২ জুন ২০২২, ১১:৫৫ অপরাহ্ণ
মোঃ সাজ উদ্দিন সাজু: সিলেটের কানাইঘাট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের অভ্যন্তরীণ পরিবেশ খুব শোচনীয়। অস্বাস্থ্যকর অবস্থায় বেহাল দশায় বিরাজমান সেবামূলক প্রতিষ্ঠানটি। যেখানে নিজেই অসুস্থ ও রুগ্ন সেখানে আগত সেবা প্রত্যাশীরা চিকিৎসা বঞ্চিত। স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের বেহাল দশা, দেখার কেউ নেই?
সরেজমিনে কানাইঘাট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ঘুরে দেখা যায়, পুরাতন ভবনের দ্বিতীয় তলা ও নতুন ভবনের নিচ তলায় বিভিন্ন চিকিৎকরা চিকিৎসা সেবা দিচ্ছেন। বর্তমানে কোভিড-১৯ এর জন্য সাধারণ নাগরিক ও বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের জন্য টিকা প্রদান করা হচ্ছে। পুরাতন ভবনের দ্বিতীয় তলার ওয়ার্ডগুলো ও যেখানে টিকা প্রদান করা হচ্ছে সেখানের পরিবেশ পরিস্থিতি নিয়ে দেখা দিয়েছে নানা প্রশ্ন? অস্বাস্থ্যকর নোংরা পরিবেশে চলছে স্বাস্থ্য সেবা কার্যক্রম।
জরুরী প্রয়োজনে রোগী কিংবা রোগীর স্বজনরা এমনকি টিকা গ্রহণ করতে আসা শিক্ষার্থীরা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ওয়াশ ব্লক যাওয়ার কোনো উপায় নেই। রোগীর স্বজনদের অনুরোধ উপজেলার একমাত্র স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটির এমন অবস্থাই বলে দিচ্ছে উপজেলা স্বাস্থ্যসেবার মান কি? কানাইঘাট স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স নিয়ে দীর্ঘ দিন হতে সেবা প্রত্যাশীরা ভোগান্তির স্বীকার হচ্ছেন। অপরদিকে ডাক্তারদের ভিজিট করতে সময়ে অসময়ে বিভিন্ন কোম্পানীর প্রতিনিধিরা লাইন দিয়ে দাঁড়িয়ে থাকার অভিযোগ এবং ভিডিও চিত্র তুলে ধরেন। বিষয়টি নিয়ে সচেতন মহলের দাবী যেখানে কানাইঘাট স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স পরিবেশ নোংরা, সেখানে রোগীর চিকিৎসা সেবা কি করে হবে?
রোগীদের স্বজন মুমিন রশিদ ও ইকবাল হোসেন বলেন, কানাইঘাট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের অভ্যন্তরীণ পরিবেশ নোংরা এবং হাসপাতালে ডিএনসির ব্যবস্থা নেই। কর্তব্যরত ডাক্তাররা রোগীকে পাশ্ববর্তী মা মনি ক্লিনিকে পাঠিয়ে দেন৷ আবার কিছুক্ষণ পরে ডাক্তাররা মা মনি ক্লিনিকে গিয়ে টাকার বিনিময়ে ডিএনসি করে থাকেন।
কানাইঘাট উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডাঃ হিতাংশু শেখর পাল বলেন, আমি বিষয়টি দেখছি। হাসপাতালের পুরাতন ভবনের দ্বিতীয় তলার ওয়ার্ডগুলো ও তার আশেপাশে নোংরা আবর্জনা রয়েছে। নতুন ভবন এখনও আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন হয়নি তবে আমরা জনস্বার্থে ঐ ভবনের নিচ তলায় টিকা কার্যক্রমের ব্যবস্থা করছি। কিন্তু একটি বিষয় হচ্ছে আমাদের মাত্র একজন পরিচ্ছন্নতা কর্মী। কর্মচারী সংকটের কারণে তার একার পক্ষে এতো কাজ করতে বিলম্ব হয়। আউটসোর্সিংয়ের মাধ্যমে কিছু কর্মচারী রয়েছে কিন্তু তাদেরও কোম্পানী ১১ মাস থেকে বেতন পরিশোধ করে নি। তারা বেতন ঠিকমতো না পাওয়ায় নিয়মিত কাজেও আসে না। তাদের বেতনের বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সাথে কথা বলছি। কিছু কর্মচারী লাগিয়ে হাসপাতালের অভ্যন্তরে পরিষ্কারের কাজ শুরু করেছি।
কানাইঘাট স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডাঃ সুবল চন্দ্র বর্মন বলেন, নতুন বিল্ডিংয়ের দ্বিতীয় তলার ওয়াশরুমে কিছুটা সমস্যা রয়েছে। শ্রমিক লাগিয়ে কাজ শুরু করেছি। আশাকরি এক সপ্তাহের মধ্যে সমস্যাটির সমাধান হয়ে যাবে। তবে কর্মচারী সংকটে আমরা খুব ভোগান্তিতে আছি।
কানাইঘাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সুমন্ত ব্যানার্জি বলেন, হাসপাতালের পরিবেশ নোংরা হওয়ার কথা না। বিষয়টি দুঃখজনক, যথাযথ কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুল মুমিন চৌধুরী বলেন, অনেকেই বিভিন্ন সময় আমাকে বিষয়টি জানান। তারপরও এই অবস্থা সত্যিই দুঃখজনক। ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে বলছি। তিনি আরও বলেন আপনারা নিয়মিত বিষয়গুলো আমাদের দৃষ্টি আর্কষণ করবেন। সাধারণ রোগীরা ভোগান্তির স্বীকার হলেও তারা কিছু বলতে চায় না।