24 May 2026, 4:39 PM
গোলজার আহমদ হেলাল
আয়শা সিদ্দিকা প্রিয়া, কাকলী বেগম ও লিজা আক্তার।তিনজন প্রতিশ্রুতিশীল নারী।যাদের সাহসী ও মানবতামূলক কার্যক্রম প্রশংসার দাবি রাখে।নতুন প্রজন্মের “দ্যা লেডি উইথ দ্যা ল্যাম্প” হচ্ছেন প্রিয়া,কাকলি ও লিজা।তারা ধীরে ধীরে এমনই হয়ে উঠছেন।
এখন যৌবন যার,যুদ্ধে যাওয়ার শ্রেষ্ঠ সময় তার।কখনো কখনো ইতিহাসের দায় থেকে কিছু লিখতে হয়।নতুবা সত্য অতীত থেকে মানুষ হয় বঞ্চিত।কোন কোন সময় কিছু সংখ্যক মানুষের অসাধারণ ভাবনা, কিছু কার্যক্রম,মহৎ ও মানবতাবাদী কর্ম ইতিহাসে আপনা আপনি স্থান করে নেয়। সামাজিক সমস্যা সমাধান, দুর্যোগকালে ও সংকটময় পরিস্থিতিতে মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে ইতিহাসের এক অমুল্য খন্ডিত অংশে পরিণত হয় তারা।হয়ে যান অবিস্মরণীয় কীর্তিমান মহান ব্যক্তি,কর্মগুলো হয়ে যায় অমর, অবিনাশী ও অক্ষয়।সংস্থা বা সংগঠনগুলো থাকে চিরঞ্জীব এক শবাশত সত্তা নিয়ে।
আমাদের মনে আছে ফ্লোরেন্স নাইটিঙ্গেল এর কথা। ছোট বেলায় আমরা ইংলিশ প্যারাগ্রাফ শিখেছি ,Nursing as a job. সেখানে ঐ মহীয়সী নারীর কথা উল্লেখ আছে।
ফ্লোরেন্স নাইটিঙ্গেল একজন ইংরেজ Statistician পরিসংখ্যানবিদ,একজন সমাজ সংস্কারক ও লেখক। তিনি আধুনিক নার্সিং সেবা’র জনক,অগ্রদূত।বাল্যকাল থেকেই নার্সিং এর প্রতি তাঁর খুব ঝোঁক ছিল। নারীদের জন্য সমাজ ও পরিবার এ ক্ষেত্রে বড় বাঁধা ছিল তখন। তিনি প্যারিস শহরের একটি হাসপাতালে প্রথমে নার্স হিসেবে কাজ শুরু করেন। পরবর্তীতে ক্রিমিয়ার যুদ্ধে অসহায়, আহত ও পীড়িত সৈনিকদের সেবা শুশ্রূষা করতে সেখানে যান। তিনি আর্ত মানবতার সেবায় সৈনিকদের পাশে দাঁড়ান মা ও বোনের ভূমিকা নিয়ে।
ব্যারাকের চিকিৎসা কক্ষকে গড়ে তোলেন আধুনিক হাসপাতালে। তাঁর অসাধারণ দক্ষতা, সেবা ও নৈপুণ্যতায় সৈনিকরা তাঁকে “দ্যা লেডি উইথ দ্যা ল্যাম্প” উপাধিতে ভূষিত করে। “দীপ হাতে রমণী”র আলো আঁধারিতে ছায়া পড়লে সেই ছায়াকেই চুমু দিত সৈনিকরা। ফ্লোরেন্স নার্সিং কে সেবার অনন্য উচ্চতায় নিয়ে যান। ইতিহাসে তিনি অমর, অক্ষয়। এর ফলে দেশে দেশে নার্সিং প্রতিষ্ঠান, নার্স এভাবেই তৈরী হচ্ছে আজ।চিকিৎসা ও স্বাস্থ্য সেবায় মা ও বোনের ভূমিকা প্রদানকারী নতুন প্রজন্মের এরকম তিনজন দীপ হাতে রমণীর তুলে নিম্নে তুলে ধরা হলো।প্রিয়া,কাকলী ও লিজার মানবিক কর্মের কাহিনী সত্যিই আশা জাগানিয়া। লেখাপড়া, চাকুরী, সংসার সবকিছু সামাল দিয়ে অসহায় মানুষের পাঁশে বিরামহীন কাজ করা নারীদের জন্য অনেক বড় চ্যালেঞ্জ। তারা সেই কাজটুকু মনোবল ও সাহস নিয়ে করে যাচ্ছে। নানা প্রতিবন্ধকতা ও সীমাবদ্ধতা থাকলেও মানুষের ভালোবাসা নিয়ে চৌকস এই তিন নারী ভয়কে জয় করে যাচ্ছে প্রতিনিয়ত, অবিরত।এযেন রত্নাগর্ভা তিন সন্তান।আলো ছড়িয়ে যাচ্ছে সমাজে।পরিশ্রম, ইচ্ছা,মেধা ও প্রতিভা থাকলে নারীদের কেউ আটকাতে পারে না।কবি বলেছেন,
“সাম্যের গান গাই-
আমার চক্ষে পুরুষ-রমণী কোনো ভেদাভেদ নাই!
