,

28 July 2025, 11:15 PM

সার্ক ইন্টারন্যাশনাল কলেজ শিক্ষাক্ষেত্রে এক নতুন দিগন্তের সূচনা করেছে

আপডেট টাইম : July 28, 2025 11:15 PM



শেয়ার করুন

সার্ক ইন্টারন্যাশনাল কলেজের অধ্যক্ষ মোহাম্মদ মহি উদ্দিন বলেছেন, ‘কম খরচে মানসম্মত শিক্ষা’ এই লক্ষ্য নিয়ে যাত্রা শুরু করে ইংল্যান্ড-ভারত-বাংলাদেশের যৌথ উদ্যোগে প্রতিষ্ঠিত সার্ক ইন্টারন্যাশনাল কলেজ বাংলাদেশ শিক্ষাক্ষেত্রে এক নতুন দিগন্তের সূচনা করেছে। ২০১০ সালের ৮ জুলাই আনুষ্ঠানিকভাবে প্রতিষ্ঠিত এই কলেজ সিলেট তথা সারা দেশে সুপরিকল্পিত, প্রাণবন্ত ও প্রতিশ্রুতিশীল শিক্ষাব্যবস্থা গড়ে তুলেছে।

প্রযুক্তিনির্ভর বিশ্বায়নের যুগে মানসম্মত শিক্ষার গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি উল্লেখ করেন যে, গতানুগতিক পাঠদান, নিম্নমানের শিক্ষার পরিবেশ, প্রাইভেট ও নোটবই নির্ভরতা, দক্ষ শিক্ষকের সংকট এবং অতিরিক্ত শিক্ষার্থীর চাপ বাংলাদেশের শিক্ষাব্যবস্থাকে পিছিয়ে রেখেছে। এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সার্ক ইন্টারন্যাশনাল কলেজ যুগান্তকারী ‘Spot Learning Method (SLM)’ চালু করেছে, যেখানে শিক্ষকরা শ্রেণিকক্ষেই পাঠদান সম্পন্ন করেন এবং শিক্ষার্থীরা প্রাইভেট ছাড়াই ভালো ফলাফল করে। এ পদ্ধতি শিক্ষার্থীদের আত্মবিশ্বাসী করে তোলে এবং উচ্চশিক্ষার পথ সুগম করে।

সোমবার সন্ধ্যায় সিলেট অনলাইন প্রেসক্লাবের ড. রাগীব আলী মিলনায়তনে অনলাইন সাংবাদিকদের সাথে মতবিনিময়কালে অধ্যক্ষ জানান, প্রতিষ্ঠানটি বাংলা মাধ্যমের ন্যাশনাল কারিকুলাম অনুসারে সেমিস্টারভিত্তিক বিজ্ঞান, মানবিক ও ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগে পাঠদান করে। প্রতিটি সেমিস্টারের শেষে ফাইনাল পরীক্ষা নেওয়া হয়, যার ফলাফল নির্ধারিত হয় ক্লাস উপস্থিতি, ড্রেসকোড, শৃঙ্খলা, টার্ম টেস্ট ও পারফরম্যান্সের সমন্বয়ে। দুর্বল শিক্ষার্থীদের জন্য ‘Intensive Care Learning System (ICLS)’ এর আওতায় ওয়ান টু ওয়ান টিচিং, বিশেষ নোট ও পরীক্ষার ব্যবস্থা রয়েছে। এছাড়া স্থায়ী দক্ষ শিক্ষকমণ্ডলী, প্রজেক্টরের মাধ্যমে ক্লাস উপস্থাপনা এবং ক্লাস-ভিত্তিক ওয়ান টু ওয়ান ফর্মুলা ফলাফল উন্নয়নে ভূমিকা রাখছে।

শিক্ষার্থীদের সার্বিক উন্নয়নে একাডেমিক গার্ডিয়ানশিপ, দৈনন্দিন আচরণ গ্রেডিং পদ্ধতি, ফিঙ্গার রিডার অটোমেশিনের মাধ্যমে ডিজিটাল উপস্থিতি নিশ্চিতকরণ এবং অভিভাবকদের এসএমএস আপডেটের ব্যবস্থা চালু রয়েছে। নিরাপত্তায় রয়েছে সিসি ক্যামেরা ও নিজস্ব গার্ড, পাশাপাশি সুসজ্জিত শ্রেণিকক্ষ, সমৃদ্ধ লাইব্রেরি, শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত কম্পিউটার ল্যাব, অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা, ক্যাফেটেরিয়া, বার্ষিক ক্রীড়া ও শিক্ষাসফরের সুবিধা দেওয়া হয়। উন্নত সুযোগ-সুবিধা সত্ত্বেও সার্কের ফিস সাধারণ মানুষের সামর্থ্যের মধ্যে রাখা হয়েছে।

সামাজিক দায়বদ্ধতার অংশ হিসেবে কলেজটি শীতবস্ত্র বিতরণ, বন্যাদুর্গতদের ত্রাণ, রোহিঙ্গা সাহায্য, ইভটিজিং ও মাদকবিরোধী প্রচারণা, বিতর্ক প্রতিযোগিতা, বিনামূল্যে রক্তগ্রুপ নির্ণয়, পিঠা উৎসব, বিজ্ঞান ও বইমেলার আয়োজন করে। ২০২৪ সাল থেকে বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুদের জন্য ‘The Special Childhom’ স্কুল পরিচালনা করছে।

অভিভাবকদের প্রতি পরামর্শ দিয়ে অধ্যক্ষ বলেন, সন্তানকে কলেজে ভর্তির আগে পাঁচটি বিষয় যাচাই করুন: প্রতিষ্ঠানটি রাজনীতি, ধূমপান ও সন্ত্রাসমুক্ত কিনা; বছরে কতদিন ক্লাস হয়; শিক্ষকরা স্থায়ী নাকি খণ্ডকালীন; প্রাইভেট টিউশনের প্রয়োজন পড়ে কিনা; এবং এসএসসির তুলনায় এইচএসসিতে ফলাফল উন্নত হয় কিনা। সার্ক থেকে পাস করা শিক্ষার্থীরা সরকারি মেডিকেল কলেজ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ দেশ-বিদেশের নামী প্রতিষ্ঠানে ভর্তির সুযোগ পাচ্ছে এবং ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার, শিক্ষক হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হচ্ছে।

২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষে ভর্তির যোগ্যতা হিসেবে বিজ্ঞান বিভাগের জন্য জিপিএ ৩.৫, মানবিকে ২.৫ এবং ব্যবসায় শিক্ষায় ২.৫ নির্ধারণ করা হয়েছে। এ সময় অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন কলেজের উপাধ্যক্ষ সবল কুমার তালুকদার, প্রভাষক রনি কুমার, প্রভাষক আস্রাফুল ইসলাম ও মার্কেটিং অফিসার নিহার রঞ্জন।

শেয়ার করুন