,

17 September 2026, 7:04 PM

সিকৃবিতে শিক্ষার্থীর উপর ছাত্রদলের হামলা

আপডেট টাইম : September 17, 2026 7:04 PM



শেয়ার করুন

সিকৃবি প্রতিনিধি

ছাত্রসমিতি নির্বাচনকে সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে (সিকৃবি) দুই শিক্ষার্থীকে মারধরের অভিযোগ উঠেছে ছাত্রদলের কয়েকজন নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে। বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-ছাত্র কেন্দ্র (টিএসসি) এলাকায় বায়োটেকনোলজি অ্যান্ড জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ছাত্র সমিতির নির্বাচনকে কেন্দ্র করে এ ঘটনা ঘটে। ঘটনায় বিভাগের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী মো. আবদুর রহমান রাঈদ এবং সাফকাত তাসিন আহত হয়েছেন। তাঁদের মধ্যে রাঈদকে উন্নত চিকিৎসার জন্য সিলেট ইবনে সিনা হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

আহত সাফকাত তাহসিনের অভিযোগ, তাঁকে কয়েকজন শিক্ষার্থী ডেকে নিয়ে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড ও তাঁদের বিরুদ্ধে প্যানেল গঠনের বিষয়ে প্রশ্ন করেন। একপর্যায়ে রাজেশ বাছাড় তাঁর কলার ধরেন এবং সাহস নামে আরেকজন তাঁকে ঘুষি মারেন। তাঁকে রক্ষা করতে রাঈদ ও আশরাফ এগিয়ে গেলে তাঁদের ওপরও হামলা করা হয় বলে দাবি করেন তিনি। একপর্যায়ে রাঈদকে ছাতা দিয়ে উপর্যুপুরি আঘাত করা হয় এবং তিনি রাস্তায় পড়ে গেলেও মারধর চলতে থাকে। পরে শিক্ষার্থীরা তাঁদের বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান।

সাফকাত বলেন, ছাত্র সমিতির নির্বাচনে রাজনৈতিক দলের সঙ্গে সম্পৃক্ত নন এমন শিক্ষার্থীদেরও অংশগ্রহণের সুযোগ থাকা উচিত বলে তাঁরা অবস্থান নিয়েছিলেন। তাঁর অভিযোগ, এ অবস্থানের কারণে ছাত্রদলের কয়েকজন শিক্ষার্থী তাঁদের ওপর চাপ সৃষ্টি করে আসছিলেন। জুনিয়রদের রাজনৈতিক কর্মসূচিতে নেওয়া, ভয়ভীতি দেখানো ও হলের আসন বাতিলের হুমকি দিয়েছে।

তবে অভিযোগ অস্বীকার করে অভিযুক্ত শিক্ষার্থী ও সিকৃবি ছাত্রদলের সদস্য রাজেশ বাছাড় বলেন, ফ্যাকাল্টির সিনিয়র-জুনিয়রদের ভ্রাতৃত্বের সম্পর্ক নষ্ট করার লক্ষ্যে আশরাফের নেতৃত্বাধীন একটি গ্রুপ কয়েকদিন ধরে তৎপরতা চালাচ্ছিল। এর জেরে ১৫ সেপ্টেম্বর ছাত্র সমিতির নির্বাচনকে কেন্দ্র করে আশরাফ, নিহাল তাহসিন, রাঈদ, ফজলে রাব্বিসহ তাঁদের অনুসারীরা বাগ্‌বিতণ্ডায় জড়ান এবং বর্তমান ভিপিকে অপমান করে কক্ষ থেকে বের হয়ে যেতে বলে।

তিনি জানান, বৃহস্পতিবার তাঁদের উদ্দেশ্য জানার ও সমঝোতায় আসার জন্য বসতে আহ্বান করা হলে নিহাল তেড়ে আসেন। পরে সিনিয়ররা তাঁকে থামাতে গেলে রাঈদ পেছন থেকে সিনিয়রদের গায়ে হাত তোলেন। তাঁকে ফেরানোর সময় রাঈদ রাস্তায় পড়ে যান এবং এ ঘটনায় তিনজন সিনিয়র শিক্ষার্থী আহত হন।

বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের সভাপতি সানাউল হোসেন জানান, তিনি বর্তমানে ঢাকায় অবস্থান করছেন। তবে বিশ্ববিদ্যালয়ে ঝামেলার খবর পেয়েছেন। তাঁর দাবি, বায়োটেকনোলজি অ্যান্ড জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ছাত্র সমিতির নির্বাচনকে কেন্দ্র করেই বাগ্‌বিতণ্ডার ঘটনা ঘটেছে। ছাত্রদলের পক্ষ থেকে বিষয়টি শাহপরাণ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ও বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরকে জানানো হয়েছে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের কোষাধ্যক্ষ এ.টি.এম. মাহবুব-ই-এলাহী বলেন “ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তে ডিনের নেতৃত্বে সাত সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটিতে ছাত্রপরামর্শক, প্রক্টর ও প্রক্টরিয়াল বোর্ডের সদস্য, আইন উপদেষ্টা এবং নির্বাচন কমিশনের সদস্যসহ সংশ্লিষ্টরা রয়েছেন। কমিটি ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করে সুপারিশ দেবে এবং তদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর বিধি অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তদন্তে কোনো ধরনের রাজনৈতিক প্রভাব থাকবে না এবং কে অপরাধী কে নয় তা নিরপেক্ষভাবে শনাক্ত করা হবে।

এদিকে শাহপরাণ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফেরদৌস আহমেদ জানান, বিশ্ববিদ্যালয়ে মারামারির বিষয়ে তাঁদের জানানো হয়নি।

শেয়ার করুন