৪ মার্চ ২০২৬, ৮:৫৪ অপরাহ্ণ
স্টাফ রিপোর্টার : সিলেটের প্রথম বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় লিডিং ইউনিভার্সিটি সাফল্যের ২৫ বছর উদযাপন করেছে। বুধবার বিকাল ২টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. মোহাম্মদ তাজ উদ্দিনের নেতৃত্বে শিক্ষক-শিক্ষার্থী এবং কর্মকর্তা-কর্মচারিদের অংশগ্রহণে একটি বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা বের করা হয়। শোভাযাত্রা শেষে বিশ্ববিদ্যালয় প্রাঙ্গণে শান্তির প্রতীক পায়রা এবং শুভেচ্ছা বেলুন উড়ান উপাচার্য।
পরে বিকাল ২টা ৩০ মিনিটে বিশ্ববিদ্যালয়ের গ্যালারী-১ এ এক আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়। লিডিং ইউনিভার্সিটির কলা ও আধুনিক ভাষা অনুষদের ডিন প্রফেসর ড. মো. রেজাউল করিমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন উপাচার্য প্রফেসর ড. মোহাম্মদ তাজ উদ্দিন। তিনি বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের আজকের এই অর্জনের পেছনে দানবীর ড. সৈয়দ রাগীব আলীর সুদক্ষ কর্মপরিকল্পনা ও সঠিক দিকনির্দেশনা রয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের সহ-প্রতিষ্ঠাতা বেগম রাবেয়া খাতুন চৌধুরীকে স্মরণ করে তিনি বলেন, ড. সৈয়দ রাগীব আলীর পৃষ্ঠপোষকতায় সবুজে ঘেরা দৃষ্টিনন্দন স্থায়ী ক্যাম্পাসে মানসম্পন্ন পাঠদানের মাধ্যমে লিডিং ইউনিভার্সিটি মানবসম্পদ তৈরি করে এগিয়ে যাচ্ছে। পাঠদানের পাশাপাশি গবেষণা কার্যক্রম চলমান রয়েছে উল্লেখ করে তিনি আরো বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা দেশে ও দেশের বাইরে বিভিন্ন কর্মক্ষেত্রে দক্ষতার সাথে কাজ করে সুনাম বয়ে আনছে। চতুর্থ সমাবর্তন সফলভাবে সম্পন্ন, দক্ষ শিক্ষক নিয়োগ এবং দীর্ঘদিন পর শিক্ষকদের পদোন্নতি দেওয়ার কথাও জানান তিনি। তৃতীয় একাডেমিক ভবনের নির্মাণকাজ চলমান যা অবকাঠামোগত উন্নয়নের অগ্রগতির বহিঃপ্রকাশ বলে মন্তব্য করেন উপাচার্য। ড. সৈয়দ রাগীব আলীর প্রতিষ্ঠিত স্কুল, কলেজ, মাদরাসা ও বিশ্ববিদ্যালয়ের মাধ্যমে রাগীব নগর শিক্ষানগরীতে পরিণত হয়েছে উল্লেখ করে তিনি তার স্বপ্ন বাস্তবায়নে সবাইকে একসঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানান।
সভাপতির বক্তব্যে প্রফেসর ড. মো. রেজাউল করিম বলেন, রজতজয়ন্তীর এই অর্জন উদযাপনের পাশাপাশি আগামীর কর্মপরিকল্পনা তৈরি করতে হবে। শিক্ষার্থীদের সঠিকভাবে শিক্ষাদান করে দক্ষ করে তোলার ওপর জোর দিয়ে তিনি বলেন, শিক্ষক ও কর্মকর্তাদের রুটিন কাজের বাইরে গিয়ে প্রতিষ্ঠানকে এগিয়ে নিতে কাজ করতে হবে। তিনি উল্লেখ করেন, বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় গড়া কঠিন কাজ। এই বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বপ্নদ্রষ্টা ড. সৈয়দ রাগীব আলী বিশ্ববিদ্যালয়ের নাম ‘লিডিং’ রেখেছেন এই প্রত্যাশায় যে একদিন এটি সবার আগে নেতৃত্ব দেবে। প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে বিশ্ববিদ্যালয় সফলতার সাথে শিক্ষাকার্যক্রম পরিচালনা করছে যার পেছনে তার অবদান অনস্বীকার্য। তার পৃষ্ঠপোষকতায় সুন্দর ও সাজানো পরিবেশে শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার আগ্রহ বাড়ছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
অনুষ্ঠানে আরো বক্তব্য রাখেন লিডিং ইউনিভার্সিটির ব্যবসায় প্রশাসন অনুষদের ডিন প্রফেসর ড. বশির আহমেদ ভূঁইয়া, ছাত্রকল্যাণ উপদেষ্টা প্রফেসর ডা. মো. আব্দুল মজিদ মিয়া, ট্রাস্টি বোর্ডের সচিব ইঞ্জিনিয়ার মো. লুৎফর রহমান, প্রক্টর মো. মাহবুবুর রহমান, পরিচালক অর্থ ও হিসাব মোহাম্মদ কবির আহমেদ, সকল বিভাগের বিভাগীয় প্রধানদের পক্ষে ব্যবসায় প্রশাসন বিভাগের বিভাগীয় প্রধান প্রফেসর ড. মোহাম্মদ শাহানশাহ মোল্লা, পাবলিক হেলথ বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মুসা হালিমা বেগম এবং ব্যবসায় প্রশাসন বিভাগের সহকারি অধ্যাপক মো. আব্দুল মুহিত চৌধুরী। বক্তারা বিশ্ববিদ্যালয় পরিবারের অংশ হয়ে নিজেদের গর্বিত মনে করেন এবং প্রতিষ্ঠাতা ও ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারম্যান দানবীর ড. সৈয়দ রাগীব আলীর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
কম্পিউটার সায়েন্স এন্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের বিভাগীয় প্রধান কাজী মো. জাহিদ হাসানের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানের শুরুতে স্বাগত বক্তব্য দেন রেজিস্ট্রার মো. মফিজুল ইসলাম। অনুষ্ঠানের শুরুতে পবিত্র কোরআন থেকে তিলাওয়াত করেন ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফজলে এলাহী মামুন। অনুষ্ঠানে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিগত দিনের সাফল্য ও অর্জনের ওপর একটি ডকুমেন্টারি প্রদর্শন করা হয়। পরে দোয়া পরিচালনা করেন ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের বিভাগীয় প্রধান সহযোগী অধ্যাপক ড. মো. জিয়াউর রহমান। এ সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক প্রফেসর মো. কবির আহমেদ, বিভিন্ন বিভাগের বিভাগীয় প্রধান, শিক্ষকবৃন্দ, লাইব্রেরিয়ান, বিভিন্ন দপ্তর প্রধান এবং কর্মকর্তা-কর্মচারীবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।