৩০ এপ্রিল ২০২৫, ১০:৫৫ অপরাহ্ণ
বালাগঞ্জ প্রতিনিধি: সিলেটের বালাগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাসেবা নিতে আসা রোগীরা ফ্লোরে শুয়ে চিকিৎসা নিতে বাধ্য হচ্ছেন। ২ বছর আগে ৭ তলা ভবনের নির্মাণ কাজ শেষ হলেও প্রশাসনিক অনুমোদন না মেলায় ৩১ শয্যার পরিবর্তে ৫০ শয্যায় উন্নীত হাসপাতালটির সেবা আগের মতোই সীমিতভাবে চলছে।
চিকিৎসক, নার্স, প্রযুক্তিগত যন্ত্রপাতি, টেকনিশিয়ান, অফিস স্টাফ, ওয়ার্ডবয় ও পরিচ্ছন্নতাকর্মীর সংকটে ভুগছে হাসপাতালটি। মাত্র ৪ জন চিকিৎসক দিয়ে প্রায় ২ লাখ মানুষের স্বাস্থ্যসেবা চালানো হচ্ছে। প্রতিদিন রোগীর ভিড় থাকলেও পর্যাপ্ত ডাক্তার নেই, ফলে ৩ মাসের ট্রেনিংপ্রাপ্ত নার্সদের দিয়ে সেবা দেয়া হচ্ছে।
এমন পরিস্থিতিতে অনেক রোগী বাধ্য হয়ে পল্লী চিকিৎসকদের শরণাপন্ন হচ্ছেন, কিন্তু সেখানেও প্রতারণার শিকার হচ্ছেন। ভুল রোগনির্ণয় ও নিম্নমানের ওষুধ প্রদানের ফলে রোগ না সারে, বরং আর্থিক ক্ষতি ও স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়ছে।
হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, ২০২৩ সালে ৫০ শয্যার হাসপাতালের নির্মাণ কাজ শেষ হলেও অনুমোদন না থাকায় পুরানো ব্যবস্থায় চলছে সেবা। ১৪ জন ডাক্তারের পদ থাকলেও বর্তমানে মাত্র ৪ জন কর্মরত। উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. হেপি দাস প্রশাসনিক কাজে ব্যস্ত থাকায়, আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. মো. মামুন আহমেদ একাই জরুরি ও ভর্তি রোগীদের দেখভাল করছেন।
রোগীরা অভিযোগ করেন, “বড় বিল্ডিং থাকলেও ফ্লোরে পাতলা কাপড়ে শুয়ে চিকিৎসা নিতে হচ্ছে। ডাক্তার-নার্সের অভাবে ঠিকমতো সেবা পাওয়া যাচ্ছে না।” শ্বাসকষ্টে ভর্তি এক রোগী বলেন, “৭ তলা ভবন দিয়ে কী লাভ, যদি নিচে শুয়ে চিকিৎসা নিতে হয়?”
উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. হেপি দাস বলেন, “চিকিৎসক সংকটের কারণে চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে হচ্ছে। অনুমোদন না পেয়ে নতুন ভবনে স্থানান্তর করা যাচ্ছে না। ৩১ শয্যার বরাদ্দ অনুযায়ী ওষুধ ও খাবার বিতরণ করা হচ্ছে, বাড়তি সক্ষমতা নেই।”
স্থানীয়রা দ্রুত প্রশাসনিক অনুমোদন ও পর্যাপ্ত জনবল নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন।