৭ জানুয়ারি ২০২৬, ৮:০৪ অপরাহ্ণ
সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুর উপজেলায় চলমান শীত ও ঘন কুয়াশার মধ্যেও হাওরজুড়ে বোরো ধান আবাদ কার্যক্রম চলমান রয়েছে। উপজেলার বিভিন্ন হাওরে জমি প্রস্তুত, বীজতলা থেকে চারা উত্তোলন, সেচ প্রদান ও ধান রোপণের কাজ একযোগে এগিয়ে চলছে।
স্থানীয় কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, প্রচন্ড শীতের কারণে মাঠে কাজ করা শ্রমিকের সংখ্যা কমে গেছে। এতে দিনমজুরদের পারিশ্রমিক বেড়েছে। গত বছর যেখানে শ্রমিকের দৈনিক মজুরি ছিল ৪০০ থেকে ৫০০ টাকা, সেখানে চলতি মৌসুমে তা ৬০০ থেকে ৭০০ টাকায় পৌঁছেছে। তবুও প্রয়োজন অনুযায়ী শ্রমিক পাওয়া যাচ্ছে না। এ অবস্থায় অনেক কৃষক পরিবারের সদস্যদের নিয়েই জমিতে কাজ করছেন।
হাওর এলাকায় বোরো চাষের সময়সীমা সীমিত হওয়ায় কৃষকদের মধ্যে দ্রুত রোপণ শেষ করার তৎপরতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। এর ফলে জমি চাষে ব্যবহৃত ট্রাক্টরের চাহিদা বৃদ্ধি পেয়েছে। কৃষকদের তথ্য অনুযায়ী, গত মৌসুমে প্রতি কেদার জমি হালচাষের খরচ ছিল ৫০০ থেকে ৬০০ টাকা, যা বর্তমানে বেড়ে ১ হাজার থেকে ১ হাজার ২০০ টাকায় দাঁড়িয়েছে। তবুও ট্রাক্টর সংকটের কারণে অনেক কৃষককে অপেক্ষা করতে হচ্ছে।
এছাড়া হাওরের কিছু উঁচু জমিতে পানি সংকট দেখা দিয়েছে। জমির সমতল না হওয়ায় কৃষকরা অতিরিক্ত ব্যয়ে দীর্ঘ পাইপলাইন ব্যবহার করে সেচযন্ত্রের মাধ্যমে পানি সংগ্রহ করে আবাদ কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন।
৭ জানুয়ারি বুধবার উপজেলার বিভিন্ন হাওর এলাকা ঘুরে দেখা যায়, অধিকাংশ জমিতে বোরো চাষের কাজ চলছে এবং কৃষকরা সময়মতো রোপণ সম্পন্ন করতে ব্যস্ত সময় পার করছেন।
জগন্নাথপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কাওসার আহমেদ জানান, প্রচন্ড শীত ও ঘন কুয়াশার কারণে আবাদ কার্যক্রম কিছুটা ধীরগতির হলেও পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে কাজের গতি বাড়বে। চলতি মৌসুমে জগন্নাথপুর উপজেলায় নলুয়ার হাওরসহ মোট ১২টি হাওর এবং নন হাওর এলাকায় ২০ হাজার ৪৫০ হেক্টর জমিতে বোরো আবাদ করার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। ইতোমধ্যে হাওর এলাকায় প্রায় ৭৫ শতাংশ এবং নন হাওর এলাকায় প্রায় ৫০ শতাংশ জমিতে রোপণ সম্পন্ন হয়েছে।
তিনি আরও জানান, আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে আগামী বৈশাখ মাসে কৃষকরা ভালো ফলন পেতে পারেন। এ মৌসুমে উপজেলায় মোট ১ লক্ষ ৫১০ মেট্রিক টন ধান উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।