১৯ আগস্ট ২০২৫, ৫:২০ অপরাহ্ণ
নদী ও পরিবেশ বাঁচাও আন্দোলন, গোয়াইনঘাট এর উদ্যোগে ষড়যন্ত্রমূলক মিথ্যা মামলায় গ্রেফতারকৃত বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন, সিলেট জেলা কমিটির সাবেক সদস্য ও এইচএসসি পরীক্ষার্থী আজমল হোসেনের নিঃশর্ত মুক্তি, গোয়াইনঘাট থানার ওসির অপসারণ এবং জাফলং ইসিএ অঞ্চল থেকে অবৈধভাবে বালু ও পাথর উত্তোলন বন্ধের দাবিতে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে। নগরীর কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে আয়োজিত এ মানববন্ধনে শিক্ষার্থী ও নানা শ্রেণি-পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন।
মানববন্ধনে গোয়াইনঘাট সরকারি কলেজের এইচএসসি পরীক্ষার্থী আটককৃত আজমলের মা রাবেয়া বেগম বক্তব্য রাখেন। তিনি বলেন, তার ছেলে নিরপরাধ এবং একজন জুলাই যোদ্ধা। সে অন্যায়ের প্রতিবাদ করত এবং বালু ও পাথর লুটতরাজকারীদের বিরুদ্ধে কথা বলার কারণে লুটপাটকারীরা তাকে মিথ্যা মামলায় ফাঁসিয়েছে। তিনি আরও বলেন, পুলিশ তার ছেলের বুকে ‘চাঁদাবাজ’ লিখে ছবি তুলছে এবং তার ছেলে সম্পূর্ণ নির্দোষ; তাই তিনি তার ছেলের মুক্তি দাবি করেন।
সংগঠক ফরহাজুল ইসলাম ফরহাদের পরিচালনায় অনুষ্ঠিত মানববন্ধনে সংহতি প্রকাশ করে বক্তব্য রাখেন সিলেট অনলাইন প্রেসক্লাবের সভাপতি ও বৃহত্তর জৈন্তিয়া উন্নয়ন পরিষদের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য সচিব সাংবাদিক গোলজার আহমদ হেলাল, সাদিকুজ্জামান হাজ্জাজ, মোবারক হোসেন রানা, ফারদিন হোসেন রোমান, ছামিউল হক মাহি, আজমলের সহপাঠী জিছান, তাকি, নাঈম, আজমলের ভাই দিলদার হোসেন এবং গোয়াইনঘাট সরকারি কলেজের শিক্ষার্থী তাঞ্জিনা বেগম।
মানববন্ধনে উপস্থিত ছিলেন জাতীয় নাগরিক পার্টি-এনসিপি সিলেট জেলার যুগ্ম সমন্বয়কারী ফয়সল আহমদ, সিলেট জেলা বারের বিশিষ্ট আইনজীবী ও বৃহত্তর জৈন্তিয়া উন্নয়ন পরিষদের কেন্দ্রীয় কমিটির আহ্বায়ক এডভোকেট আব্দুল আহাদ, জৈন্তাপুর উপজেলার আহ্বায়ক মোশাহিদ আলী, সমাজসেবক আব্দুল করিম, সংগঠক জহিরুল ইসলাম এবং বিশিষ্ট মুরুব্বি উসমান আলী প্রমুখ।
সভায় বক্তারা নিরপরাধ আজমলের অবিলম্বে নিঃশর্ত মুক্তি দাবি করেন। তারা বলেন, আজমলের সাথে দুর্ব্যবহারকারী পুলিশ সদস্যদের শাস্তির আওতায় আনতে হবে এবং গোয়াইনঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে অনতিবিলম্বে অপসারণ করতে হবে।
বক্তারা আরও বলেন, সিলেটে গোয়াইনঘাটের শিক্ষার্থী ও তরুণ সমাজকর্মী এবং পরিবেশ আন্দোলনের সাহসী কণ্ঠ আজমল হোসেনকে মিথ্যা ও ষড়যন্ত্রমূলক মামলায় গ্রেপ্তার করে কারাগারে পাঠানো হয়েছে, যা অবৈধ বালু-পাথর উত্তোলনকারী প্রভাবশালী চক্রের একটি পরিকল্পিত পদক্ষেপ। তারা উল্লেখ করেন যে আজমল কখনো চাঁদাবাজি বা অবৈধ কর্মকাণ্ডে জড়িত না থেকে দীর্ঘদিন ধরে পরিবেশ সংরক্ষণ ও জনস্বার্থে আন্দোলন করে আসছিল। পাথর ও বালু দস্যুদের গ্রেফতার না করে পরিবেশকর্মী আজমলকে মিথ্যা মামলায় গ্রেপ্তার করা অন্যায়, অযৌক্তিক ও পরিকল্পিত। বক্তারা আজমলের নিঃশর্ত মুক্তির দাবি জানান। মানববন্ধনে ‘সিলেটের সচেতন ছাত্র সমাজ’-এর ব্যানারে শিক্ষার্থীরা সংহতি প্রকাশ করে অংশ নেয়।