২৫ ডিসেম্বর ২০২৫, ৩:২৯ পূর্বাহ্ণ
সিলেটের জৈন্তাপুর উপজেলার দরবস্ত ইউনিয়নের তেলিজুরি এলাকায় বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট উদ্ভাবিত উচ্চফলনশীল ধান ব্রিধান ১০৩ এর মাঠ দিবস অনুষ্ঠিত হয়েছে। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উদ্যোগে আয়োজিত এই মাঠ দিবসে জাতটির ফলন, সম্ভাবনা ও ভবিষ্যৎ সম্প্রসারণ নিয়ে কৃষকদের মধ্যে ব্যাপক আগ্রহ লক্ষ্য করা যায়।
বোরো মৌসুমে এক সময়ের জনপ্রিয় ধান ব্রিধান ২৯ এবং FL378 এর সংকরায়নের মাধ্যমে উদ্ভাবন প্রক্রিয়ার সূচনা হয়। পরবর্তী সময়ে F1 জেনারেশনে এন্থার কালচার পদ্ধতি প্রয়োগ করে হোমোজাইগাস লাইন তৈরি করা হয়। এর কৌলিক সারি নির্বাচন ও স্থায়িত্ব যাচাইয়ের জন্য বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউটে টানা তিন বছর ফলন পরীক্ষা চালানো হয়। এরপর ২০১৮ সালে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে কৃষকের মাঠে পরীক্ষামূলক আবাদে সন্তোষজনক ফলাফল পাওয়ার পর আমন মৌসুমের জন্য ২০২২ সালে জাতটি ব্রিধান ১০৩ নামে আনুষ্ঠানিকভাবে ছাড়পত্র পায়। জৈন্তাপুর উপজেলায় ২০২৪ সালের আমন মৌসুম থেকে প্রদর্শণীর মাধ্যমে এই জাতের প্রচার ও প্রসার কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।
মাঠ দিবসটি অনুষ্ঠিত হয় সোমবার ২২ ডিসেম্বর ২০২৫, যেখানে উৎপাদিত জমি সরাসরি পরিদর্শনের পাশাপাশি পার্শ্ববর্তী ব্লক ও এলাকার কৃষকদের অংশগ্রহণে ফলন প্রদর্শন করা হয়। শতাধিক ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষক-কৃষাণীর উপস্থিতিতে আয়োজিত অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন উপজেলা কৃষি অফিসার কৃষিবিদ মোহাম্মদ হুমায়ুন দিলদার। উপসহকারী কৃষি অফিসার মোহাম্মদ জাবেল খলিল চৌধুরীর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানের শুরুতে সংশ্লিষ্ট ব্লকের উপসহকারী কৃষি অফিসার ও অনুষ্ঠান ব্যবস্থাপক সালেহ আহমেদ স্বাগত বক্তব্য দেন এবং ব্রিধান ১০৩ এর আবাদ কৌশল সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করেন। তিনি জানান, নমুনা শস্য কর্তনের মাধ্যমে প্রতি হেক্টরে গড় ফলন পাওয়া গেছে ৫ দশমিক ৩৫ মেট্রিক টন, যা বিঘাপ্রতি প্রায় ১৭ দশমিক ৯০ মণের সমান।
অনুষ্ঠানে সাবেক জনপ্রতিনিধিসহ কৃষি বিভাগের কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা উপস্থিত ছিলেন। পার্শ্ববর্তী ব্লক ফতেপুর ১ ও ২ এ দায়িত্বপ্রাপ্ত উপসহকারী কৃষি অফিসার ভানু চন্দ্র নাথও মাঠ দিবসে অংশ নেন। জেলা পর্যায় থেকে আগত প্রধান অতিথি কৃষিবিদ দেবল সরকার, অতিরিক্ত উপপরিচালক শস্য, উপস্থিত কৃষকদের সঙ্গে মুক্ত আলোচনায় অংশগ্রহণ করেন এবং জাতটির উৎপাদন সম্ভাবনা ও কৃষক পর্যায়ে বীজ সংরক্ষণের গুরুত্ব তুলে ধরেন।
প্রদর্শনী প্লটের কৃষক আক্তার আহমেদের সঙ্গে কথা বলে প্রধান অতিথি প্রাপ্ত ফলন সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি জানান, এই ফলনে তিনি অত্যন্ত সন্তুষ্ট। তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন যে, মাঠে উৎপাদিত ধান তিনি পরবর্তী মৌসুমে বীজ হিসেবে সংরক্ষণ ও বিতরণ-বিক্রয় করবেন, যাতে অন্যান্য কৃষকরাও এই জাতের সুফল পেতে পারেন।
সমাপনী বক্তব্যে উপজেলা কৃষি অফিসার মোহাম্মদ হুমায়ুন দিলদার এই অঞ্চলে রবি মৌসুমে অন্যান্য ফসল, বিশেষ করে তেল ফসল আবাদে সম্ভাবনা, প্রয়োজনীয়তা ও আধুনিক আবাদ কৌশল সম্পর্কে কৃষকদের অবহিত করেন। তিনি কৃষকদের সার্বিক পরামর্শ ও সহযোগিতা প্রদানের আশ্বাস দেন এবং প্রধান অতিথিসহ মাঠ দিবস আয়োজনে সংশ্লিষ্ট সকলকে ধন্যবাদ জানিয়ে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘোষণা করেন।
এই মাঠ দিবসের মাধ্যমে ব্রিধান ১০৩ এর ফলন ও সম্ভাবনা সরাসরি দেখার সুযোগ পেয়ে কৃষকরা নতুন করে উৎসাহিত হয়েছেন। কৃষি বিভাগের সংশ্লিষ্টরা আশা প্রকাশ করেন, সঠিক ব্যবস্থাপনা ও বীজ সংরক্ষণের মাধ্যমে এই উচ্চফলনশীল জাতটি জৈন্তাপুরসহ আশপাশের এলাকায় আমন ধান উৎপাদনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।