২৩ এপ্রিল ২০২৫, ১:৩৩ পূর্বাহ্ণ
আলোকিত সিলেট ডেস্ক: সিলেট মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় (সিমেবি) প্রতিষ্ঠার ৭ বছর পরও অগ্রগতির মুখ দেখেনি। এর পেছনে দায়ী করা হচ্ছে সাবেক ভাইস চ্যান্সেলর অধ্যাপক ডা. মোর্শেদ আহমেদ চৌধুরী ও সাবেক রেজিস্ট্রার মো. নঈমুল হক চৌধুরী নেতৃত্বাধীন একটি সিন্ডিকেটকে। দুর্নীতি, নিয়োগ বাণিজ্য ও আর্থিক অনিয়মের অভিযোগে তাদের বিরুদ্ধে দুদক ইতিমধ্যে মামলা দায়ের করেছে এবং ৫৮ জনের বিরুদ্ধে চার্জশীট পেশ করেছে।
সূত্রে জানা গেছে, ২০১৯ থেকে ২০২২ সাল পর্যন্ত সিন্ডিকেটের অনুমোদন ছাড়াই ২৩৯ জনকে অবৈধভাবে নিয়োগ দেওয়া হয়। ইউজিসি ও স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তদন্তে উঠে এসেছে, নিয়োগপ্রার্থীদের কাছ থেকে লাখ লাখ টাকা নিয়ে অনিয়মিতভাবে পদ বিক্রি করা হয়েছে। প্রশাসনিক কর্মকর্তা পদে ১৪ লাখ থেকে সেকশন অফিসার পদে ১৬ লাখ টাকা পর্যন্ত নেওয়া হতো বলে অভিযোগ রয়েছে।
সাবেক রেজিস্ট্রার নঈমুল হক চৌধুরী তার ঘনিষ্ঠ সহযোগী আশরাফুল ইসলাম হিমেল (সাবেক রাষ্ট্রপতি আব্দুল হামিদের ভাতিজা বলে দাবিদার) ও অফিস সহকারী এনি সরকারের মাধ্যমে নিয়োগ বাণিজ্য চালাতেন। হিমেল দুর্নীতির টাকায় গ্রামে দালান তৈরি, সিএনজি ব্যবসা ও সিলেটে জমি কিনেছেন বলে দুদকের তদন্তে প্রমাণ মিলেছে।
অধ্যাপক মোর্শেদ আহমেদ চৌধুরীর স্ত্রী জেবা ও শ্যালক শাহেদ গাজী আরেকটি সিন্ডিকেট চালাতেন বলে ইউজিসির প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। তারা প্রায় শতাধিক লোককে অ্যাডহক ভিত্তিতে নিয়োগ দিয়ে কোটি কোটি টাকা আত্মসাৎ করেছেন।
২০১৮ সালে প্রতিষ্ঠার পর থেকে বিশ্ববিদ্যালয়টির স্থায়ী ক্যাম্পাস নির্মাণ ও একাডেমিক কার্যক্রম শুরু হয়নি। কর্মকর্তারা বলছেন, “মোর্শেদ-নঈমুল সিন্ডিকেটের অবৈধ নিয়োগ ও আর্থিক অনিয়মই মূল বাধা। তাদের অপকর্মের ফল ভুগছে গোটা প্রতিষ্ঠান।”
দুদকের তদন্তে নঈমুল হক চৌধুরীর সিলেটের আরামবাগে জমি ক্রয় ও বিপুল অর্থপাচারের প্রমাণ মিলেছে। সম্প্রতি দুদক ৫৮ জনের বিরুদ্ধে আদালতে চার্জশীট দিয়েছে। তবে এ ঘটনায় সাবেক ভিসি ও রেজিস্ট্রারের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তাদের ফোন বন্ধ থাকায় প্রতিক্রিয়া নেওয়া সম্ভব হয়নি।
সিলেটবাসীর স্বপ্নের এই বিশ্ববিদ্যালয়টি আজ দুর্নীতির কুক্ষিগত। সংশ্লিষ্টরা দাবি করছেন, দ্রুত স্বচ্ছ তদন্ত করে দোষীদের কঠোর শাস্তি ও বিশ্ববিদ্যালয়ের সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করতে হবে।