বিশ্বের যা কিছু মহান সৃষ্টি চির কল্যাণকর
অর্ধেক তার করিয়াছে নারী, অর্ধেক তার নর।”
আয়শা সিদ্দিকা প্রিয়া
একজন ডেডিকেটেড মিডওয়াইফ, নর্থ ইস্ট নার্সিং কলেজ থেকে ২০২৩ সালে ডিপ্লোমা ইন মিডওয়াইফারি পাশ করে, একটু দেরিতে ২০২৪ সালে কোটা আন্দোলন বিলম্বে সেপ্টেম্বরে বাংলাদেশ নার্সিং এন্ড মিডওয়াইফারি কাউন্সিলের অধীনে বাংলাদেশ এর রেজিস্টার্ড মিডওয়াইফ হোন। ২০১৯-২০২০ সেশনের শিক্ষার্থী তিনি ।
স্টুডেন্ট লাইফ থেকে আয়শা সিদ্দিকা প্রিয়া ভলান্টারি কাজে যুক্ত হোন, ২০২১ সালে কিছু সংখ্যক মিডওয়াইফ এবং নার্স দের নিয়ে, করোনা মহামারী তে সেবা দেওয়ার জন্য সংগঠন প্রতিষ্ঠা করেন, যেটা সিলেট এর স্বনামধন্য সৎ পথের পথিকরা সেবাদানকারী ও মানবকল্যাণ সংগঠন সিলেট।
তাছাড়া তিনি ২০২৫ সালের অক্টোবরে, বাংলাদেশ মিডওয়াইফারি সোসাইটি (BMS) এর নির্বাচনে এক্সিকিউটিভ মেম্বার হিসেবে অংশগ্রহণ করে বিপুল ভোটে জয়লাভ করেন, এতেই বুঝা যায়, বাংলাদেশ নার্সিং মিডওয়াইফারি সেবা খাতে আয়শা সিদ্দিকা প্রিয়া কতোটা সুপরিচিত ও প্রিয় । দীর্ঘ ৬ বছর ধরে তিনি সামাজিক মানবিক ও সেবা খাতে বিনা পারিশ্রমিকে স্বেচ্ছায় কাজ করে যাচ্ছেন। কাজ করে যাচ্ছেন নার্সিং ও মিডওয়াইফারি প্রফেশনের জন্য ও ।
বর্তমানে তিনি নর্থ ইস্ট নার্সিং কলেজে পোস্ট বেসিক বিএসসি ইন মিডওয়াইফারি তে অধ্যয়নরত আছেন। পাশাপাশি বিজনেস করছেন ।। সৎ পথের পথিকরা সেবাদানকারী ও মানবকল্যাণ সংগঠন সিলেট এর প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি হিসেবে আছেন।
কাকলী বেগম
একজন পরিশ্রমী ডেডিকেটেড মিডওয়াইফ, ২০২২ এর নভেম্বর থেকে আল-হারামাইন হসপিটালে কর্মরত আছেন। এর আগেও ২০২১ সালে ১ বছর সিলেট মা ও শিশু হসপিটালে কর্মরত ছিলেন।
কাকলী বেগম, নর্থ ইস্ট নার্সিং কলেজ এর (২০১৭-২০১৮ সেশনের শিক্ষার্থী) তিনি ২০২০ সালে ডিপ্লোমা ইন মিডওয়াইফারি পাশ করেন, এবং ২০২১ সালে বাংলাদেশ নার্সিং এন্ড মিডওয়াইফারি কাউন্সিলের অধীনে বাংলাদেশ এর রেজিস্টার্ড মিডওয়াইফ হোন।
সৎ পথের পথিকরা সেবাদানকারী ও মানবকল্যাণ সংগঠন সিলেট এর আরেকজন প্রতিষ্ঠাতা তিনি।
২০২১ সাল থেকে তিনি সৎ পথের পথিকরা সেবাদানকারী ও মানবকল্যাণ সংগঠন এর সাথে যুক্ত আছেন, সামাজিক সংগঠন ও কর্মস্থলের মাধ্যমে মা ও শিশুর সেবায় নিয়োজিত রয়েছেন ।
সেই করোনা মহামারী থেকে এখন ও পর্যন্ত সমাজ ও রাষ্ট্রের সেবায় নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন।
বর্তমানে তিনি কাজের পাশাপাশি, নর্থ ইস্ট নার্সিং কলেজে পোস্ট বেসিক বিএসসি ইন মিডওয়াইফারি তে অধ্যয়নরত আছেন, এবং সৎ পথের পথিকরা সেবাদানকারী ও মানবকল্যাণ সংগঠন সিলেট এর সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্বপ্রাপ্ত আছেন।
লিজা আক্তার
জলপাই রঙের, একজন নিবেদিত নার্স, যিনি ঘর সামলান, হসপিটালে রোগী সামলান, ডিউটি করেন, সংগঠন পরিচালনা করেন একসাথে।
মিস লিজা আক্তার একজন ডেডিকেটেড নার্স, নর্থ ইস্ট নার্সিং কলেজ এর ২০১৮-২০১৯ সেশনের শিক্ষার্থী ছিলেন, ২০২২ সালে তিনি ডিপ্লোমা কমপ্লিট করেন, এবং ২০২৩ সালের মার্চ মাসে বাংলাদেশ নার্সিং এন্ড মিডওয়াইফারি কাউন্সিলের অধীনে বাংলাদেশ এর রেজিস্টার্ড নার্স হোন ।
২০২২ সাল থেকে তিনি সৎ পথের পথিকরা সেবাদানকারী ও মানবকল্যাণ সংগঠন সিলেট এর একজন পরিচালক হিসেবে নিরলসভাবে দায়িত্ব নিয়ে কাজ করে যাচ্ছেন।
২০২৩ সাল থেকে তিনি আল-হারামাইন হসপিটালে কর্মরত রয়েছেন।
বর্তমানে তিনি সৎ পথের পথিকরা সেবাদানকারী ও মানবকল্যাণ সংগঠন সিলেট এর কোষাধ্যক্ষ ও পরিচালক হিসেবে দায়িত্বপ্রাপ্ত আছেন ।