30 October 2026, 8:20 PM
সিলেটের জাফলংয়ে ঘুরতে আসা দুই নারীকে উচ্চ বেতনের চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে ভারতে পাচারের চেষ্টার অভিযোগে দায়ের করা মামলার এজাহারনামীয় আসামি ডিবির হাওর গ্রামের মৃত ছায়েদ আলীর ছেলে হানিফ মিয়াকে (৩৫) গ্রেপ্তার করেছে জৈন্তাপুর মডেল থানা পুলিশ।
বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) রাত ৯টা ৫০ মিনিটের দিকে জৈন্তাপুর উপজেলার আলুবাগান এলাকা থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়।
জৈন্তাপুর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহবুবুর রহমান মোল্লা গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, গ্রেপ্তার আসামিকে শুক্রবার পুলিশ পাহারায় আদালতে সোপর্দ করা হবে। তাঁর বিরুদ্ধে ইতিপূর্বে মানব পাচারসংক্রান্ত আরও পাঁচটি মামলা রয়েছে। সীমান্ত এলাকায় মানব পাচার প্রতিরোধে পুলিশের জিরো টলারেন্স নীতি অব্যাহত থাকবে বলেও জানান তিনি।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়,গত ৮ অক্টোবর নড়াইলের সদর থানাধীন বাহিরগ্রাম এলাকার বাসিন্দা সাগরিকা বেগম (৩৯) সিলেটে হযরত শাহজালাল (রহ.)-এর মাজার শরিফ জিয়ারত করতে আসেন।সেখানে নাছরিন বেগম নামে এক নারীর সঙ্গে তাঁর পরিচয় হয়। পরে তাঁরা একসঙ্গে জাফলং ঘুরতে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন।
অভিযোগ অনুযায়ী, জাফলং পৌঁছে দেওয়ার কথা বলে তাঁদের একটি মাইক্রোবাসে তোলা হয়। পরে ভারতে উচ্চ বেতনের চাকরির প্রলোভন দেখানো হয়। একপর্যায়ে রাত সাড়ে ১১টার দিকে তাঁদের জৈন্তাপুর উপজেলার নিজপাট ইউনিয়নের ডিবির হাওর এলাকার শাপলা বিলে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে হানিফ মিয়াসহ কয়েকজন তাঁদের ভারতে পাঠানোর জন্য বিভিন্ন ধরনের প্রলোভন দেখান বলে মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।
একপর্যায়ে ভারতে পাচারের আশঙ্কায় দুই নারী কৌশলে ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে আসেন। পরে সাগরিকা বেগম জৈন্তাপুর মডেল থানায় মামলা দায়ের করেন।
এ ঘটনায় জৈন্তাপুর মডেল থানায় দায়ের করা মামলার এফআইআর নম্বর ৮, জিআর নম্বর ২৪০, তারিখ ৯ অক্টোবর ২০২৬। মামলাটি মানব পাচার ও অভিবাসী চোরাচালান প্রতিরোধ ও দমন আইন, ২০২৬-এর ৬ ও ৭ ধারায় করা হয়েছে।
এদিকে, স্থানীয়দের অভিযোগ, হানিফ মিয়া ছাড়াও আরও কয়েকজন মানব পাচারের সঙ্গে জড়িত থাকতে পারেন। তাঁদের দাবি,এ ধরনের কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত অন্যদেরও শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা প্রয়োজন।