলেটের আমাদের আগের ডিজিএম স্যার, এখন যে নতুন ডিসি আসছেন উনি ও উনার ওয়াইফ, ক্রীড়া সংস্থার সেক্রেটারি ও সভাপতি, মাম্মি আপা ও সালমা আপা এবং আমাদের সিলেটের মেয়র আরিফ ভাই আমাকে সংবর্ধনা দেন।বঙ্গবন্ধু ইন্টারন্যাশনাল ম্যারাথনে জয়ী হয়ে আসার পর সিলেটের প্রত্যেকটি পেপারে আমার ছবি দিয়ে নিউজ প্রকাশ করে আমাকে সম্মান জানানো হয়েছে। আমি আমার প্রত্যেক সাংবাদিক ভাই-বোনদের কাছে অনেক বেশী কৃতজ্ঞ।
বলা যায় অদম্য এক সাহসী নারী নাসরিন।জীবনের অনেক ঘাত-প্রতিঘাত সহ্য করে সামনে এগোচ্ছেন তিনি।তিনি বলেন, আমার একদম কম বয়সে বিয়ে হয়ে যায়। আমার বাবার বাড়ি শ্রীমঙ্গল। তারপর সিলেট বিয়ে হয়ে আসি। প্রথমত রাস্তাঘাট মানুষজন কাউকে চিনতাম না। শুধু শ্বশুর বাড়ীর লোক ছাড়া। পরপর দুইটা বাচ্চা হয়ে গেল। তারপর তাদেরকে স্কুলে দেওয়া হল। স্কুলে দেয়ার পর ভাবলাম একটা কিছু করি বসে বসে সময় নষ্ট না করে। একটা কিছু করলে ভালো হবে, মানুষের সাথে পরিচয় বাড়বে। তাই আমি একটা জিমে যাইতাম। এখানে দুই বৎসর জিম করি। তারপর জিম গুলা নিজেই শিখে ফেলি। পরে আমি চিন্তা করলাম আমি নিজেই তো একটা জিম সেন্টার খুলতে পারি। তাই আমি আমাদের বিল্ডিঙের তিনতলায় লেডিস জিম সেন্টার খুলি আজ থেকে ৭ বছর আগে। প্রথম প্রথম এলাকার মুরুব্বিরা আলোচনা করে জিম নেইনি বলে অনেকে অনেক কথাবার্তা বলেছেন। আমি এগুলা কানে জায়গা দেয়নি। আমি আমার এগিয়ে গিয়েছি, মহিলাদেরকে প্রশিক্ষণ দিয়েছি। কিভাবে নিজেকে ফিট রাখতে হয়।জিম করলে স্বাস্থ্য কমে,সুস্থ থাকা যায়। অসুখ-বিসুখ থেকে তো মুক্ত থাকা যায়।
তিনি জানান,এরপর আমি সাহস নিয়ে আরো এগিয়ে যাওয়ার ইচ্ছা করি।তারপর আমি কি করলাম সিলেট উইমেন চেম্বারের সদস্য হলাম ।হওয়ার পর আমার অ্যাক্টিভিটিজ দেখে আমাদের প্রেসিডেন্ট স্বর্ণলতার রায় তিনি আমাকে ডাইরেক্টরশীপ দেন। তারপরে আমি এফবিসিসিআই এর জিবি মেম্বার হলাম। পরে আস্তে আস্তে সোশ্যাল একটিভিটিজির সাথে জড়িত হই ।পাশাপাশি আমি সিলেট জেলা মহিলা আওয়ামী লীগের সদস্য, আমি সিলেট রাইজিং স্টার রোটারী ক্লাবের সেক্রেটারি, জালালাবাদ এসোসিয়েশনের আইস মেম্বার হই, নারী জাগরণে অর্থ পরিষদ এর প্রচার সম্পাদক , সিলেট উইমেন্স চেম্বারের একজন পরিচালক হই।এখন আমার আসল পরিচয় হচ্ছে আমি একজন এথলেট আর আমি এই খেলাধুলা কন্টিনিউ করে যাবো, ইনশাল্লাহ।
নাসরিনের পড়াশোনা শ্রীমঙ্গলেই হয়েছে। তিনি এসএসসি দিয়েছেন শ্রীমঙ্গলে, মঙ্গোল গার্লস হাই স্কুল থেকে। ইন্টারমিডিয়েট পড়েছেন শ্রীমঙ্গল গভর্ণমেন্ট কলেজে। তিনি সকলের দোয়া চান।