16 August 2022, 4:40 PM
নিউজ ডেস্ক :: সারাদেশের মতো বেতন বাড়ানোর দাবিতে সিলেটে অনির্দিষ্টকালের জন্য কর্মবিরতি পালন করেছেন আলীবাহার চা বাগানের শ্রমিকরা।
গত শনিবার (১৩ আগস্ট) সকালে সিলেটের লাক্কাতোড়া চা বাগানের প্রবেশমুখে এসে জড়ো হন চা শ্রমিকরা।এ সময় তারা বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন।
বাংলাদেশ চা শ্রমিক ইউনিয়নের দাবি দাওয়া নিয়ে গত বৃহস্পতিবার চা বাগানগুলোর মালিকপক্ষ ও শ্রমিকদের নিয়ে সমঝোতা বৈঠক করে বিভাগীয় শ্রম অধিদপ্তর। মালিকপক্ষের কেউ বৈঠকে আসেননি। এতে কোনো সিদ্ধান্ত ছাড়াই বৈঠক শেষ হয় ফলে গত শনিবার সকাল ছয়টা থেকে দেশের সবগুলো চা বাগানের শ্রমিকরা অনির্দিষ্টকালের ধর্মঘট শুরু করেন। আলীবাহার চা বাগানের পঞ্চায়েত চা শ্রমিকদের মধ্যে বক্তব্য দেন
সভাপতি সামাচরন গোয়ালা, কৃষ্ণ গোয়ালা, প্রদীপ নায়েক রিনা, নায়েক, দুলাল মিয়া ফারুক,মিয়া,নাজম বেগম জববার আহমদ, রেহেনা বেগম ছায়া মুনডা, পারভিন আক্তার ও আনন্দ বাড়াইক।
বক্তব্যে তাঁরা বলেন-আমাদের মৌলিক চাহিদা হচ্ছে অন্ন,বস্ত্র,বাসস্থান, চিকিৎসা ও শিক্ষা কিন্তু এই আলীবাহার চা বাগানের মধ্যে একটিও প্রাথমিক বিদ্যালয় ও উচ্চবিদ্যালয় নেই।আমাদের সন্তানরা স্কুলে যেতে হলে তারাপুর চা বাগানে যেতে হয়। তারাপুর চা বাগান আমাদের আলীবাহার হইতে অনেক দূরে অবস্থান করায় আমাদের সন্তানকে একা পাঠানো যায় না, আমরা হচ্ছি শ্রমজীবী মানুষ কাজ করলে টাকা পাই তাও সেই টাকায় আমাদের পরিবার চলে না।
বর্তমানে নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের দাম অনেক বেশি। এখন আমাদের তেল আনলে চাল আনতে পারি না তাই দৈনিক মজুরি ১২০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৩০০ টাকা করার দাবিতে আমরা গত ৮ আগস্ট থেকে আন্দোলন করে আসছি। আমাদের দাবি পূরণ না হওয়ায় পর্যন্ত আমরা কর্মবিরতি পালন করবো।
আলীবাহার চা বাগানে যে কমিউনিটি ক্লিনিক আছে কিন্তু সেবক সেবিকা নেই,একজন আছেন তিনি সকাল ৯টায় আসেন ও ১১ টায় চলে যান পরে কেউ আসলে কমিউনিটি ক্লিনিক বন্ধ থাকে।
আমাদের আলীবাহার চা বাগানে গর্ভবতী মহিলা ও রুগীকে বহনকারী গাড়ি নেই।মালিক পক্ষকে বললে উনারা আমলে নেন নি।
নেতৃবৃন্দ জানান,আমাদের বাগানে শ্রমিকদের কিছু হলে মালিক পক্ষকে চিকিৎসা ভাড় গ্রহন করার কথা থাকলেও ডাক্তারের দেওয়া কাগজ পত্র নিয়ে মালিক পক্ষের কাছে গেলে ৩০ হাজার টাকা খরচ হলে উনারা পাচঁ হাজার টাকা দেন।যে জায়গায় সম্পূর্ণ চিকিৎসা খরচ মালিক পক্ষ গ্রহন করার কথা।
আমরা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দৃষ্টি আকর্ষণ করছি আপনি আমাদের দিকে তাকান।বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বলেছিলেন এই বাংলার মাটিতে কেউ ক্ষুধার্ত থাকবে না! আজ এই আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় আছে আমরা কেনো ক্ষুধার্ত থাকব।আমরা চাই ক্ষুদা মুক্ত দেশ হোক।আমাদের দিকে আপনার সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিন মাননীয় প্রধানমন্ত্রী।