বুধবার, ৩রা জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

২ মার্চ ২০২৬, ৪:২৭ অপরাহ্ণ

জাফলংয়ে শিশু শিক্ষার্থীদের মাঝে ওয়ার্ল্ড ভিশনের ছাতা বিতরণ

আপডেট টাইম : মার্চ ২, ২০২৬ ৪:২৭ অপরাহ্ণ



শেয়ার করুন

সিলেটের গোয়াইনঘাট উপজেলায় শিশু অধিকার সুরক্ষা ও সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে প্রচারণা কর্মসূচি এবং শিক্ষার্থীদের মাঝে ছাতা বিতরণ করা হয়েছে। শূন্য বাল্যবিবাহ, শূন্য শিশুশ্রম এবং শূন্য স্কুল বহির্ভূত শিশু এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে আয়োজনটি অনুষ্ঠিত হয়।

সোমবার ২ মার্চ সকালে উপজেলার পূর্ব জাফলং ইউনিয়নের গুচ্ছগ্রাম বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে এ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। ওয়ার্ল্ড ভিশন বাংলাদেশ, গোয়াইনঘাট এরিয়া প্রোগ্রামের উদ্যোগে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন গোয়াইনঘাটের উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রতন কুমার অধিকারী।

গোয়াইনঘাট এরিয়া প্রোগ্রাম ম্যানেজার শেলী তেরেজা কস্তার সভাপতিত্বে এবং প্রোগ্রাম অফিসার ঝলমল মারিয়ার সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন গোয়াইনঘাট প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক ও বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি মো. করিম মাহমুদ লিমন।

অনুষ্ঠানে বিদ্যালয়ের প্রায় সাড়ে চার শতাধিক নিবন্ধিত শিক্ষার্থীর মাঝে ছাতা বিতরণ করা হয়। আয়োজকরা জানান, তীব্র তাপদাহ ও ঝড়বৃষ্টির সময় শিশুদের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, যা শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে ইতিবাচক সাড়া ফেলেছে।

বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন গোয়াইনঘাট থানার এসআই ও পূর্ব জাফলং ইউনিয়নের বিট অফিসার আব্দুল হান্নান, পূর্ব জাফলং ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান আব্দুল মান্নান, অবসরপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মাহফুজুর রহমান এবং জাফলং ছাত্র সংসদের সদস্য সচিব শাকিব আহমেদ।

বক্তারা বলেন, শিশুদের সুস্থ ও নিরাপদ ভবিষ্যৎ গড়ে তুলতে বাল্যবিবাহ, শিশুশ্রম ও বিদ্যালয় ঝরে পড়া রোধে সম্মিলিত উদ্যোগ অপরিহার্য। এ ধরনের কার্যক্রম শিশুদের অধিকার সম্পর্কে সচেতনতা বাড়ানোর পাশাপাশি তাদের দৈনন্দিন জীবনে বাস্তব সহায়তা প্রদান করে।

অনুষ্ঠানের শুরুতে শিশুদের বেঁচে থাকা, শিক্ষা গ্রহণ, স্বাস্থ্যসেবা পাওয়া এবং খেলাধুলা ও বিনোদনের অধিকার নিয়ে সহজ ভাষায় আলোচনা করা হয়। পাশাপাশি শিশুদের প্রতি সহিংসতা, বাল্যবিবাহ ও শিশুশ্রমের ক্ষতিকর প্রভাব সম্পর্কে সচেতনতা সৃষ্টি করা হয়।

পরবর্তীতে স্বাস্থ্যবিধি বিষয়ক আলোচনায় ব্যক্তিগত পরিচ্ছন্নতা, নিয়মিত হাত ধোয়া, নখ কাটা, পরিষ্কার পোশাক পরিধান এবং নিরাপদ পানি পান করার গুরুত্ব তুলে ধরা হয়। বিশেষ করে বর্ষাকালে পানিবাহিত রোগ প্রতিরোধে পরিচ্ছন্নতার প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দেওয়া হয়।

আয়োজকরা জানান, ভবিষ্যতেও শিশু অধিকার সুরক্ষা ও শিক্ষা সহায়ক কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে। কারণ একটি শিশুর নিরাপদ শৈশবই একটি সমাজের শক্ত ভিত্তি। আজকের সচেতনতা ও যত্নই আগামীর আলোকিত প্রজন্ম গড়ে তুলতে পারে।

শেয়ার করুন