,

5 March 2026, 9:27 PM

প্রাথমিক শিক্ষার্থীদের উপবৃত্তির নতুন নির্দেশিকা প্রকাশ

আপডেট টাইম : March 5, 2026 9:27 PM



শেয়ার করুন

সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জন্য শিক্ষা উপবৃত্তি কার্যক্রম বাস্তবায়নে নতুন নির্দেশিকা প্রকাশ করেছে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর। বৃহস্পতিবার অধিদপ্তরের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত এ নির্দেশিকায় উপবৃত্তির আওতা, অর্থের পরিমাণ এবং প্রাপ্তির শর্তাবলি বিস্তারিত তুলে ধরা হয়েছে।

নির্দেশিকা অনুযায়ী, সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, পিটিআই সংলগ্ন পরীক্ষণ বিদ্যালয় এবং শিশু কল্যাণ ট্রাস্ট পরিচালিত প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা এই উপবৃত্তি কর্মসূচির আওতায় আসবে। উপবৃত্তির অর্থ শিক্ষার্থীদের শিক্ষা উপকরণ, স্কুল ব্যাগ, ছাতা, পোশাক, জুতা ও টিফিন বক্স কেনার মতো প্রয়োজনীয় খাতে ব্যয় করা যাবে। এ কর্মসূচি সরকারের জাতীয় সামাজিক নিরাপত্তা কৌশলের আওতায় পরিচালিত হবে।

নতুন নির্দেশিকা অনুযায়ী প্রাক্ প্রাথমিক শ্রেণির শিক্ষার্থীরা মাসে ৭৫ টাকা করে উপবৃত্তি পাবে। প্রথম থেকে পঞ্চম শ্রেণিতে একটি পরিবারের একজন শিক্ষার্থী অধ্যয়ন করলে মাসিক ১৫০ টাকা এবং একই পরিবারের দুইজন শিক্ষার্থী থাকলে মাসিক ৩০০ টাকা করে উপবৃত্তি দেওয়া হবে।

এছাড়া যেসব সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ষষ্ঠ থেকে অষ্টম শ্রেণি চালু রয়েছে, সেখানে একটি পরিবারের একজন শিক্ষার্থী পড়াশোনা করলে মাসিক ২০০ টাকা এবং দুইজন শিক্ষার্থী থাকলে মাসিক ৪০০ টাকা করে উপবৃত্তি পাওয়া যাবে। তবে একটি পরিবারের সর্বোচ্চ দুইজন শিক্ষার্থী এই সুবিধা পাবে বলে নির্দেশিকায় উল্লেখ করা হয়েছে। প্রয়োজন অনুযায়ী সরকারের অনুমোদন সাপেক্ষে উপবৃত্তির পরিমাণ বাড়ানো বা কমানোর সুযোগও রাখা হয়েছে।

উপবৃত্তি পাওয়ার জন্য নির্দিষ্ট কিছু শর্ত মানতে হবে। প্রাক্ প্রাথমিক শ্রেণির শিক্ষার্থীদের ন্যূনতম বয়স চার বছর হতে হবে এবং প্রতি মাসে অন্তত ৮০ শতাংশ পাঠদিবসে উপস্থিত থাকতে হবে। প্রথম শ্রেণির ক্ষেত্রেও একই উপস্থিতির শর্ত প্রযোজ্য। দ্বিতীয় থেকে অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের জন্য উপস্থিতির পাশাপাশি আগের শ্রেণির বার্ষিক পরীক্ষায় প্রতিটি বিষয়ে ন্যূনতম ৪০ শতাংশ নম্বর পেতে হবে। তবে বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রে ন্যূনতম ৩৩ শতাংশ নম্বরের শর্ত প্রযোজ্য হবে।

এছাড়া শিক্ষার্থীদের অনলাইন জন্মনিবন্ধন সনদ থাকতে হবে এবং অভিভাবকের জাতীয় পরিচয়পত্র দিয়ে নিবন্ধিত একটি সক্রিয় মোবাইল আর্থিক সেবা অ্যাকাউন্ট থাকতে হবে, যেখানে উপবৃত্তির অর্থ পাঠানো হবে।

নির্দেশিকায় আরও বলা হয়েছে, কোনো শিক্ষার্থী ধারাবাহিকভাবে তিন মাস বিদ্যালয়ে অনুপস্থিত থাকলে তার উপবৃত্তি সাময়িকভাবে বন্ধ থাকবে। একইভাবে নির্ধারিত উপস্থিতির শর্ত পূরণ না করলে সংশ্লিষ্ট মাসে উপবৃত্তি দেওয়া হবে না। তবে পরবর্তীতে শর্ত পূরণ করলে আবার উপবৃত্তি প্রাপ্তির সুযোগ থাকবে।

প্রাকৃতিক দুর্যোগ বা বিশেষ পরিস্থিতিতে বিদ্যালয়ের পাঠদান বন্ধ থাকলে সংশ্লিষ্ট উপজেলা বা থানা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার অনুমোদনের ভিত্তিতে উপস্থিতির শর্ত শিথিল করে উপবৃত্তি দেওয়ার সুযোগ রাখা হয়েছে।

শিক্ষা সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এই উপবৃত্তি কর্মসূচি শিক্ষার্থীদের স্কুলমুখী করতে এবং প্রাথমিক শিক্ষায় ঝরে পড়া রোধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। পরিবারের আর্থিক সীমাবদ্ধতার মাঝেও শিশুদের শিক্ষা অব্যাহত রাখতে এই সহায়তা অনেকের জন্য নতুন সম্ভাবনার দরজা খুলে দিতে পারে।

শেয়ার করুন