7 May 2025, 10:11 PM
বালাগঞ্জ প্রতিনিধি: কুশিয়ারা নদীর ভাঙনে বালাগঞ্জ-খসরুপুর শেরপুর সড়কের একটি বড় অংশ দেবে গিয়ে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। উপজেলার পূর্ব পৈলনপুর ইউনিয়নের পৈলনপুর-ফাজিলপুর গ্রামের মধ্যবর্তী স্থানে প্রায় ৫০০ মিটার সড়ক ও ব্রিজ ভেঙে ৭-৮ ফুট নিচে দেবে গেছে। কিছু অংশ নদীগর্ভে তলিয়ে যাওয়ায় স্থানীয়দের দুর্ভোগ চরমে পৌঁছেছে।
গত বছরের বন্যা ও নদীভাঙনে সড়কটির বেশ কিছু অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল। পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) মেরামত করলেও স্থানীয়দের অভিযোগ, সঠিকভাবে কাজ না হওয়ায় মঙ্গলবার রাতে হঠাৎ সড়কটি দেবে যায়। উল্লেখ্য, দুই বছর আগে প্রায় ২০ কোটি টাকা ব্যয়ে এ সড়কটি নির্মাণ করা হয়েছিল। কিন্তু বারবার ভাঙনের শিকার হওয়ায় এলাকাবাসীর দুর্ভোগ বাড়ছে।
স্থানীয়রা জানান, সড়কের ফাটল আগে থেকেই ছিল, কিন্তু কর্তৃপক্ষের উদাসীনতায় পরিস্থিতি ভয়াবহ হয়েছে। তারা আশঙ্কা করছেন, দ্রুত স্থায়ী সমাধান না নিলে পুরো সড়কটি নদীতে বিলীন হয়ে যাবে।
বালাগঞ্জ উপজেলার সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান মাওলানা সৈয়দ আলী আসগর বলেন, “সড়ক নির্মাণকালে নদীর তীর থেকে দূরে রাখার দাবি উপেক্ষা করা হয়। এখন পুরো এলাকা যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন। ইউএনও, এলজিইডি ও পাউবোকে বিষয়টি জানানো হয়েছে।”
এদিকে, জরুরি মেরামত নিয়ে পাউবো ও এলজিইডির মধ্যে দায়িত্ব পালন নিয়ে দ্বন্দ্ব দেখা দিয়েছে। এলজিইডির উপ-সহকারী প্রকৌশলী প্রদীপ চন্দ্র দেবনাথ বলেন, “পাউবো আগে মেরামত করেছিল, তাদেরই কাজ করা উচিত।” অন্যদিকে, পাউবোর উপ-সহকারী প্রকৌশলী গোলাম বারী দাবি করেন, “নদীভাঙন রোধে আমাদের প্রকল্প চলছে, কিন্তু সড়ক মেরামত এলজিইডির দায়িত্ব।”
উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) সরকার মামুনুর রশিদ পরিদর্শন করে বলেন, “যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ায় জরুরি ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।”
এ অবস্থায়, স্থানীয়দের দাবি—দ্রুত সড়ক মেরামত ও বিকল্প রাস্তা তৈরি করা হোক, নাহলে পুরো সড়ক নদীগর্ভে তলিয়ে যাওয়ার শঙ্কা রয়েছে।