5 September 2025, 6:30 PM
মাহফুজ কাউসার ছাদি : সিলেট পাসপোর্ট অফিসে এখন সুশৃঙ্খলভাবে ও দ্রুততার সাথে পাসপোর্ট প্রদান করা হচ্ছে। পাসপোর্ট সেবার মান আগের চেয়ে অনেক উন্নত ও ডিজিটালাইজড হয়েছে, যা সাধারণ মানুষের মধ্যে ব্যাপক সন্তুষ্টি তৈরি করেছে। কোনো প্রকার দালালের সহায়তা ছাড়াই অনলাইনে বা সরাসরি অফিসে গিয়ে সহজে ও সঠিক তথ্য প্রদানের মাধ্যমে পাসপোর্ট সংগ্রহ করা যাচ্ছে। এতে করে সাধারণ মানুষ স্বল্প খরচে ও কম সময়ে পাসপোর্ট করতে পারছেন।
পাসপোর্ট সেবা নিতে আসা একজন সাধারণ আবেদনকারী তার অভিজ্ঞতা বর্ণনা করতে গিয়ে বলেন, “এখন খুব সহজেই পাসপোর্ট করতে পারছি। কোনো প্রকার দালালের প্রয়োজন পড়ছে না। পাসপোর্ট অফিসাররা খুবই ভালো ব্যবহার করছেন। আমি মাত্র ১৭ দিনের মাথায় পাসপোর্ট পেয়ে গিয়েছি।” এই দ্রুত ও স্বচ্ছ সেবা প্রদানের পিছনে রয়েছে অফিসের ডিজিটাল রূপান্তর এবং কর্মকর্তাদের আন্তরিকতা।

সিলেট পাসপোর্ট অফিসের উপপরিচালক মো: সালাহ উদ্দিন জানান, গত জুলাই অভ্যুত্থানের পর থেকে পাসপোর্ট সেবার ক্ষেত্রে অভাবনীয় পরিবর্তন এসেছে। ভেরিফিকেশন সংক্রান্ত জটিলতা দূর হয়েছে, যার ফলে পাসপোর্ট তৈরির সময়সীমা কমে এসেছে। তিনি বলেন, “সাধারণত পাসপোর্ট তৈরি করতে ২১ দিনের মতো সময় লাগত, কিন্তু বর্তমানে আমরা ১৭ থেকে ১৮ দিনের মধ্যে পাসপোর্ট দিচ্ছি।”
নারী ও শিশুবান্ধব সেবা নিশ্চিত করতে অফিসে বিশেষ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। মহিলাদের জন্য আলাদা দুইটি রুম বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে, যেখানে তাদের ছবি তোলা ও পাসপোর্ট সেবা প্রদান করা হয়। তাছাড়া, মহিলাদের জন্য আলাদা প্রার্থনা কক্ষ ও ওয়াশরুমের ব্যবস্থা করা হয়েছে। শিশুদের জন্য ব্রেস্ট ফিডিং-এর সুবিধা রাখা হয়েছে, যা পাসপোর্ট করতে আসা মায়েদের জন্য একটি বড় সুবিধা বয়ে এনেছে।
অফিসের সেবার পরিমাণ ও গুণগত মান নিয়েও বিস্তারিত জানান সালাহ উদ্দিন। তিনি বলেন, “এখন আমরা প্রতিদিন গড়ে ৫০০টি পাসপোর্ট ইস্যু করছি। আমি আসার আগে ৪০০০ পাসপোর্ট পেন্ডিং অবস্থায় ছিল, সেগুলোর সমাধান করা হয়েছে।” প্রবাসীদের পাসপোর্ট সংক্রান্ত জটিলতা প্রসঙ্গে তিনি উল্লেখ করেন, “অধিকাংশ প্রবাসীর ক্ষেত্রে তথ্য ভুল বা ডকুমেন্টেশনের জটিলতা দেখা যায়। যদি তারা সঠিক তথ্য ও ডকুমেন্টসহ আবেদন করেন, তবে খুব সহজেই পাসপোর্ট পেতে পারেন।”
সালাহ উদ্দিন সাধারণ মানুষকে দালালের মাধ্যমে পাসপোর্ট না করে সরাসরি নিজেদের পাসপোর্ট নিজেদের করার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, “দালালদের মাধ্যমে পাসপোর্ট করালে আর্থিক ক্ষতি হওয়ার পাশাপাশি প্রতারিত হওয়ারও সম্ভাবনা থাকে। সঠিক তথ্য ও নথি সহযোগে নিজে আবেদন করলে কোন প্রকার ঝামেলা ছাড়াই পাসপোর্ট পাওয়া সম্ভব।”
সিলেট পাসপোর্ট অফিসের এই সাফল্য ও পরিবর্তন শুধুমাত্র একটি অফিসের সীমায় থাকেনি, বরং এটি জাতীয় পাসপোর্ট সেবার মান উন্নয়নের একটি রোল মডেল হয়ে উঠেছে। অন্যান্য আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিসগুলোর জন্যও এটি একটি অনুসরণীয় দৃষ্টান্ত।