২৩ জুন ২০২২, ৭:৫৫ অপরাহ্ণ
স্টাফ রিপোর্টার : সিলেট ও সুনামগঞ্জ জেলায় প্রলংয়কারী বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত বানভাসী মানুষদের ব্যাপক সহায়তা করছে ইসলামপন্থী রাজনৈতিক দলগুলো।দীর্ঘ এক যুগেরও অধিক সময় থেকে বাংলাদেশের রাজনীতিতে কোণঠাসা প্রভাবশালী ইসলামী দল বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ও তার অঙ্গ সংগঠনগুলো স্মরণকালের সর্বনাশা ভয়াবহ বন্যায় মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছে অকৃত্রিমভাবে।ত্রাণ ও উদ্ধার কার্যে ভয়াবহ এ দুর্যোগে শুরু থেকেই এখন পর্যন্ত তারা পানিবন্দী অসহায় মানুষের পাশে আছে। সিলেট মহানগর এলাকা, সিলেট সদর উপজেলা, গোয়াইনঘাট উপজেলা, জৈন্তাপুর উপজেলা, কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা ও সুনামগঞ্জ জেলার সুনামগঞ্জ শহর, ছাতক উপজেলা,দোয়ারাবাজার উপজেলা, দিরাই উপজেলা, শাল্লা উপজেলা, সিলেটের ফেঞ্চুগঞ্জ, গোলাপগঞ্জ, দক্ষিণ সুরমা, কানাইঘাট ও জকিগঞ্জ উপজেলা সহ প্রায় সর্বত্রই নানা দমন-পীড়নের শিকার এ দলের নেতা কর্মীরা সর্বাগ্রে ঝাঁপিয়ে পড়ে। জামায়াতের কেন্দ্রীয় আমীর ডা. শফিকুর রহমান ঢাকা থেকে ছুটে এসেছেন বন্যার্ত মানুষের খোঁজ নিতে। জাতীয় পর্যায়ের রাজনীতিবিদদের মধ্যে তিনিই প্রথম সিলেটে এসেছেন। তিনি পানি ঠেলে বানভাসীদের সম্মুখে সশরীরে উপস্থিত হয়ে বলেছেন, আমি ত্রাণ দিতে আসেনি। এসেছি ভাইদের বোনদের খোঁজ নিতে। সাথে যা আছে তা উপহার। সিলেট নগরীতে পদার্পণ করেই বন্যা পীড়িত জনগণের সামনে দাঁড়িয়ে বলেন,
“জানইন আফনারা আমরা মজলুম সংগঠন। আমরারে ঘরও বইতে দেয় না,বাইরে হাঁটতে দেয় না,আফনারার লগে মিশতে দেয়না,মানষর সুখ-দুঃখ বুঝার সুযোগ দেয় না, মারে-ধরে ফাঁসিত ঝুলায়,খুন খরে,গুম করে,গ্রেফতার করে।”
“কিন্তু আলহামদুলিল্লাহ,ইতা করিয়া ও আমরারে থামানি উমানি যাইতো নায়।ইনো কোনো ফুলিশ উলিশ মানতাম নায়”
“আমরা কাজ করি আল্লাহর লাগি,আমরা ভালোবাসা চাই আল্লাহ তায়ালার আর মানষর”
সিলেটী ভাষায় তাঁর এই কথাগুলো একদিকে যেমন সাহসী ও উদ্দীপনামুলক,অন্যদিকে মানবিক ও আবেদনময়ী।তাঁর বক্তব্যে উজ্জীবিত হয়ে দলের নেতা কর্মীরা দিন রাত বন্যার্ত মানুষের পাশে কাজ করে যাচ্ছেন। গোটা জনপদে দলের নেতাকর্মীরা প্রাণচাঞ্চল্য হয়ে অবিরত কাজ করছেন। বানভাসী মানুষের জন্য ডা. শফিকুর রহমান প্রথমে ৫০ লক্ষ টাকার অনুদান ঘোষণা করলেও সেটি এখন কয়েক কোটি ছাড়িয়ে গেছে বলে জানা গেছে।এছাড়া দলের ঢাকা মহানগর কমিটির নেতৃবৃন্দ কয়েক কোটি টাকার রিলিফ বিতরণ করছেন বলে জানা যায়। কেন্দ্রীয় সহকারী সেক্রেটারী এহসানুল মাহবুব জুবায়েরের নেতৃত্বে সিলেট ও সুনামগঞ্জ, মহানগর আমীর মো. ফখরুল ইসলামের নেতৃত্বে সিলেট মহানগর ও জৈন্তাপুর উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান আলহাজ্জ্ব মো. জয়নাল আবেদীনের নেতৃত্বে সিলেট জেলায় ত্রাণ, উদ্ধার ও পুনর্বাসনের কাজ চলছে।
জামায়াতে ইসলামীর মতো সমান্তরালে কাজ করছে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস ,জমিয়তে ইসলাম, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ ও তালামীযে ইসলামিয়া। সিলেট ও সুনামগঞ্জের লাখ লাখ মানুষের জীবনে চরম সংকট নিয়ে এসেছে ভয়াল এ বন্যা। বিধ্বস্ত হয়েছে জনজীবন। মানুষের ঘর-বাড়ী ডুবেছে, ক্ষেতের ফসল, গবাদিপশু, খামার ও সহায় সম্পদ নষ্ট হয়েছে। এ দুর্যোগে ও দুর্দিনে আশানুরূপ সাড়া মিলেনি ক্ষমতাসীন দল আওয়ামীলীগ ও বৃহৎ রাজনৈতিক দল বিএনপি’র। এমন মন্তব্যই ভুক্তভোগী মানুষের। ত্রাণ তৎপরতায় ও দুর্যোগ মোকাবেলায় অনেক পিছিয়ে বড় এ রাজনৈতিক দল দুটো। তবে আজ বিএনপি’র মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সিলেট শহর ও জৈন্তাপুরে ত্রাণ বিতরণ করেন। অপরদিকে বামপন্থী দলগুলো অনেক সক্রিয়ভাবেই কাজ করছে বানভাসীদের মাঝে। সিপিবি, বাসদ, ওয়ার্কার্সপার্টি সহ বামজোটের তৎপরতা চোখে পড়ার মতো। ছাত্র রাজনৈতিক সংগঠন গুলোর মধ্যে বাংলাদেশ ছাত্রলীগ,ছাত্রশিবির,ছাত্র ইউনিয়ন, ছাত্র জমিয়ত, সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্ট, ছাত্রমৈত্রী বন্যার্তদের পাশে দাঁড়িয়েছে। তবে ছাত্রলীগ ও ছাত্র শিবির বেশ তৎপর। এ দুটি ছাত্র সংগঠনের কেন্দ্রীয় সভাপতি সিলেটে ত্রাণকার্যে অংশ গ্রহণ করেছেন।
ভয়াল বন্যার এ দু:সময়ে সিলেটের জনগণের পাশে দাঁড়িয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। তাঁর নির্দেশনায় এ দুর্যোগ মোকাবেলায় প্রাণপণ কাজ করছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী,বিমানবাহিনী,বিজিবি ও বাংলাদেশ পুলিশ। তবে বন্যা ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় ত্রাণসামগ্রী ও খাবারের প্রচন্ড সংকট রয়েছে বলে জানা গেছে। সিলেট ও সুনামগঞ্জে মানবিক বিপর্যয় ঠেকাতে সরকার ও সংশ্লিষ্টদের এখনি যথাযথ পদক্ষেপ নিতে হবে বলে মনে করছেন সচেতন মহল।