11 July 2026, 4:32 PM
জৈন্তাপুর প্রতিনিধি:ইমাম উদ্দিন
সিলেটের জৈন্তাপুর উপজেলার ১নং নিজপাট ইউনিয়নের রুপচেং উত্তর মহল্লায় তিন মাসের অন্তঃসত্ত্বা গৃহবধূ ফারজানা আক্তার শিমু (২৩)-এর রহস্যজনক মৃত্যুকে কেন্দ্র করে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। এ ঘটনায় নিহতের বাবা মেয়েকে দীর্ঘদিন ধরে নির্যাতনের অভিযোগ তুলেছেন। ঘটনার পর জিজ্ঞাসাবাদের জন্য নিহতের স্বামী রাসেল আহমদ (২৮) ও শাশুড়িকে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। নিহতের পরিবার এ ঘটনায় মামলা করার প্রস্তুতি নিচ্ছে বলে জানা গেছে।
নিহতের বাবা সেলিম আহমদ জানান, প্রায় ছয় মাস আগে রুপচেং উত্তর মহল্লার বাসিন্দা মৃত সামসুল ইসলামের ছেলে রাসেল আহমদের সঙ্গে তার মেয়ের বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকেই যৌতুকের দাবি, মানসিক নির্যাতন এবং বিভিন্ন বিষয়—বিশেষ করে ইফতারের সামগ্রী ও সম্প্রতি দেওয়া আম-কাঁঠাল নিয়ে এছাড়াও বাড়ি নির্মাণের টাকার জন্য শ্বশুরবাড়ির লোকজন প্রায়ই কটূক্তি করতেন ও চাপ দিতেন। এসব বিষয় নিয়ে স্বামী ও শ্বশুরবাড়ির সদস্যদের সঙ্গে পারিবারিক কলহ লেগেই থাকত বলে তিনি অভিযোগ করেন।
তিনি আরও জানান, গত ৬ জুলাই শিমুকে তার স্বামী ও শাশুড়ি চিকিৎসার জন্য জৈন্তাপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে উভয় পক্ষের অভিভাবকদের মধ্যে মতবিরোধ সৃষ্টি হলে শিমু অসুস্থ অবস্থায় বাবার বাড়িতে চলে যান।
পরে পরিবারের সদস্যরা চিকিৎসা করিয়ে গত ১০ জুলাই উভয় পরিবারের সম্মতিতে বিকেলে তাকে আবার শ্বশুরবাড়িতে পৌঁছে দেন।
নিহতের পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী,শনিবার (১১ জুলাই) সকাল প্রায় ৯টার দিকে শিমুর স্বামী রাসেল আহমদ ফোন করে জানান, শিমু ঘরের দরজা বন্ধ করে গলায় ফাঁস দিয়েছেন। খবর পেয়ে পরিবারের সদস্যরা হাসপাতালে গেলে তাদের দাবি, প্রায় ১০–১৫ মিনিট পর শিমুকে সেখানে আনা হয়। কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করলে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জৈন্তাপুর মডেল থানায় খবর দেয় এবং পুলিশ হাসপাতালে ও পরে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়।
পরিবারের আরও অভিযোগ, তাদের জানানো হয়েছে শিমু তার স্বামীর চাচার বসতঘরে গলায় ফাঁস দিয়েছেন। তবে তারা ঘটনাটিকে সন্দেহজনক মৃত্যু বলে দাবি করে সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন এবং দোষীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
অন্যদিকে,শ্বশুরবাড়ির পক্ষ নিহতের পরিবারের আনা নির্যাতনের অভিযোগ অস্বীকার করেছে।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, শনিবার সকাল আনুমানিক ১০টার দিকে রাসেল আহমদের বসতঘরের একটি কক্ষে সিলিং ফ্যানের সঙ্গে ওড়না পেঁচিয়ে শিমু ঝুলন্ত অবস্থায় ছিলেন বলে প্রাথমিকভাবে জানা যায়। পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করেছে এবং মরদেহের ময়নাতদন্তের জন্য সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠিয়েছে। এ ঘটনায় প্রয়োজনীয় আইনগত কার্যক্রম চলমান রয়েছে।
এ বিষয়ে জৈন্তাপুর মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ মাহবুবুর রহমান মোল্লা বলেন,খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল ও হাসপাতালে গিয়ে প্রয়োজনীয় আইনগত কার্যক্রম সম্পন্ন করেছে। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। মৃত্যুর প্রকৃত কারণ উদঘাটনে তদন্ত চলছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন ও তদন্তের ভিত্তিতে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”
নিহত ফারজানা আক্তার শিমুর বাড়ি জৈন্তাপুর উপজেলার ১নং নিজপাট ইউনিয়নের কমলাবাড়ি গ্রামে।তার স্বামীর বাড়ি একই ইউনিয়নের রুপচেং উত্তর মহল্লায়।
এদিকে,নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে এ ঘটনায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে বলে পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে।