১৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১০:২১ পূর্বাহ্ণ
বাংলার লোকজ সংস্কৃতি ও গ্রামীণ ঐতিহ্যের ধারাবাহিকতায় সুনামগঞ্জের দিরাই উপজেলার তাড়ল ইউনিয়নের ধল গ্রামে আজ বুধবার অনুষ্ঠিত হচ্ছে ঐতিহ্যবাহী ধলের মেলা। কালনী নদীর তীরঘেঁষা এই আয়োজন ভাটির জনপদের মানুষের কাছে শুধু একটি মেলা নয়, বরং সংস্কৃতি ও শেকড়ের সঙ্গে গভীরভাবে যুক্ত এক প্রাণের উৎসব।
ফাল্গুন মাস এলেই ধলের মেলাকে ঘিরে বাড়তে থাকে মানুষের আগ্রহ। একুশে পদকপ্রাপ্ত বাউল সম্রাট শাহ আব্দুল করিম তাঁর গানে এই মেলার চিত্র অমর করে রেখেছেন। তাঁর গানের আহ্বানের মতোই প্রতিবছর দূরদূরান্ত থেকে মানুষ দলে দলে ছুটে আসেন কালনীর পাড়ে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মেলাকে কেন্দ্র করে আগের দিন থেকেই বিভিন্ন জেলা ও উপজেলার ব্যবসায়ীরা মেলা মাঠে দোকানপাট সাজিয়ে বসেছেন। আয়োজক ও স্থানীয়দের ধারণা, এবারও লক্ষাধিক মানুষের সমাগম হতে পারে।
মেলায় গ্রামীণ পণ্যের পাশাপাশি থাকছে লোকজ বিনোদনের নানা আয়োজন। যাত্রাপালা, বাউল গান ও সার্কাসসহ বিভিন্ন সাংস্কৃতিক পরিবেশনা দর্শনার্থীদের প্রধান আকর্ষণ হয়ে উঠবে।
ধলের মেলার বিশেষ পরিচিতি রয়েছে বেল ও কুইয়ার জন্য। পাশাপাশি দই-মুড়ি, রসগোল্লাসহ নানা মুখরোচক খাবারের দোকানেও জমে ওঠে ভিড়।
শাহ আব্দুল করিম ধলের মেলাকে কেন্দ্র করে একটি গ্রন্থও রচনা করেছেন, যা এ উৎসবের ঐতিহাসিক গুরুত্বকে আরও উজ্জ্বল করেছে।
গ্রামবাংলার হারিয়ে যেতে বসা ঐতিহ্যকে ধারণ করে ধলের মেলা আজও টিকে আছে মানুষের ভালোবাসা ও সংস্কৃতির শক্তিতে। কালনী নদীর তীরে এই আয়োজন ভাটির জনপদের আবেগ ও আনন্দের মিলনমেলা হয়ে উঠেছে।