১৪ মার্চ ২০২৫, ১১:৪৩ অপরাহ্ণ
দিরাই প্রতিনিধি: সুনামগঞ্জের দিরাই উপজেলায় এক কিশোরীকে (১৬) অটোরিকশায় তুলে ভুল পথে নিয়ে ধর্ষণের চেষ্টা করা হয়েছে। ঘটনায় জড়িত সিএনজি চালক ইমন খান (২৫) ও মিঠু মিয়া নামে আরেক যুবককে আটক করা হয়েছে। আহত কিশোরীকে সুনামগঞ্জ জেলা সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তার ডান চোখ, কপাল, গাল ও হাত থেঁতলে গেছে। গত বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় এ ঘটনা ঘটে।
সুনামগঞ্জ ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেলা সদর হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, কিশোরীর মুখের ডান পাশ থেঁতলে গেছে এবং ডান চোখের চারপাশ ফুলে বন্ধ হয়ে গেছে। হাসপাতালের দায়িত্বপ্রাপ্ত এক সেবিকা কিশোরীর বরাত দিয়ে জানান, তাকে ধর্ষণের চেষ্টা করা হয়েছে।
কিশোরী হাসপাতালে জানায়, বৃহস্পতিবার দুপুরে সে দিরাই পৌর শহরে কিছু কাপড় কেনার জন্য যায়। বিকেল সাড়ে পাঁচটার দিকে কেনাকাটা শেষে বাড়ি ফেরার জন্য দিরাই বাসস্ট্যান্ডে একটি অটোরিকশায় ওঠে। এ সময় দুই যুবকও অটোরিকশায় ওঠে। কিছুদূর যাওয়ার পর কিশোরী বুঝতে পারে অটোরিকশা সুনামগঞ্জ শহরের দিকে যাচ্ছে। তখনই সে চালককে থামানোর অনুরোধ করে। কিন্তু পাশে থাকা দুই যুবক তাকে জাপটে ধরে মুখ চেপে ধরে এবং মুঠোফোন কেড়ে নেয়। এরপর কিশোরী তাদের সঙ্গে ধস্তাধস্তি শুরু করে। ধস্তাধস্তির একপর্যায়ে দিরাই মদনপুর সড়কের গণিগঞ্জ এলাকায় পৌঁছালে কিশোরী জোরে ধাক্কা দিয়ে নিজেকে ছাড়িয়ে চলন্ত অটোরিকশা থেকে লাফ দিয়ে রাস্তায় পড়ে যায়।
কিশোরীর বাবা জানান, রাত নয়টার দিকে তার এক আত্মীয় ঢাকা থেকে ফোন করে জানান, তার মেয়েকে দিরাই মদনপুর সড়কের গণিগঞ্জ এলাকায় আহত অবস্থায় সড়কের পাশে পাওয়া গেছে। পরে তাকে সুনামগঞ্জ জেলা সদর হাসপাতালে নিয়ে ভর্তি করা হয়। কিশোরী সপ্তম শ্রেণি পর্যন্ত লেখাপড়া করেছে এবং তার বাবা একজন কৃষক।
দিরাই থানার ওসি আবদুর রাজ্জাক বলেন, শুক্রবার বিকালে সুনামগঞ্জ শহর থেকে একজন শিক্ষক ফোনে বিষয়টি জানান। এর আগে কেউ এ ঘটনা থানায় জানায়নি। তিনি আরও বলেন, মেয়েটির বাড়িতে পুলিশ পাঠানো হয়েছে এবং সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালেও ডিবি পুলিশ পাঠানো হবে। এটি একটি স্পর্শকাতর ঘটনা, যা গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে।
রাত নয়টায় পুলিশ সুপার তোফায়েল আহমেদ জানান, সিএনজি চালক ইমন খান (২৫), বাড়ি দিরাই উপজেলার জকিনগর এবং মিঠু মিয়া নামে ঘটনায় জড়িত আরেক যুবককে আটক করা হয়েছে।
এই ঘটনায় স্থানীয় জনগণ ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন এবং দ্রুত বিচার দাবি করেছেন। পুলিশ বলেছে, তারা ঘটনাটি গুরুত্বের সঙ্গে নিয়ে তদন্ত করছে এবং আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।