বৃহস্পতিবার, ৪ঠা জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

২০ জুন ২০২৫, ১০:৪০ পূর্বাহ্ণ

সিলেট উইমেন্স মেডিকেল কলেজে রোগীর স্বজনদের উপর হাসপাতাল নিরাপত্তাকর্মীদের হামলা

আপডেট টাইম : জুন ২০, ২০২৫ ১০:৪০ পূর্বাহ্ণ



শেয়ার করুন

সিলেট উইমেন্স মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে এক শিশু রোগীর স্বজনদের সঙ্গে হাসপাতাল স্টাফ ও নিরাপত্তাকর্মীদের সংঘাতের ঘটনায় ক্ষোভের জন্ম দিয়েছে। ঘটনাটি ঘটেছে গত রাতে, যখন এক অভিভাবক তার মারাত্মকভাবে বমি করা শিশুকে জরুরি চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে নিয়ে যান। তবে সেখানে ডাক্তার ও হাসপাতাল স্টাফের আচরণে তারা মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েন।

ঘটনার বর্ণনায় ওই অভিভাবক জানান, রাতের অন্ধকারে শিশুটির অবস্থা খারাপ হলে তাকে দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া হয়। কিন্তু, হাসপাতালে পৌঁছাতেই ডাক্তার তাকে দেরি করে আনার জন্য তিরস্কার করেন। এসময় তার বয়োবৃদ্ধ বাবা, যিনি একজন অ্যাডভোকেট, ডাক্তারকে জিজ্ঞাসা করেন, তিনি কি রোগী দেখতে বিরক্ত হচ্ছেন? এই প্রশ্নের পরিপ্রেক্ষিতে ডাক্তারের আচরণ আরও খারাপ হয় এবং হাসপাতালের নিরাপত্তাকর্মীরা ঘটনাস্থলে এসে বাজে আচরণ শুরু করে।

পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয় যখন প্রায় ১০-১২ জন নিরাপত্তাকর্মী এসে বয়োজ্যেষ্ঠ ব্যক্তিকে ধাক্কা মেরে ফেলে দেয় এবং শিশুটির মা আত্মরক্ষার জন্য দৌড়ে হাসপাতাল থেকে বেরিয়ে যান। শিশুটির অবস্থা ক্রিটিক্যাল হওয়ায় তাকে দ্রুত অন্য একটি হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। অভিভাবক দাবি করেন, হাসপাতালের নিরাপত্তাকর্মীদের আচরণ এতটাই আক্রমণাত্মক ছিল যে তিনি নিজেকে অসহায় মনে করেছেন।

তিনি আরও অভিযোগ করেন, হাসপাতালের নিরাপত্তাকর্মীদের আচরণ ছিল ক্ষমতার দম্ভে ভরা। তিনি প্রশ্ন তোলেন, “হাসপাতাল যদি ক্যাডার বা সন্ত্রাসীদের আখড়ায় পরিণত হয়, আর আমারই টাকায় গঠিত এই প্রতিষ্ঠানে গিয়ে আমাকে হেনস্তা সইতে হয়, তাহলে এই দেশ কীভাবে আমার হল?” তিনি এ ঘটনার আইনি প্রতিকার চান বলে জানিয়েছেন এবং প্রয়োজনে সর্বোচ্চ স্তরে এ নিয়ে লড়াই করার ঘোষণা দিয়েছেন।

ঘটনার প্রাথমিক মুহূর্তের কোনো ভিডিও ফুটেজ না থাকলেও অভিভাবকের বর্ণনায় উঠে এসেছে চিকিৎসা সেবার নামে অবহেলা ও সহিংসতার চিত্র। স্থানীয়রা হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের দ্রুত তদন্ত ও দায়িত্বপ্রাপ্তদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছে।

হাসপাতাল প্রশাসনের পক্ষ থেকে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। তবে এ ধরনের অভিযোগের ভিত্তিতে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় বা স্থানীয় প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করছেন ক্ষুব্ধ অভিভাবক ও স্থানীয়রা।

শেয়ার করুন