বুধবার, ৩রা জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

১৮ সেপ্টেম্বর ২০২২, ১০:১০ পূর্বাহ্ণ

শিক্ষা দিবসে ছাত্র মৈত্রী সিলেট জেলার আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত

আপডেট টাইম : সেপ্টেম্বর ১৮, ২০২২ ১০:১০ পূর্বাহ্ণ



শেয়ার করুন

 

মহান শিক্ষা দিবস উপলক্ষে বাংলাদেশ ছাত্র মৈত্রী সিলেট জেলা কমিটি উদ্যোগে ১৭ সেপ্টেম্বর শনিবার বিকেলে নগরীর পৌর বিপনী পার্টির কার্যালয়ে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।
বাংলাদেশ ছাত্র মৈত্রী সিলেট জেলা সভাপতি মাসুদ রানা চৌধুরীর সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক সালেহ আহমেদের পরিচালনায় সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সদস্য ও সিলেট জেলা কমিটি সংগ্রামী সভাপতি কমরেড সিকান্দর আলী।
সভায় উপস্থিত ছিলেন ছাত্র মৈত্রী জেলা সহ সভাপতি স্বারতি উরাও, দপ্তর সম্পাদক বিজয় করিম, সদস্য রাহেনা আক্তার, রিপন উরাও, রিপা উরাও, ঊষা কর, রফিকুল ইসলাম প্রমূখ।
প্রধান অতিথি কমরেড সিকান্দর আলী তার বক্তব্যে শিক্ষার বাণিজ্যিকীকরণের বিরুদ্ধে ৬২ এর ছাত্র-গণআন্দোলনের চেতনায় গণমুখী বিজ্ঞানভিত্তিক শিক্ষাব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার দাবিতে আন্দোলন গড়ে তুলার আহবান জানান। তিনি আরো বলেন, প্রিয় শিক্ষার্থীরা, ঐতিহাসিক শিক্ষা দিবসের সংগ্রামী অভিনন্দন গ্রহণ করুন। ১৯৬২ সালের ১৭ সেপ্টেম্বর এ দেশের ছাত্র-গণআন্দোলনের এক চির স্মরণীয় দিন। মার্কিন সাম্রাজ্যবাদের দালাল তৎকালীন স্বৈরশাসক আইয়ুব খান সরকার ‘শরীফ কমিশন’ নামে এক শিক্ষানীতি প্রণয়ন করে। এ শিক্ষানীতির প্রস্তাবনায় বলা হয়, “শিক্ষা সম্পর্কে জনসাধারণের চিরাচরিত ধারণা অবশ্যই বদলাতে হবে। সস্তায় শিক্ষা লাভ করা যায় বলিয়া তাহাদের যে ভুল ধারণা রয়েছে, তা শীঘ্রই ত্যাগ করিতে হবে। যেমন দাম তেমন জিনিস এই অর্থনৈতিক সত্যকে অন্যান্য ব্যাপারে যেমন শিক্ষার ব্যাপারেও তেমনি এড়ানো দুষ্কর।” এ দেশের ছাত্রসমাজ সেদিন এই বৈষ্যম্যমূলক শিক্ষানীতির বিরুদ্ধে প্রতিরোধ আন্দোলন গড়ে তুলে। সামরিক শাসনের ছত্রছায়ায় প্রণীত এই শিক্ষানীতি সাধারণ ছাত্রদের শিক্ষাগ্রহণের সীমিত অধিকারের উপর আঘাত হানে। অপরদিকে খেটে খাওয়া মানুষের উপর চলছিল শোষণ-নিপীড়ন ও দমন-পীড়ন। যে কারণে শিক্ষা আন্দোলনের সাথে সাধারণ মানুষের দাবি দাওয়া এক হয়ে যায়। ক্রমেই এ আন্দোলন গণআন্দোলনে পরিণত হয়। আন্দোলনের ধারাবাহিকতায় ১৭ সেপ্টেম্বর সারাদেশে হরতাল আহ্বান করা হয় এবং এর সাথে একাত্মতা প্রকাশ করে পেশাজীবী, শ্রমিক, কৃষকসহ সর্বস্তরের মানুষ। ১৭ সেপ্টেম্বর সকাল সাড়ে নয়টায় বের হয় ছাত্র-জনতার বিরাট বিপ্লবী মিছিল। মিছিল যখন হাইকোর্ট পার হয়ে আবদুল গণি রোডে প্রবেশ করে তখন পুলিশ গুলিবর্ষণ আরম্ভ করল। রাস্তায় লুটিয়ে পড়ে বাবুল, মোস্তাফা ও ওয়াজিউল্লাহ। ছাত্র আন্দোলন অগ্রসর করে শিক্ষার অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য পরবর্তি বছর থেকে ১৭ সেপ্টেম্বর শিক্ষা দিবস হিসেবে পালিত হয়ে আসছে।
সভাপতির বক্তব্যে মাসুদ রানা চৌধুরী দেশব্যাপী মহান শিক্ষা দিবসকে যথাযথ তাৎপর্যের সহকারে উৎযাপনের জন্য বাংলাদেশ ছাত্র মৈত্রী সিলেট জেলার পক্ষ থেকে দেশের সকল ছাত্র-জনতার প্রতি আহ্বান জানান। বিজ্ঞপ্তি

শেয়ার করুন