,

6 November 2026, 2:13 AM

গোয়াইনঘাটে কচুয়া জলমহাল দখল ও ইজারা নিয়ে দুই পক্ষের উত্তেজনা, সংঘর্ষের আশঙ্কা

আপডেট টাইম : November 6, 2026 2:13 AM



শেয়ার করুন

নিজস্ব প্রতিবেদক, গোয়াইনঘাট :: সিলেটের গোয়াইনঘাট উপজেলার পশ্চিম জাফলং ইউনিয়নের কচুয়া জলমহাল ইজারা নেওয়া এবং মালিকানা দাবিকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে তীব্র উত্তেজনা বিরাজ করছে। হোয়াউরা মৎস্যজীবী সমবায় সমিতি এবং স্থানীয় এক ব্যক্তির বিরোধের জেরে যেকোনো সময় রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, চলতি বছরের ৫ জানুয়ারি গোয়াইনঘাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে পশ্চিম জাফলং ইউনিয়নের লংলাখাল মৌজার কচুয়া বিলের (এসএ-৩১০ ও বিএস-৪৪৫ দাগ) ইজারা বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়। নিয়মানুযায়ী প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে তিন বছরের জন্য জলমহালটি ইজারা নেন হোয়াউরা মৎস্যজীবী সমবায় সমিতির সভাপতি হাবিবুর রহমান।

সম্প্রতি সমিতির লোকজন জলমহালটিতে মাছ ধরতে গেলে বিরোধের সূত্রপাত হয়। রাজনগর গ্রামের মৃত মুহিবুর রহমানের ছেলে মো. আলী আফজল জলমহালটির একটি অংশের মালিকানা দাবি করে ইজারা বাতিলের আবেদন জানান। গত সোমবার (২ নভেম্বর) তিনি এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে লিখিত দরখাস্ত দেন।

আলী আফজলের দাবি, ৪৯/২০০৭ নম্বর মামলার রায় ও ডিক্রি এবং ২২ ফেব্রুয়ারি ১৯৮৪ তারিখের ৪৮৩/১৯৮৪ নম্বর রেজিস্ট্রি দলিলের মাধ্যমে এসএ ৩৫৯ নম্বর দাগের ৩ দশমিক ১০ একর জমির মালিকানা তাঁর বাবা মৃত মুহিবুর রহমানের নামে প্রতিষ্ঠিত হয়। পরবর্তী সময়ে রিভিশনাল জরিপে জমিটি বিএস ৪৮৮ নম্বর দাগের ২২৬ নম্বর খতিয়ানে ৪ দশমিক ৬০ একর হিসেবে তাঁর বাবার নামে চূড়ান্তভাবে রেকর্ড হয়। বাবার মৃত্যুর পর থেকে তাঁরা ওই জমিতে ফিশারি তৈরি করে মাছ চাষ করে আসছেন।

তাঁর অভিযোগ, স্থানীয় তহসিলদারের ভুল তথ্যের কারণে তাঁদের পৈতৃক ও রেকর্ডীয় জমি ভুলবশত সরকারি জলমহাল হিসেবে ইজারা দেওয়া হয়েছে। সম্প্রতি ইজারাদার পক্ষের লোকজন ফিশারিতে থাকা কয়েক লাখ টাকার মাছ ধরার উদ্দেশ্যে সেচযন্ত্র বসিয়ে পানি নিষ্কাশন শুরু করেন এবং দেশীয় অস্ত্র নিয়ে তাঁদের ওপর হামলার চেষ্টা চালান। এ বিষয়ে তিনি নিজের সম্পত্তি রক্ষায় প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ ও সহযোগিতা কামনা করেছেন।

অন্যদিকে, সরকারি নিয়ম মেনে জলমহাল ইজারা নেওয়ার দাবি করে হোয়াউরা মৎস্যজীবী সমবায় সমিতির সভাপতি হাবিবুর রহমান বলেন, “সরকারের নির্ধারিত ইজারামূল্য পরিশোধ করেই আমরা তিন বছরের জন্য কচুয়া বিল বৈধভাবে ইজারা নিয়েছি এবং সে অনুযায়ী ভোগদখল করে আসছি।”

এ বিষয়ে মো. আলী আফজল জানান, পৈতৃক জমিতে ভুল তথ্যের ভিত্তিতে ইজারা দেওয়ার বিষয়টি জানিয়ে তিনি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, সহকারী কমিশনার (ভূমি) এবং থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে প্রশাসনের পদক্ষেপ সম্পর্কে জানতে চাইলে গোয়াইনঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ওমর ফারুক বলেন, “কচুয়া জলমহাল নিয়ে দুই পক্ষের বিরোধের খবর আমরা পেয়েছি। আইনশৃঙ্খলার অবনতি রোধে এবং বিরোধ নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত সেখানে সেচযন্ত্র বন্ধ রাখার জন্য বিট কর্মকর্তাকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।”

গোয়াইনঘাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রতন কুমার অধিকারী বলেন, “পশ্চিম জাফলং ইউনিয়নের কচুয়া জলমহাল নিয়ে একটি লিখিত আবেদন পাওয়া গেছে। বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং সত্যতা সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

শেয়ার করুন